<?xml version='1.0' encoding='UTF-8'?><?xml-stylesheet href="http://www.blogger.com/styles/atom.css" type="text/css"?><feed xmlns='http://www.w3.org/2005/Atom' xmlns:openSearch='http://a9.com/-/spec/opensearchrss/1.0/' xmlns:georss='http://www.georss.org/georss' xmlns:gd='http://schemas.google.com/g/2005' xmlns:thr='http://purl.org/syndication/thread/1.0'><id>tag:blogger.com,1999:blog-5243345960059992699</id><updated>2012-01-21T23:54:39.564+06:00</updated><category term='জীবনী'/><category term='সচেতনতা'/><category term='নৃতত্ত্ব'/><category term='ইতিহাস'/><category term='বিজ্ঞানচিন্তা'/><category term='দর্শন'/><category term='শিক্ষা'/><category term='মহাকাশ'/><title type='text'>বিজ্ঞানবোধ</title><subtitle type='html'></subtitle><link rel='http://schemas.google.com/g/2005#feed' type='application/atom+xml' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/feeds/posts/default'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/5243345960059992699/posts/default?max-results=100'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/'/><link rel='hub' href='http://pubsubhubbub.appspot.com/'/><author><name>সুশান্ত বর্মন</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='31' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/_j1L4QAM2tRw/SOzw6uaJHHI/AAAAAAAAChM/5kHx3973jbs/S220/su.jpg'/></author><generator version='7.00' uri='http://www.blogger.com'>Blogger</generator><openSearch:totalResults>18</openSearch:totalResults><openSearch:startIndex>1</openSearch:startIndex><openSearch:itemsPerPage>100</openSearch:itemsPerPage><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-5243345960059992699.post-1926354572874902220</id><published>2009-08-31T20:38:00.002+07:00</published><updated>2009-08-31T20:45:52.315+07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='মহাকাশ'/><title type='text'>সেটি কি সফল হবে? - জীবনবাহী গ্রহের প্রাচুর্য</title><content type='html'>&lt;a onblur="try {parent.deselectBloggerImageGracefully();} catch(e) {}" href="http://2.bp.blogspot.com/_j1L4QAM2tRw/SpvS-upKO4I/AAAAAAAADis/05EL9eWLikg/s1600-h/Carl_Sagan.jpg"&gt;&lt;img style="margin: 0pt 0pt 10px 10px; float: right; cursor: pointer; width: 218px; height: 320px;" src="http://2.bp.blogspot.com/_j1L4QAM2tRw/SpvS-upKO4I/AAAAAAAADis/05EL9eWLikg/s320/Carl_Sagan.jpg" alt="" id="BLOGGER_PHOTO_ID_5376122555311209346" border="0" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;a href="http://bigyanbodh.blogspot.com/2009/08/blog-post.html"&gt;পূর্বের আলোচনার পর....&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;span style="font-weight: bold;"&gt;The Abundance of Life-Bearing Planets&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;By &lt;b&gt;Carl Sagan&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;জীবনবাহী গ্রহের প্রাচুর্য&lt;br /&gt;কার্ল সাগান&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;আমরা উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার ও উদ্ভাবনের এক যুগে বাস করি। নেবুলা নক্ষত্রমণ্ডলের মতো গ্যাসের চাকতি ও ধূলিকণা সূর্যসদৃশ নক্ষত্রগুলোর অর্ধেকের মধ্যেই রয়েছে। আমাদের গ্রহগুলি ৪.৬ বিলিয়ন বৎসর আগে গঠিত হয়েছে এই নেবুলা নক্ষত্রমণ্ডলে। বেতার তরঙ্গের এক নতুন, অপ্রত্যাশিত পদ্ধতিতে আমরা অন্ততঃ ২টি পৃথিবীর মতো গ্রহ খুঁজে পেয়েছি। ৫১ পেগাসি (Pegasi) তারকার পাশে এক বিরাটাকার গ্রহ স্পষ্টভাবে দেখাও গেছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নিকটবর্তী তারকারাজির পাশে যদি এই বিশালাকার গ্রহগুলি থেকে থাকে তাহলে ভূমিতে স্থাপিত এবং মহাকাশ সম্বন্ধীয় কিছু নতুন প্রযুক্তি যেমন অ্যাসট্রোমেট্রি (Astrometry), স্পেকট্রোফটোমেন্ট্রি (Spectrophotometry), রেডিয়াল ভেলোসিটি মেজারমেন্টস (Radial Velocity Measurements), এডাপটিভ অপটিকস (Adaptive optics) এবং ইন্টারফেরোমেট্রি (Interferometry)- এর সবগুলো গ্রহগুলিকে চিহ্নিত করতে পেরেছে বলেই মনে হয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রজেক্টগুলোর মধ্যে অন্ততঃ একটি প্রস্তাব (Frequency of Earth Sized Inner Planets) ভিন্নজগতের বিরাট গ্রহগুলিকে স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পেরেছে। যদি আমাদের প্রতি দেয়া সমর্থনকে হঠাৎ করে বন্ধ করে দেয়া না হয় তাহলে মিল্কিওয়ে ছায়াপথের অন্য নক্ষত্রের গ্রহগুলোকে পর্যবেক্ষণ করার একটি স্বর্ণযুগে আমরা প্রবেশ করতে যাচ্ছি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আপনি যদি আরেকটি পৃথিবীর মতো ভরযুক্ত গ্রহ খুঁজে পান, তাহলে এটা পৃথিবীর মতো জগত হবে এমনটা নাও হতে পারে। ধরুন শুক্রগ্রহ। কিন্তু আমরা এই বিষয়টা তদন্ত করতে পারি। আমরা সমুদ্রের জলের অবশিষ্টাংশের বর্ণিল স্বাক্ষর খুঁজতে পারি। গ্রহটির বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন ও ওজন খুঁজতে পারি। গ্রহের আদিম তাপীয় অস্থির পরিবেশে মিথেনের পরমাণু খুঁজতে পারি। আমরা  অক্সিজেনের পরমাণুও খুঁজবো কারণ তা জীবনেরই চিহ্ন। (আসলে এইসব পরীক্ষাগুলোর সবই গ্যালিলিও মহাকাশযানের দ্বারা পৃথিবীর উপরিভাগে ১৯৯০ এবং ১৯৯২ সালে করা হয়েছে এবং তা এখন বৃহস্পতি গ্রহ অভিমুখে ছুটে চলছে। [কার্ল সাগান, ১৯৯৩])&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নতুন তৈরি হওয়া সৌরজগতগুলোর পৃথিবীর মতো ভরের গ্রহদের সম্পর্কে সংখ্যা ও আয়তন বিষয়ে সংগৃহীত নতুন তথ্যের সাথে বিভিন্ন গ্রহের সাগরগুলোর দীর্ঘস্থায়িত্ব সম্পর্কে সাম্প্রতিক সময়ে পাওয়া তথ্যকে একত্রিত করে দেখা গেছে প্রত্যেক সূর্যের মতো নক্ষত্রের চারপাশে একের অধিক নীল জগত থাকতে পারে। সূর্যের চাইতে বেশি ঘনত্বের নক্ষত্রের সংখ্যা কিছুটা দুর্লভ। সূর্যের চাইতে কম ভরের নক্ষত্রের পৃথিবীর মতো গ্রহ থাকতে পারে বলে আশা করা যায়। কিন্তু জীবন থাকার মতো উষ্ণগ্রহগুলো হয়তো এমনভাবে আটকে আছে যে তাদের একটি দিক শুধু স্থানীয় সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;যাহোক, হয়তো বাতাস ওই ধরণের গ্রহের উষ্ণতাকে এক আবহমণ্ডল থেকে আরেক আবহমণ্ডলে বয়ে নিয়ে যায় এবং প্রাণীর সম্ভাব্য বাসস্থান তৈরিতে ওইসব গ্রহের অগ্রগতি খুবই সামান্য।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তা সত্ত্বেও নতুন পাওয়া প্রমাণগুলো এমন তথ্য দিয়েছে যে, ছায়াপথের বেশ কিছু গ্রহে ধারণার চাইতে বেশি পরিমাণ তরল জল বিলিয়ন বৎসর আগে থেকেই আছে। এর মধ্যে কোন কোনটি জীবনের জন্য বেশ উপযোগী। আমাদের মতো কার্বন ও জল রয়েছে এমন গ্রহগুলোর কোনটির বয়স পৃথিবীর চাইতে কম, কোনটির আবার বিলিয়ন বৎসর বেশি। আর হ্যাঁ, আমাদের ছায়াপথ এক বিরাট সংখ্যক হয়তো শত শত বিলিয়ন সংখ্যক গ্যালাক্সির মধ্যে মাত্র একটি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাসযোগ্য জগতে বিবর্তনের জন্য কি বুদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অ্যাপোলো মিশনের সংগৃহীত চাঁদে উল্কাপাতের পরিসংখ্যান থেকে আমরা জানি যে প্রায় ৪ বিলিয়ন বৎসর আগে পৃথিবীতে সারাক্ষণ মহাকাশ থেকে আসা ছোট-বড় বিভিন্ন রকমের পদার্থের আঘাতে নরকের মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। মুহুর্মুহু উল্কাপাত এতো ভয়ানক ছিল যে এর ফলে আবহাওয়া মণ্ডল ও সমুদ্র মহাকাশে বিলীন হয়ে যেতে পারতো। তারও আগে সমস্ত পৃথিবী ডিমের খোসার মতো পাতলা আবরণযুক্ত এক ম্যাগমার মহাসাগর ছিল। আর এটা পরিষ্কার যে সেই অবস্থায় জীবনের উদ্ভবের কোন পরিবেশই ছিল না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;হ্যাঁ, ঠিক তার পরপর, মেয়র যেমন বলেছেন- ৩.৮ বিলিয়ন বৎসর আগে কিছু প্রাথমিক জৈব পদার্থ তৈরি হয় (ফসিলগুলোর দেয়া প্রমাণ সাপেক্ষে)। অনুমান করা হয় যে, জীবনের সূচনা তার কিছু আগে থেকে শুরু হয়েছিল। এরপর অবস্থা অনুকূলে আসার সাথে সাথে  জীবন বিস্ময়করভাবে দ্রুত বিকশিত হচ্ছিল। আমি এই ঘটনাটা আগেও বলেছি (সাগান, ১৯৭৪)। জীবনের উৎস আসলে এমন একটি সম্ভাবনাময় অবস্থা, যা পরিবেশের আনুকূল্যের সাথে দ্রুত বিকশিত হয়েছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এখন আমি বুঝতে পেরেছি যে, এটা আপাতদৃষ্টিতে ন্যায়সঙ্গত বিতর্ক। আসলে সামান্য এক উদাহরণ থেকে অজ্ঞাত অসীম বিষয়ে ধারণা করার চাইতেও বেশি। কিন্তু আমরা উপাত্তের বাইরে কিছু বলতে পারি না, আমরা এই কাজটাই সবচেয়ে ভালোভাবে করতে পারি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বুদ্ধির বিবর্তনের ক্ষেত্রে কি একই ধরণের বিশ্লেষণ প্রয়োগ করা যায়?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ধরুন একটি গ্রহে জীবন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, পরিবেশ পরিবর্তিত হচ্ছে এবং অক্সিজেনসমৃদ্ধ আবহাওয়ামণ্ডল ২ বিলিয়ন বছর আগে থেকে তৈরি হচ্ছে। মেয়র যেমন বলেছেন, তেমন বহুবিচিত্ররূপে এই পরিবর্তন ঘটছে। আর মাত্র ৪ বিলিয়ন বৎসর একটি যান্ত্রিক সভ্যতার উত্থানের জন্য যথেষ্ঠ নয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের প্রথমদিকে (যেমন: G.G. Simpson-The Nonprevalence of Humanoids) লোকেরা এই যুক্তি দেখাতেন যে, ঠিক মানুষ অথবা মানুষের মতো কোন কিছু তৈরি হওয়ার জন্য বিশাল সংখ্যক প্রচেষ্টার প্রয়োজন। অন্য কোন গ্রহে এই ধরণের সম্ভাবনার পুনঃপুনঃ সংঘটনের সংখ্যাও শূন্য। এবং ফলে কোন মহাজাগতিক বুদ্ধিমত্তা থাকার সম্ভাবনাও শূন্য।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কিন্তু একথা আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাইযে, যখন আমরা মহাজাগতিক বুদ্ধিমত্তার কথা বলি, তখন স্টারট্রেকের মানুষ বা মানুষের মত কারও কথা বলিনা। আমরা মানুষের মত সমান ক্ষমতাসম্পন্ন প্রাণী যারা রেডিও টেলিস্কোপ বানাতে এবং পরিচালনা করতে পারে এমন কারো কথা বলি। তারা ভূমি অথবা সমুদ্র অথবা বাতাসে যে কোন জায়গায় বাস করতে পারে। তারা অভাবনীয় রাসায়নিক গড়ন, গঠন, আকার, জৈবিক বৈশিষ্ট্য যে কোন রকম হতে পারে।  আমরা এমন মনে করিনা যে মানুষের মত বিবর্তনের একই ধারাবাহিকতা তারা অতিক্রম করেছে। হয়তো বিবর্তনের পথ এত বেশি রয়েছে যার সংখ্যা আমরা ধারণাও করতে পারিনা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মেয়রের সাম্প্রতিক উপস্থাপনায় মানবসদৃশ প্রাণী না থাকার প্রসঙ্গের প্রতিধ্বনি রয়েছে। তবে আমার ধারণা আমাদের বিতর্কের মূল বিষয়টি সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য হবে। বিবর্তন কোন ভাগ্যনির্ভর বিষয় নয়, এটা উপযুক্ত সময়ে অনিবার্যভাবে ঘটে। ভবিষ্যতের কয়েক বিলিয়ন বৎসরে বুদ্ধিমান প্রাণী তৈরির জন্য কোন পরিকল্পনা এটা নয়। স্বল্পকালীন প্রভাবকের প্রেক্ষিতে এটা হঠাৎ করে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। আর এখনও সবকিছু সমান থাকা সত্ত্বেও বুদ্ধিহীন থাকার চাইতে বুদ্ধিমান হওয়াটা বেশি গ্রহণযোগ্য। আর বুদ্ধিবিকাশের যে গতিপথ তার চিহ্ন জীবাশ্মতেই রয়েছে। অন্য পৃথিবীর কোনটিতে বুদ্ধির প্রতি আগ্রহ উচ্চমাত্রায় রয়েছে, আর কোনটিতে হয়তো রয়েছে কম মাত্রায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমরা যদি কোন একটির উপাত্ত বিশ্লেষণ করি, যেমন আমাদের নিজেদের ক্ষেত্রে তাহলে দেখবো যে, সৌরজগত সৃষ্টির পর থেকে আজকে যান্ত্রিক সভ্যতার যুগ পর্যন্ত পৌঁছাতে প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন বৎসর লেগেছে। এ থেকে কি বোঝা যায়? আমরা অন্য পৃথিবীতে বদ্ধরূপে সভ্যতা বিকাশ হয়েছে এটা আশা করবো না। কেউ হয়তো বেশ দ্রুত যান্ত্রিক উন্নতি করেছে, কেউ হয়তো ধীরে, আর এটা সন্দেহ নেই যে কোনখানে হয়তো সভ্যতার বিকাশ একেবারে হয়নি। কিন্তু ছায়াপথ (Milky way) দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের তারা দিয়ে ভর্তি (এর অর্থ, যেগুলোতে ভারী পদার্থ রয়েছে)। এর অনেকগুলো ১০ বিলিয়ন বৎসরের পুরনো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দুটি বিষয় কল্পনা করা যাক, প্রথমটি হল যান্ত্রিক বুদ্ধির বিবর্তনের জন্য সম্ভাব্য সময়ধারা। এটা শুরু হয় খুব ধীরে, কিন্তু কয়েক বিলিয়ন বৎসরে এর অগ্রগতিকে চিহ্নিত করা যায়। ৫ বিলিয়ন বৎসরে এর অগ্রসরের পরিমাণ ৫০ ভাগ, আর ১০ বিলিয়ন বৎসরে হয়তো এই অগ্রসরতা ১০০ ভাগে পৌঁছাবে।&lt;br /&gt;দ্বিতীয় কল্পনাটি সূর্যের মতো তারাগুলিকে নিয়ে। এর মধ্যে কোন কোনটি একেবারে তরুণ। এগুলো এখন জন্মগ্রহণ করল। কিছু আছে যেগুলো সূর্যের মতো বয়সী, আর কিছু আছে, যেগুলো ১০ মিলিয়ন বৎসরের পুরনো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমরা যদি এই কল্পনা দুটিকে একসঙ্গে মেলাই, তাহলে দেখবো যে বিভিন্ন তারার গ্রহগুলিতে বিভিন্ন বয়সের যন্ত্রনির্ভর সভ্যতার দেখা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। শুধুমাত্র নতুনগুলোতে নয়। বরং পুরনো তারাগুলোতে এই সম্ভাবনা অনেক অনেক বেশি। খুব সম্ভব আমরা আমাদের চাইতে অগ্রসর সভ্যতার কাছ থেকে সাড়া পেতে যাচ্ছি। এই যন্ত্রকৌশলী সভ্যতাগুলোতে হয়তো কোটি কোটি প্রজাতি রয়েছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একসূত্রে গ্রথিত হয়ে যন্ত্রনির্ভর প্রজাতির উদ্ভব ঘটেছে এ ধরণের সাদৃশ্যহীন ঘটনার সংখ্যা আশাতীত। আর হয়তো নিজেদের অনন্য বুদ্ধিমত্তা নিয়ে গর্ব করে এধরণের প্রজাতি সারা মহাবিশ্বেই রয়েছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সেটির (SETI) জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির উন্নয়নের জন্য সভ্যতার প্রয়োজন রয়েছে কি?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এটা নিশ্চিতভাবেই কল্পনা করা যায় যে কবিদের সভ্যতা অথবা ব্রোঞ্জযুগের যোদ্ধারা কখনও হঠাত করেও জেমস ক্লার্ক, ম্যাক্সওয়েলের গণিত এবং বেতার যন্ত্রের দেখা পায়নি। প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে তারা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এই পৃথিবী অসংখ্য উল্কা ও ধুমকেতু দিয়ে পরিবেষ্টিত হয়ে আছে। এর কোন কোনটি এত বড় যে একটির আঘাতেই গ্রহের বড় রকমের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হল K-T ঘটনা (ক্রিটেসিয়াস যুগের শেষে সংঘটিত আর এর ফলেই জন্ম হয় টারসিয়ারি যুগের।) ৬৫ মিলিয়ন বৎসর আগের এই ঘটনার ফলে ডাইনোসর এবং পৃথিবীর বেশিরভাগ প্রজাতি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। আগামী শতাব্দীতে এই ধরণের একটি সভ্যতাবিনাশী সংঘর্ষের সম্ভাবনা রয়েছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পৃথিবীর নিকটবর্তী বস্তুসমূহকে চিহ্নিত ও অনুসরণ করার সঠিক অর্থ আমাদেরকে পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে। এই বস্তুগুলোকে বাধা দেয়া ও ধ্বংস করার কারণ সম্পর্কে বিশদ জানতে হবে। আমরা যদি তা করতে ব্যর্থ হই, তাহলে আমাদেরকে সবংশে ধ্বংস হয়ে যেতে হবে। সিন্ধু সভ্যতা, সুমেরীয় সভ্যতা, মিশরীয় সভ্যতা, গ্রিক ও অন্যান্য সভ্যতা খুব বেশিদিন টেকেনি ফলে তাদেরকে এ ধরণের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়নি। পার্থিব বা অপার্থিব যেকোন দীর্ঘমেয়াদী সভ্যতাকে এই বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতেই হবে। অন্য সৌরজদতকে তুলনামূলকভাবে কম বা বেশি গ্রহাণু বা ধুমকেতুর মুহুর্মুহু আঘাত সহ্য করতে হয়। কিন্তু প্রায় সব ক্ষেত্রেই বিপদের অস্তিত্ব একেবারে বাস্তব।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রেডিওটেলিমেট্রি অর্থাৎ মহাজাগতিক বস্তুগুলোকে পর্যবেক্ষণ করা এবং বিদ্যুৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ বিশ্লেষণ ও এই সম্পর্কিত প্রযুক্তিকে মহাকাশীয় হুমকির মুখোমুখি হতেই হবে। ফলে যে কোন দীর্ঘকাল টিকে থাকা সভ্যতাকে প্রাকৃতিক নির্বাচনের নিয়ম অনুযায়ী বাধ্যতামূলকভাবে সেটি'র (SETI) মতো প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটাতেই হবে। (এবং এর জন্য বেতার তরঙ্গকে 'দেখতে' পারে এরকম কোন প্রত্যঙ্গ বিকাশের প্রয়োজন নেই। পদার্থবিজ্ঞানই এর জন্য যথেষ্ঠ)।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;যখন থেকে গ্রহাণু ও ধূমকেতুগুলোর পরস্পরের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে তখন থেকেই গ্রহাণু ও ধূমকেতুর আঘাত অবিরাম সহ্য করতে হচ্ছে। ফলে প্রযুক্তির বিশ্রাম নেবার আর কোন অবকাশ নেই। অবশ্য ধুমকেতু ও উল্কাপিণ্ডের সাথে সংঘর্ষের সম্ভাবনার সামনে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে এমন শক্তি সেটির (SETI) খুব কম।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;(প্রসঙ্গক্রমে জানাই, এটা সত্যি যে সেটি'র (SETI) শক্তি খুব কম। আমাদের গ্যালাক্সির এক অল্প অংশে এটা পৌঁছাতে পেরেছে। যদি প্রয়োজনমতো শক্তিশালী ট্রান্সমিটার আমাদের থাকত, তাহলে দূরের গ্যালাক্সির রহস্য ভেদ করতে সেটি সক্ষম হতো। আমাদের ট্রান্সমিটারগুলো এত পুরনো ডিজাইনের যে সেগুলো যদি আর একটু শক্তিশালী হতো, শুধু এটুকুই আমরা আশা করতে পারি। Megachannel Extraterrestrial Assay [META] এর এটা একটা অন্যতম প্রচেষ্টা)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সেটি কি প্রকৃতিবিজ্ঞানীদের স্বপ্নবিলাস?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সেটি (SETI) সম্পর্কিত বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতিবিজ্ঞানীদের এবং এ বিষয়ে জীববিজ্ঞানীরাও ভালো জানেন বলে মেয়র বারবার উল্লেখ করেছেন। যখন থেকে প্রকৃতিবিজ্ঞান এর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত তখন থেকেই মহাকাশবিজ্ঞানী, পদার্থবিজ্ঞানী এবং ইঞ্জিনিয়াররাও সেটি'র (SETI) বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কিন্তু ১৯৮২ সালে যখন সেটি'র (SETI) বৈজ্ঞানিক মর্যাদা সম্পর্কে 'সাইন্স' পত্রিকায় প্রকাশিত আবেদনটি লিখলাম তখন অনেক নিবেদিতপ্রাণ জীববিজ্ঞানী ও জৈবরসায়নবিদদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে আমার কোন সমস্যা হয়নি। এঁদের মধ্যে ছিলেন ডেভিড বাল্টিমোর, মেলভিন কেলভিন, ফ্রান্সিস ক্রিক, ম্যানফ্রেড এইজেন, থমাস ইসনার, স্টিফেন জে গুল্ড, ম্যাথিউ মেসেলসন, লিনাস পনিং, ডেভিড রাউপ এবং ই.ও.উইলসন। প্রথমদিকে যখন আমি এই বিষয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা তৈরি করছিলাম, তখন আমার বিজ্ঞ পরামর্শদাতা এইচ.জি. মুলারের কাছ থেকে দৃঢ় সমর্থন পেয়েছিলাম। জীববিজ্ঞানী ও জেনেটিকসের উপর নোবেলজয়ী এই বিজ্ঞানীর সমর্থন আমাকে খুবই উৎসাহিত করেছিল। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক না করে আমার আবেদনটি যা প্রস্তাব করেছিল, তা হল- আমরা খুঁজছি-&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;"আমরা সর্বসম্মতিক্রমে দৃঢ়ভাবে একমত যে বহির্জাগতিক বুদ্ধিমত্তার উপস্থিতির পরীক্ষণ একটি পরীক্ষাধীন বিষয়। এই বিষয়ে কোন পূর্বতন আলোচনা এই পর্যবেক্ষণাধীন প্রচেষ্টার পরিবর্তে ব্যবহার বা উপস্থাপন করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।"&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;কার্ল সাগান:&lt;/b&gt; প্লানেটরি সোসাইটির একজন অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৯৬ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিজ্ঞান জগতে খুবই পরিচিত মুখ ছিলেন। তিনি সেটি'র (SETI) একজন প্রধান সমর্থক। সেটি'র সাফল্য নিয়ে তিনি অনেক লেখালেখি করেছেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;a href="http://www.planetary.org/explore/topics/search_for_life/seti/seti_debate.html"&gt;মূললেখা&lt;/a&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/5243345960059992699-1926354572874902220?l=bigyanbodh.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/feeds/1926354572874902220/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/2009/08/blog-post_31.html#comment-form' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/5243345960059992699/posts/default/1926354572874902220'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/5243345960059992699/posts/default/1926354572874902220'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/2009/08/blog-post_31.html' title='সেটি কি সফল হবে? - জীবনবাহী গ্রহের প্রাচুর্য'/><author><name>সুশান্ত বর্মন</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='31' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/_j1L4QAM2tRw/SOzw6uaJHHI/AAAAAAAAChM/5kHx3973jbs/S220/su.jpg'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://2.bp.blogspot.com/_j1L4QAM2tRw/SpvS-upKO4I/AAAAAAAADis/05EL9eWLikg/s72-c/Carl_Sagan.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-5243345960059992699.post-3362286653799668962</id><published>2009-08-30T01:37:00.000+07:00</published><updated>2009-08-31T21:26:16.471+07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='মহাকাশ'/><title type='text'>সেটি কি সফল হবে? মনে হয় না?</title><content type='html'>&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;Can SETI Succed?&lt;/b&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;সেটি কি সফল হবে?&lt;/b&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;অনুবাদ: সুশান্ত বর্মন&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;মনুষ্যত্বের সীমা ও সংজ্ঞা নিয়ে আমাদের কোন সংশয় ছিল না। কিন্তু বিজ্ঞানের অগ্রগতি আমাদের সে চিন্তায় পরিবর্তন এনেছে। প্রযুক্তি উন্নয়নের সাথে সাথে প্রযুক্তির নিয়মগুলোকে আমরা অনেকাংশে চিনতে পারছি। কিন্তু তাও যথেষ্ট নয়। কারণ ভিন্নগ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা আমাদের মনে নতুন আশার বীজ বপন করেছে। মহাজাগতিক সভ্যতা আছে কি নেই তার নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া আমাদের জন্য খুবই প্রয়োজন। মানুষের বোধগম্য হতে পারে এমন তথ্য খোঁজার ভার য়েছে SETI (SEARCH FOR EXTRA TERRESTRIAL INTELIGENT) মহাজাগতিক বুদ্ধিমত্তার অন্বেষণ প্রকারান্তরে আমাদের নিজেদেরকে খোঁজার একটি চেষ্টা। এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? আর কোথাও কি প্রাণের বিকাশ হয় নি। এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে সভ্যতা কি মানুষের নিজস্ব আবিষ্কার? সভ্যতা ও প্রযুক্তিতে আমাদের চেয়ে উন্নততর প্রাণী কি আর কোথাও নেই? লক্ষকোটি তারার মাঝে একটিতেও কি প্রাণীরা কোন সামাজিক কাঠামো গড়ে তোলেনি? এরকম বহুবিধ প্রশ্ন দ্বারা নিরন্তর তাড়না থেকে জন্ম হয়েছে সেটি'র।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১৯৫৯ সালের একটি গবেষণাপত্রে গসিপি কোকোনি (Giussepe Cocconi) এবং ফিলিপ মরিসন (Philip Morrison) সেটি'র কল্পনাকে প্রকাশ করেন। সেটি'র মূল দর্শন জন্ম হয় এই গবেষণাপত্র থেকে। সেখানে লেখা ছিল -"যথাযথ পরিবেশ ও বস্তজগতের নিয়মের প্রেক্ষিতে একটি সাধারণ প্রাকৃতিক ফলাফল হল জীবন। বস্তুজাগতিক পরিবর্তনের চলমানতা পৃথিবীতে যেমন নিজস্ব লয়ে চলছে ঠিক তেমন একইভাবে অন্য সব জায়গায় চলার কথা।" আমাদের নিজস্ব ছায়াপথে কোটি কোটি তারা রয়েছে। আমরা কোটি কোটি ছায়াপথের মাঝে মাত্র একটিতে বাস করি। সুতরাং এই মহাবিশ্বের প্রান্তরে প্রান্তরে জীবনের সম্ভাবনা মোটেই উড়িয়ে দেয়া যায় না। নিশ্চয় এমন অনেক স্বাভাবিক আবাসস্থল আছে যেখানে বিশাল জ্ঞাতিগোষ্ঠী নিয়ে জীবন্ত প্রাণীরা বাস করছে। এর মধ্যে কোন কোন আবাসস্থলে হয়তো বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ ঘটেছে। প্রযুক্তিকেও হয়তো তারা করায়ত্ব করেছে। যেহেতু তারা বুদ্ধিমান, সেহেতু তারা অন্য বুদ্ধিমান প্রাণীদের সাথে নিশ্চয় যোগাযোগ করতে আগ্রহী।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ ব্যবহার করে আন্ত:নাক্ষত্রিক যোগাযোগ তৈরি করা যায়। এই তরঙ্গের মাধ্যমে সমগ্র ছায়াপথে অতি সহজে তথ্য আদানপ্রদান করা সম্ভব। কোন কোন মহাজাগতিক সভ্যতা হয়তো বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় স্বাক্ষর দিয়ে নিজের পরিচিতি তুলে ধরতে চায়। আমাদের তা পড়তে পারা উচিত।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কিন্তু ভিনগ্রহবাসীর উপস্থিতির স্বপক্ষে আজ পর্যন্ত একটা নিখুঁত প্রমাণ আমরা সংগ্রহ করতে পারিনি। যারা মনে করেন এই মহাবিশ্বে প্রযুক্তিগত সভ্যতা একমাত্র মানুষের করায়ত্ব তারাও নিশ্চুপ থাকছেন না। ফলে ভিনগ্রহবাসীর উপস্থিতির স্বপক্ষের আশাবাদী এবং বিপক্ষের নিরাশাবাদী এই দুইরকম তত্ত্বাবলম্বীদের মধ্যে একটা তাত্ত্বিক বিতর্ক বেশ জমে উঠেছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমরা আজ ভিনগ্রহে প্রাণের উপস্থিতি সম্পর্কে একটি বিতর্ক পাঠ করব। এতে বিষয়টিকে দার্শনিক ও বৈজ্ঞানিক দুই দিক থেকেই বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রথমে আমরা জানব আর্নেস্ট মেয়র (Ernst Mayr) এর বক্তব্য। তিনি বিংশ শতকের সবচাইতে প্রসিদ্ধ বিবর্তনবাদী বিশেষজ্ঞ। তিনি হার্ভার্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক জীববিজ্ঞান জাদুঘরের কর্মকর্তা। তাঁর প্রধান বক্তব্য অনন্য মতবাদের উপর। মেয়র নির্দিষ্ট করে বলেন যে ঘটনার শুরু থেকেই বিভিন্ন রকমের অনন্যতা সেটি'র প্রধান সমস্যা। এর বিপরীতে প্লানেটরি সোসাইটি'র (Planetary Society) এবং কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় (Cornell University) এর মহাকাশ চর্চা কেন্দ্রের কার্ল সাগান বক্তব্য দিয়েছেন আশাবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে। কোন দৃষ্টিকোণ সহজপাচ্য তা জানতে হলে পড়তে থাকুন এবং নিজেই সিদ্ধান্ত নিন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;SETI (সেটি) কি সফল হবে? মনে হয় না?&lt;/b&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;আর্নেস্ট ময়র (Ernst Mayr)&lt;/div&gt;&lt;b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;মহাজাগতিক বুদ্ধিমত্তা খুঁজে পাবার সুযোগ কোথায়?&lt;/b&gt;&lt;a onblur="try {parent.deselectBloggerImageGracefully();} catch(e) {}" href="http://3.bp.blogspot.com/_j1L4QAM2tRw/SpvTgfhA40I/AAAAAAAADi0/85DYvvrFa1w/s1600-h/mayr.jpg"&gt;&lt;img style="margin: 0pt 0pt 10px 10px; float: right; cursor: pointer; width: 128px; height: 176px;" src="http://3.bp.blogspot.com/_j1L4QAM2tRw/SpvTgfhA40I/AAAAAAAADi0/85DYvvrFa1w/s320/mayr.jpg" alt="" id="BLOGGER_PHOTO_ID_5376123135366062914" border="0" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;এর উত্তর নিহিত আছে বেশিকিছু ধারাবাহিক সম্ভাবনার উপর। এই সমস্যাটি নিয়ে ১৯৯২ সালে প্রকাশিত একটি জার্নাল দেখেছিলাম। আমি এই লেখাটিকে ভিত্তি করে আমার বক্তব্য তুলে ধরব। এই লেখাটিতে যে সব বিষয় অন্বেষণ করা হয়েছে তা সত্যিই প্রণিধানযোগ্য। আমার চিন্তাপদ্ধতি বেশ কিছু ধারাবাহিক প্রশ্নের উপর দাঁড়িয়ে আছে। এই প্রশ্নগুলো SETI'র সফলতার সম্ভাবনাকে অনেকাংশে সীমিত করে দেয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;মহাবিশ্বের কোথাও প্রাণ থাকা কি সম্ভব?&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;SETI প্রজেক্টের সবচেয়ে সন্দেহবাদী ব্যক্তিও এই প্রশ্নের আশাব্যাঞ্জক উত্তর দেবেন। জীবন সৃষ্টির জন্য কোষের প্রয়োজন। সাথে দরকার এ্যামিনো এসিড এবং নিউক্লিয়িক এসিড। দুটো রাসায়নিক পদার্থ একাধিক মহাকাশীয় ধুলিকণাতে পাওয়া গেছে। অতএব এটা সহজেই প্রণিধানযোগ্য যে জীবন মহাবিশ্বের অন্যকোথাও রূপ লাভ করেছে।&lt;br /&gt;আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গী অনুযায়ী জীবনের উদ্ভব হয়েছে ক্ষুদ্রতম একক কোষ থেকে। যে কোনখানে স্বাধীনভাবে জীবন সৃষ্টির এটাই সবচাইতে সম্ভাব্য সমাধান। এ ধরণের স্বকীয় জীবন সৃষ্টির সম্ভাবনা পৃথিবীর চাইতে সম্পূর্ণ আলাদা রকমের বিরূপ আবহাওয়াতেও সম্ভব।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কোথায় জীবন খুঁজে পাওয়া যেতে পারে?&lt;br /&gt;হ্যাঁ, গ্রহগুলো তো অবশ্যই। আমাদের নিজের নয়টা গ্রহ সম্পর্কে তো বিস্তারিত জানি। সন্দেহ করার কোন অবকাশ নাই যে সব গ্যালাক্সিতে লক্ষ, লক্ষ, বিলিয়ন, বিলিয়ন গ্রহ আছে। আসলে আমরা নিজেদের গ্যালাক্সিকে শুধু কল্পনা করতে পারি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;কতগুলো গ্রহ জীবন উপযোগী বলে বিবেচিত হতে পারে?&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;কোন কোন গ্রহতে প্রাণের সূচনা ও লালিত হবার সুযোগ খুব কম। আবহাওয়া সহনশীল গড় তাপমাত্রার থাকতে হবে। ঋতুর পরিবর্তনের প্রভাব সহ্যসীমার মধ্যে থাকতে হবে। সূর্য থেকে নিরাপদ দূরে থাকতে হবে। গ্রহটার অবশ্যই পরিমাপমত ভর থাকতে হবে। তার পরিমান এমন হতে হবে যেন বায়ুমণ্ডল ধরে রাখতে পারে। নতুন প্রাণের উদ্বোধনকে স্বাগত জানানোর জন্য আবহাওয়ামণ্ডলে সঠিক পরিমাণে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের মিশ্রণ থাকতে হবে। নববিকশিত প্রাণকে মহাজাগতিক আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি ও অন্যান্য ক্ষতিকর বিকিরণ থেকে রক্ষা করার জন্য সঠিক ঘনত্বের হতে হবে। আর অবশ্যই এ ধরণের গ্রহে জল থাকতে হবে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সৌরজগতের নয়টা গ্রহের মধ্যে এই সব উপাদানের সঠিক সমন্বয় ঘটেছে মাত্র একটা গ্রহে। এটা আমি নিশ্চিত যে শুধুমাত্র হঠাৎ করে এমনটা ঘটে গেছে। অন্য সৌরজগতের কত ভাগ গ্রহের আবহাওয়া মণ্ডলে রাসায়নিক দ্রব্যের এমন সঠিক মিশ্রণ আছে। দশের মধ্যে এক, একশতর মধ্যে এক অথবা এক লক্ষের মধ্যে এক ভাগ, আপনারা কত ভাগ আশা করেন? একটি মাত্র উদাহরণকে সামনে রেখে সীমাহীন বিষয় নিয়ে মন্তব্য করা সত্যিই কঠিন। উপরে উল্লিখিত ভগ্নাংশগুলো গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মহাবিশ্বের খুব কম গ্রহ সেটি প্রজেক্টের নাগালে রয়েছে। বুদ্ধিমান প্রাণীর বিকাশ হয়েছে এমন গ্রহের শতকরা হার কত ধরা উচিত?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পদার্থবিজ্ঞানীরা সম্পূর্ণ বিষয় সম্পর্কে জীববিজ্ঞানীদের চাইতে ভিন্ন উত্তর দেবে। তারা প্রাণীবিজ্ঞানীদের চাইতে আরও নিখুঁতভাবে বর্ণনা দেবেন। তারা এটা বলে অভ্যস্ত যে, যদি কোন প্রাণের উদ্ভব ঘটে, তাহলে তা অবশ্যই বুদ্ধিজ্ঞানসম্পন্ন হয়ে উঠেছে। কিন্তু জীববিজ্ঞানীরা এ ধরণের অগ্রগতির অসম্ভাব্যতা নিয়ে বরং বিস্মিত।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পৃথিবীতে জীবনের সৃষ্টি হয়েচে ৩.৮ বিলিয়ন বৎসর আগে। কিন্ত ৫ লক্ষ বৎসরের আগে উচ্চবুদ্ধির বিকাশ ঘটেনি। যদি পৃথিবী ওই ৩.৮ বিলিয়ন বৎসর ধরে ঠাণ্ডা থাকত। কিংবা একটু বেশি গরম হত তাহলে বুদ্ধিমান প্রাণীর উদ্ভব কোনমতে সম্ভব হত না। এই প্রশ্নে উত্তর যখন খোঁজা হয়, তখন একটি বিষয় মনে রাখতে হবে। পদার্থের নিয়ম অনুযায়ী বা রাসায়নিক মিথস্ক্রিয়ার ফলাফল হিসেবে জীবন কখনও সোজাসুজি বুদ্ধিমত্তার দিকে এগিয়ে যায়নি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিবর্তনের পথ খুবই জটিল। একটি গাছে যত শাখাপ্রশাখার বিন্যাস আছে তার চাইতেও জটিল। জীবনের উদ্ভবের পরপর অর্থাৎ ৩.৮ বিলিয়ন বৎসর আগে জীবন ২ বিলিয়ন বৎসর ধরে শুধু গঠিত হচ্ছিল। শুধু একটা সাধারণ প্রাথমিক নিউক্লিয়াস ছাড়া কোষ তৈরি হতে এতগুলো বৎসর লেগেছিল। এই ব্যাকটেরিয়ার মত বস্তুগুলো ৫০ থেকে ১০০টি ভিন্ন রকম (হয়তো আরও বেশি রকম) পথে বিকশিত হয়েছিল। এই বিশাল সময়ে তাদের কেউ বুদ্ধিবৃত্তির অধিকারী হয়নি। বিস্ময়কর ব্যাপার হল এমন কি আজ পর্যন্ত এই ঘটনাকে আংশিকভাবে বর্ণনা করা হয়। ১,৮০০ মিলিয়ন বৎসর আগে সুগঠিত নিউক্লিয়াস এবং অন্যান্য উচ্চতর বৈশিষ্ট্যের প্রত্যঙ্গ নিয়ে প্রথম Eukaryote গঠিত হয়। protists ভর্তি ওই পৃথিবী থেকে তিন ধরণের বহুকোষী জীবনের বিকাশ ঘটেছিল। ফাংগাই, উদ্ভিদ এবং প্রাণী। কিন্তু লক্ষ প্রকার ফাংগাই বা উদ্ভিদ কোন বুদ্ধিমত্তার জন্ম দিতে পারেনি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রিক্যামব্রিয়ান এবং ক্যামব্রিয়ান যুগে প্রাণীরা (মেটাজোয়া) ৬০ থেকে ৮০টি ভাগে বিভক্ত হয়েছিল। এর ধ্যে শুধুমাত্র কর্ডাটা প্রাণীরা সত্যিকারের বুদ্ধির অধিকারী হয়েছে। কর্ডাটা হল সবচেয়ে পুরাতন এবং বৈচিত্র্যময় দল। কিন্তু এই বিরাট সংখ্যক দল-উপদলের মধ্যে শুধুমাত্র Vertebrates রা বুদ্ধি অর্জন করতে পেরেছে। মাছ, এম্ফিবিয়ান, সরীসৃপ, পাখি, স্তন্যপায়ী নানারকমের উপদল নিয়ে এই ভারটেব্রা দল গঠিত। এর মধ্যে শুধুমাত্র একটি প্রকার স্তন্যপায়ীরা উচ্চমাত্রার বুদ্ধির অধিকারী হয়েছে। ট্রায়াসিক যুগ থেকে শুরু করে স্তন্যপায়ীদের এক লম্বা ইতিহাস আছে। কিন্তু টারসিয়ারি যুগের শেষে অর্থাৎ ১৫ থেকে ২০ মিলিয়ন বৎসর আগে স্তন্যপায়ীদের ২৪ প্রজাতির মধ্যে মাত্র একটির মধ্যে বুদ্ধির উদ্ভব ঘটেছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রায় ৩ মিলিয়ন বৎসর আগে হোমিনিডদের মাথায় মগজের পরিমাণ বাড়তে থাকে। হোমো সেপিয়েন্সদের সুষুন্মাকাণ্ড (Cortex) তৈরি হয় ৩০০০০০০ বৎসর আগে। মিলিয়ন মিলিয়ন শাখা প্রশাখার বুদ্ধি অর্জনের ব্যর্থতা প্রমাণ করে যে উচ্চমাত্রার বুদ্ধির অধিকারী হওয়া সত্যিই কঠিন। জীবনের উদ্ভব থেকে আজ পর্যন্ত কতগুলো প্রজাতি টিকে আছে? আমাদের গ্যালাক্সিতে যতগুলো গ্রহ আছে তার সংখ্যার চেয়েও বেশি। যদি এর অন্তত মিলিয়ন প্রজাতি জীবিত থাকে আর প্রত্যেকের টিকে থাকার গড় সময় যদি ১০০০০০ বৎসর হয়, তাহলে তার সংখ্যা বিলিয়ন ছাড়িয়ে যায়। হয়তো জীবনের সূচনা থেকে ৫০ বিলিয়ন প্রজাতির চেয়েও বেশি প্রাণীর জন্ম হয়েছিল। সভ্যতা গড়তে পারার মত বুদ্ধি এদের মধ্যে মাত্র একটি প্রজাতি অর্জন করতে পেরেছে। আসলে প্রাণীদের মধ্যে এত বেশি বিচিত্রতা ছিল যে সঠিক হিসাব বের করা খুব কঠিন। এক বিশাল সংখ্যক প্রজাতির জন্ম ও বিকাশ হয়েছি। প্যালেন্টলজিস্টরা দেখেছেন বেশি ছড়িয়ে পরা, জনবহুল প্রজাতিগুলো লক্ষ লক্ষ বৎসর বেঁচে ছিল। এর সবগুলো আসলে অনন্য ঘটনা নয় বরং অস্বাভাবিক ঘটনা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;উচ্চমাত্রার বুদ্ধি খুঁজে পাওয়া দুস্কর কেন?&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;সুনির্বাচিত অভিযোজনগুলো যেমন 'চোখ' স্বাধীনভাবে শক্তিশালী হয়েছে। উচ্চমাত্রার বুদ্ধি শুধু একবার তৈরি হয়েছে। শুধুমাত্র মানুষের ক্ষেত্রে এমন হয়েছে। এই অসাধারণ ঘটনার স্বপক্ষে আমি মাত্র দুইটা কারণ দেখতে পারছি। প্রথমত প্রাকৃতির নির্বাচন দ্বারা বুদ্ধিবৃত্তি সবসময় আনুকূল্য পায় না। অন্তত: আমরা যেমন আশা করি তেমন নাও ঘটতে পারে। আসলে অন্য সব ধরণের জীবিত প্রাণী তথা লক্ষ লক্ষ প্রজাতির উচ্চমাত্রার বুদ্ধি ছাড়াই ভাল আছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মানুষের প্রকার শিম্পাঞ্জীর প্রকার থেকে ৫ মিলিয়ন বৎসর আগে আলাদা হয়ে যায়। কিন্তু ৩০০০০০ বছরের আগে মানুষের মগজ বড় হয়নি। স্ট্যানলি'র (১৯৯২) মতে বুদ্ধির বিকাশের শেষ পর্যায়ে অসহায় বাচ্চাকে বহন করার জন্য মায়েদের হাতের তৈরি হওয়া প্রয়োজন ছিল। বেশি বুদ্ধির জন্য বড় মগজ প্রয়োজন। হোমিনিড প্রজাতিদের মগজ জীবন পরিক্রমার শেষ ৬ ভাগেরও কম সময়ে বিকশিত হয়েছে। এতে মনে হয় উন্নত মানের বুদ্ধি তৈরির জন্য কিছু অনুকূল উপাদানের এক বিরল মিশ্রণ এর প্রয়োজন (Mayr 1994)।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;সভ্যতা সৃষ্টির জন্য কি পরিমাণ বুদ্ধির প্রয়োজন?&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;আমরা জানি প্রাথমিক স্তরের কিছু বুদ্ধি ইতিমধ্যে পাখি (দাঁড়কাক, তোতা) এবং কিছু স্তন্যপায়ী (মাংশাসী, শুশুক, বানর) এবং এ ধরণের যারা আছে তাদের মধ্যে পাওয়া গেছে। কিন্তু এদের মধ্যে কেউ সভ্যতা তৈরি করার মত বুদ্ধি অর্জন করতে পারেনি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;সব সভ্যতাই কি মহাশূন্যে বেতার তরঙ্গ নিক্ষেপ করতে বা মহাশূন্য থেকে আসা তরঙ্গ গ্রহণ করতে সক্ষম?&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;এর সোজাসুজি উত্তর হল 'না'। গত ১০,০০০ বৎসরে পৃথিবীতে কমপক্ষে ২০টি সভ্যতা এসেছিল। ভারতীয়, সুমেরীয়সহ নিকট অতীতে প্রাচ্যসভ্যতাসমূহ, প্রাচীন মিশর, গ্রিক এবং সমস্ত ইউরোপীয় সভ্যতা থেকে শুরু করে মায়া, আজটেক, ইনকা এবং বিভিন্ন রকমের চৈনিক বা ভারতীয় সভ্যাতার কোনটি এতদূর অগ্রসর হতে পারেনি। এদের মধ্যে মাত্র একটি সভ্যতা প্রযুক্তিকে এতদূর এগিয়ে নিয়ে গেছে যে তারা মহাকাশে বেতার তরঙ্গ নিক্ষেপ করতে এবং মহাকাশ থেকে আসা বেতার তরঙ্গ গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছে।&lt;br /&gt;&lt;b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;ভিন্নগ্রহের প্রাণীদের ইন্দ্রিয় কি আমাদের পাঠানো তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ বুঝতে পারবে?&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;নিশ্চিতভাবে এর নাবোধক উত্তর দেয়া যায়। পৃথিবীতেও এমন কিছু শ্রেণী আছে যাদের শ্রবণশ্তি বেশ উঁচু মাত্রার কিংবা বিভিন্ন রাসায়নিক প্রভাবে তারা অতিদ্রুত সাড়া দেয় কিন্তু তারা কোন তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গের কোন প্রতিক্রিয়া দেখায় না। কোন উদ্ভিদ এমনকি কোন ছত্রাকও বৈদ্যুতিক তরঙ্গকে গ্রহণ করে না। যদি অন্য কোন গ্রহে কোন উচ্চশ্রেণীর প্রাণী থেকেও থাকে তাহলে তাদের জৈবিক অগ্রগতি আমাদের চাইতে খুব বেশি কিছু হবে না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;কোন সভ্যতা ঠিক কতদিনব্যাপী তরঙ্গ গ্রহণে সক্ষম হবে?&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;প্রত্যেক সভ্যতার জীবনকাল কম হয়। এ বিষয়টার উপর জোর দিয়ে একটি ছোট্ট গল্প বলি।&lt;br /&gt;ধরি, আমাদের গ্যালাক্সির বাইরে কোন গ্রহে সত্যিই কোন বুদ্ধিমান প্রাণী আছে। শত কোটি বৎসর আগে তাদের মহাকাশবিজ্ঞানীরা পৃথিবীকে আবিষ্কার করল। তারা বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার পর বলল যে, এই গ্রহটি প্রাণের বিকাশের জন্য সবদিক দিয়ে উপযুক্ত। এই ধারণা পরীক্ষা করার জন্য তারা শতকোটি বৎসর ধরে পৃথিবীতে বিভিন্ন সিগন্যাল পাঠাল। কিন্তু কোন উত্তর না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ১৮০০ সালে (আমাদের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী) তারা সিদ্ধান্ত নিল যে, আর মাত্র ১০০ বৎসর সিগন্যাল পাঠানো হবে। ১৯০০ সালের মধ্যে কোন উত্তর না পেয়ে তারা সিদ্ধান্ত নিল যে পৃথিবীতে কোন বুদ্ধিমান প্রাণী নেই। এভাবে ভাবলে দেখা যায় যে সত্যিই যদি মহাবিশ্বে হাজার হাজার সভ্যতা থেকেও থাকে তাহলেও তাদের সাথে সফল যোগাযোগের সম্ভাবনা খুব কম। আসলে "খোলা দুয়ারের স্থায়ীত্ব বড়ই ক্ষীণ"।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সকলেই জানেন যে সেটি'র বিস্তৃতিশক্তি ততোটা বেশি না। সেটি নিক্ষেপিত সিগন্যাল আমাদের নিজস্ব গ্যালাক্সির সীমানার মধ্যেই থাকে। কিন্তু সত্যি ঘটনা হল মহাবিশ্বে আরও অসংখ্য সংখ্যক সমান বৈশিষ্ট্যের গ্যালাক্সি আছে। সেটি প্রজেক্টের এ বিষয়ে যথেষ্ট সচেতনতা সত্ত্বেও এখনও এই গ্যালাক্সিগুলোর নিকটবর্তী হতে পারেনি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;উপসংহার&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;এই যুক্তি ও বিশ্লেষণ থেকে আমরা কি উপসংহার টানতে পারি? আলোচিত শর্তগুলোর আটটার মধ্যে ছয়টার বেশি পূরণ করা সেটি'র জন্য পুরোপুরি অসম্ভব। আর যদি এই শর্তগুলো ছয়টার কয়েকগুণ বেশি হয় তাহলে সেটি'র অসম্ভাব্যতা মহাবিশ্বের সীমার সমান হয়ে পড়বে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;তা সত্ত্বেও সেটি'কে এখনও প্রস্তাব করা হচ্ছে কেন?&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;কেউ যদি খোঁজ করে তাহলে দেখবে যে সেটি'র সাথে যারা জাড়িত তারা কেউ মহাকাশবিজ্ঞানী, কেউ পদার্থবিদ আবার কেউ বা প্রযুক্তিবিদ। সেটি'র সাফল্য যে কোন পদার্থবিদ্যার সূত্র বা প্রযুক্তির নিয়মের উপর নির্ভর করে না এ বিষয়ে তারা সচেতন নন। সেটি'র উদ্দেশ্য সম্পূর্ণভাবে জীববৈজ্ঞানিক এবং সামাজিক বিজ্ঞানের বিষয়। এ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে সেটি প্রজেক্টের যে কোন সম্ভাব্য সাফল্য বাস্তবের মুখ দেখবে না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;আর্নেস্ট মেয়রঃ&lt;/b&gt; শতকের অন্যতম প্রধান জীববিজ্ঞানী। তিনি প্রাণীবিজ্ঞানের Alexander Agassiz অধ্যাপক। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক। ৬৫০টি পেপার এবং ২০টি বই লিখেছেন। পাখিবিজ্ঞান এবং শ্রেণীবিন্যাস বিদ্যা বিশারদ হিসেবে তিনি সুপরিচিত। বিবর্তনবাদী জীববিজ্ঞানী হিসেবেও তিনি খ্যাতিমান। তিনি সাধারণত জনসংখ্যা ও জীববৈচিত্রের ভিত্তিতে প্রজাতির উন্নয়ন বিষয়ে লেখালেখি করেন। সম্প্রতি তিনি সেটি (SETI) বিষয়েও লেখালেখি শুরু করেছেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;a href="http://www.planetary.org/explore/topics/search_for_life/seti/seti_debate.html"&gt;মূললেখা&lt;/a&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/5243345960059992699-3362286653799668962?l=bigyanbodh.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/feeds/3362286653799668962/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/2009/08/blog-post.html#comment-form' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/5243345960059992699/posts/default/3362286653799668962'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/5243345960059992699/posts/default/3362286653799668962'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/2009/08/blog-post.html' title='সেটি কি সফল হবে? মনে হয় না?'/><author><name>সুশান্ত বর্মন</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='31' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/_j1L4QAM2tRw/SOzw6uaJHHI/AAAAAAAAChM/5kHx3973jbs/S220/su.jpg'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://3.bp.blogspot.com/_j1L4QAM2tRw/SpvTgfhA40I/AAAAAAAADi0/85DYvvrFa1w/s72-c/mayr.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-5243345960059992699.post-9038231693238202684</id><published>2009-05-13T01:27:00.000+06:00</published><updated>2009-08-31T01:31:43.229+07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='বিজ্ঞানচিন্তা'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='শিক্ষা'/><title type='text'>প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোন বিজ্ঞান শিখছে শিশুরা?</title><content type='html'>&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;নাহিদ নলেজ&lt;/b&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;প্রাথমিক শিক্ষা কী- এ সম্পর্কে বিস্তর কথাবার্তা আমাদের সকলের জানা। প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে নতুন কিছু বলা অযথা প্যাঁচাল পারার সমান । সেই প্রাথমিক শিক্ষাটুকুই যদি গলদপূর্ণ হয়, তাহলে আর কী কথা থাকে! যে দেশের অধিকাংশ মানুষ নিরক্ষর, যে দেশের অধিকাংশ শিশুই প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত হবার আগেই ঝরে পড়ে, সে দেশের পুরো চিন্তার জগৎ, জনগণের বৌদ্ধিক স্তর, তার রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির হালহকিকত কী হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়। আজকের শিশুই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ-সেই ভবিষৎ-ই বা কেমন হবে?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিজ্ঞানচেতনা, নবম বর্ষ, প্রথম-দ্বিতীয় সংখ্যা, জানুআরি-জুন ২০০৪এ প্রকাশিত ‘বিজ্ঞানের প্রচলিত পাঠ্যপুস্তক গুলো কি বিজ্ঞানমস্কতা সৃষ্টিতে সহায়ক ’ শিরোনামে মাহবুবুর রহমানের লেখা প্রবন্ধটিই খুব সম্ভব একমাত্র প্রবন্ধ যেটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানের পাঠ্য পুস্তক নিয়ে লেখা। হয়তো আরো লেখা থাকতে পারে, যা আমার পড়া হয়ে ওঠেনি । এদেশের যারা পন্ডিত মানুষ, তাদের কর্তব্য আমাদের মত যারা সরকারী- বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, তাদের জানাবোঝাকে বিকশিত করা, সর্বোপরি রাষ্ট্রের কর্তা ব্যক্তিদের বিজ্ঞানকে সঠিক ভাবে হাজির করার ব্যাপারে নীতি প্রণয়ণে রাজী করানো। আমাদের রাষ্ট্রের ঔপনিবেশিক চাকুরী বিধি অনুযায়ী নিচু কর্মচারীদের হাত-পা বাঁধা । অনেকেই জানলেও সঠিক কথাটি বলার লেখার সুযোগ নেই । ফলে একটি বে-সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে আমার সামান্য জানাবোঝা থেকে বাচ্চাদের পড়াতে গিয়ে শুধুমাত্র পঞ্চম শ্রেণীর বিজ্ঞানের বইয়ের যেসব ত্রুটি আমার চোখে পড়েছে, তার কয়েকটি মাত্র তুলে ধরার চেষ্টা করছি। যারা ভালো ভাবে কাজটা পারতেন তারা করেননি বলে স্বল্পজ্ঞান নিয়ে কাজটি করতে হচ্ছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিজ্ঞান কী? ‘বিজ্ঞান হচ্ছে বিশ্বজগৎ সম্পর্কে যুক্তিসমৃদ্ধ,পরীক্ষণ সম্ভব, ব্যক্তি- নিরপেক্ষ জ্ঞান।’ যুক্তিসমৃদ্ধ অর্থ হলো বিজ্ঞানের যুক্তি প্রয়োগের চারটি পদ্ধতির কোনো একটি ব্যবহার করা হয়েছে। পরীক্ষণ-সম্ভব অর্থ হলো বিজ্ঞানী নিজে যে পরীক্ষণ করেছেন অন্যরা তা যাচাই করতে পারবেন। পৃথিবীর যে কোন গবেষনাগারে সে পরীক্ষণের ফল একই হবে। ব্যক্তি-নিরপেক্ষ অর্থ হলো গবেষকের ধর্ম বা দার্শনিক মতের সাথে বৈজ্ঞানিক সূত্র বা বর্ণনা সম্পর্কহীন হবে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কোন বৈজ্ঞানিক আবিস্কারের পিছনে থাকে তিনটি বিষয়ঃ (১) সামাজিক শর্ত বা চাহিদা (২) আইডিওলজি ও (৩) প্রতিভা। এ সম্পর্কে মাহবুবুর রহমান বলেছেন, ‘বৈজ্ঞানিক আবিস্কারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হচ্ছে সামাজিক চাহিদা । কৃষি জমি ভাগ বাটোয়ারার প্রয়োজন থেকেই মিশরে জ্যামিতির উদ্ভব ঘটে। মিশরে আবাদ যোগ্য জমির তীব্র চাহিদা থেকেই এ অঞ্চলে জ্যামিতির উদ্ভব ঘটেছে। আধুনিক মিশরের ১০ শতাংশেরও কম ভূমি আবাদ যোগ্য এবং প্রাচীন মিশরে শুধু নীল নদে বন্যার পর জমিতে আবাদ করা যেতো , অন্য সময়ে নয়। যে বছর নদীতে বন্যা হত না, সে বছর নিষ্ফলা যেত।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জ্যামিতি শব্দের অর্থ জমি পরিমাপ (গ্রীক গেওমিয়েত্রিয়া) যা এ মতকেই সমর্থন করছে। ইউক্লিড ছিলেন বর্তমান মিশরের আলেজান্দ্রিয়ার অধিবাসী । ভূমি পরিমাপের প্রয়োজন থেকেই মিশরে ইউক্লিডের মতো জ্যামিতি বিশারদের আর্বির্ভাব ঘটেছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সাম্প্রতিক একটা উদাহরণ দেয়া যাক। বাংলাদেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ডঃ মুহাম্মদ ওয়াহিদউজ্জামান এবং তাঁর সহকারীরা আবিস্কার করেছেন; হেলেঞ্চা, দূর্বাঘাস, মালঞ্চ,ফার্ণ, প্রভৃতি উদ্ভিদ মাটি থেকে আর্সেনিক শুষে নেয়। আর্সেনিক দূষিত এলাকায় এরকম ঘটে। বাংলাদেশের মতো যেসব দেশ আর্সেনিক দূষণে আক্রান্ত এবং প্রতিকারের উপায় খুঁজছে সেসব দেশেই এ আবিস্কার ঘটা সম্ভব। অর্থাৎ সামাজিক শর্ত নির্ধারণ করে আবিষ্কারের প্রকৃতি। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে একই সামাজিক শর্ত বিদ্যমান থাকতে পারে। সেজন্য বিজ্ঞানের ইতিহাসে দেখা যায়,একই আবিষ্কার নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন একাধিক বিজ্ঞানী। র্চালস ডারউইন এবং রাসেল ওয়ালেস স্বতন্ত্রভাবে জৈব বিবর্তনের প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্বে উপনীত হয়েছেন। লাইবনিৎস ও নিউটন স্বতন্ত্রভাবে ক্যালকুলাস আবিস্কার করেছেন। সামাজিক শর্ত অনুপস্থিত থাকার কারণেই আর্কিমিডিস ক্যালকুলাসের জনক হতে পারেন নি। ক্যাথোড রশ্মির ধর্ম নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে রান্টজেনের মতো অন্য বিজ্ঞানীও এক্স-রে আবিস্কার করে বসেছেন। অনেক সময় তাঁরা বুঝতে পারেন নি কেন ফটোগ্রাফিক প্লেট নিজে নিজে এক্সপোজড হয়ে গেল (যেমন; স্যার উইলিয়াম ক্রক্স)। জার্মান পদার্থ বিজ্ঞানী ফিলিপ লেনার্ড স্বতন্ত্রভাবে এক্স-রে আবিস্কার করেন এবং রান্টজেনের বিরুদ্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ নিয়ে আসেন। হিটলারের সময় পদার্থ বিজ্ঞানের বই-এ এক্স-র এর পরিবর্তে লেনার্ড -রে লেখা হতো। ইউক্রেনের পদার্থ বিজ্ঞানী আইভান পাওলোভিচ পুলুজ রান্টজেনের ৬ বছর আগে ১৮৮৯ সালে লক্ষ্য করেন ক্যাথোড রে-এর পাশে ফটোগ্রাফিক প্লেট রাখা হলে তা নিজে নিজে এক্সপোজড হয়ে যায়। কিন্তু এ পর্যবেক্ষণকে ব্যাখ্যা করে এক্স-রে বা নতুন কোনো রশ্মি আবিস্কার তিনি করতে পারেন নি। আসলে সঠিক আইডিওলজির অভাবে পুলুজ নুতন এ রশ্মি আবিস্কার তিনি করতে পারলেন না। একই কথা বলা যায় স্যার ইউলিয়াম ক্রুক্স-এর ক্ষেত্রে । ক্যাথোড রশ্মি বাতাসের মধ্যে চলতে পারে। কোন রশ্মি ফটোগ্রাফিক প্লেটকে এক্সপোজড করতে পারে, তারা সে চিন্তা করতে পারেন নি। কিন্তু রান্টজেন চিন্তা করেছিলেন নতুন কোন রশ্মি এ ঘটনা ঘটাচ্ছে যা বাতাসের মধ্য দিয়ে চলতে পারে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ক্রুক্স, পুলুজ এবং রান্টজেনের সামাজিক শর্ত এক হলেও আইডিওলজির ক্ষেত্রে পার্থক্য ছিল। আইওলজি হচ্ছে বৈজ্ঞানিক মতবাদ বা ধারণা যার উপর ভিত্তি করে বিজ্ঞানী কাজ করেন। যখন কোন মতবাদ সমগ্র বৈজ্ঞানিক সমাজের কাজের ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়, তখন তাকে বলে প্যারাডাইম। টলেমির পৃথিবী-কেন্দ্রিক সৌরজগতের মডেল একটি মতবাদ। বিজ্ঞানের প্রাচীন এবং মধ্যযুগের বেশিরভাগ সময় জুড়ে তা ছিল প্যারাডাইম। সঠিক আইডিওলজি ছাড়া কোনো বৈজ্ঞানিক আবিস্কার সম্ভব নয়। ক্যাথোড রশ্মির ধর্ম নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে জে.জে. টমসন ইলেক্ট্রন আবিস্কার করেন। কিন্তু রান্টজেনের পক্ষে কোনদিন ইলেকট্রন বা প্রোটন আবিস্কার করা সম্ভব ছিল না। কারণ রান্টজেনের প্যারাডাইম ছিল ডালটনের পরমাণুবাদ। ডালটনের পরমাণুবাদ অনুসারে পরমাণু অবিভাজ্য । রান্টজেনের পক্ষে পরমাণুর চেয়ে ক্ষুদ্র কণিকা কল্পনা করা সম্ভব ছিল না। ১৮৯৭ সালের ইংরেজ বিজ্ঞানী জে.জে. টমসন যখন ইলেক্ট্রন আবিস্কার করলেন, রান্টজেন ইলেক্ট্রনকে অস্বীকার করলেন। উর্জবুগ-এ তাঁর গবেষণাগারে ইলেক্ট্রন শব্দটি নিষিদ্ধ ছিল। রান্টজেনের সামনে তাঁর সহকারীরা ইলেক্ট্রন নিয়ে আলোচনা করতেন না। পরে রান্টজেন যখন মিউনিখে বদলী হলেন এ নিষেধাজ্ঞা সেখানে বলবৎ হলো।&lt;br /&gt;বৈজ্ঞানিক আবিস্কারের জন্য তৃতীয় পর্যায়ে মেধার প্রয়োজন । প্রথম দুটো শর্ত অনুপস্থিত থাকলে শত প্রতিভাবান বিজ্ঞানীর পক্ষেও আবিস্কার করা সম্ভব নয় । আসলে বিজ্ঞানের ইতিহাসে ব্যক্তির ভূমিকা গৌণ। কিন্তু জনপ্রিয় বিজ্ঞানের বইতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব আরোপ করা হয় প্রতিভার উপর । বেশি গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে মহামানব বা নায়কের জন্ম দেয়া হয়। এ দৃষ্টিভঙ্গিটি পুরোপুরি মধ্যযুগীয় বা সামন্ততান্ত্রিক । ব্যক্তিকে বেশি কৃতিত্ব দিতে গিয়ে অনেক সময় ইতিহাসবিচ্ছিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়। এ কথা ভুলে যাওয়া হয়, বিজ্ঞানের কোনো আবিস্কার ইতিহাসবিচ্ছিন্ন নয় ।’ বিজ্ঞান চেতনা পৃষ্ঠা ১৭-১৮, নবম বর্ষ ,প্রথম-দ্বিতীয় সংখ্যা, জানুয়ারি-জুন ২০০৪, ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমরা আমাদের আলোচনার জন্য শুধুমাত্র পঞ্চম শ্রেণীর‘ পরিবেশ পরিচিতি বিজ্ঞান’ বই থেকে এ রকম অজস্র উদাহরণ তুলে দিয়ে দেখানো সম্ভব কীভাবে সামাজিক শর্ত ও আইডিওলজির জায়গা বাদ দিয়ে বিজ্ঞান কে বিশ্বাস হিসাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক ২০০৬ শিক্ষা বছর থেকে পঞ্চম শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তক রূপে নির্ধারিত ‘পরিবেশ পরিচিতি বিজ্ঞান’ বইয়ে প্রথম অধ্যায়ে তৃতীয় পৃষ্ঠা থেকে পঞ্চম পৃষ্ঠায় ছক ২: উদ্ভিদের শ্রেণী বিন্যাসঃ অপুষ্পক ও সপুষ্পক ও ছক ৩: অপুস্পক উদ্ভিদের শ্রেণী বিন্যাসঃ শৈবাল,ছত্রাক, মশ ও ফার্ণ- এ বলা হয়েছে,‘ এরা খাদ্য তৈরী করে কি? আলো পছন্দ করে কি?’-এই বাক্যটি পড়লে যে কারো মনে হতে পারে এইসব উদ্ভিদের মধ্যে এক ধরনের সচেতনতার ব্যাপারে আছে। যেমন বলা হয় রহিম ভাত খায় কি, আলো পছন্দ করে কি ইত্যাদি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তৃতীয় অধ্যায় ‘প্রাণীজগৎ’ পৃষ্ঠা -২১ এ বলা হয়েছে, ‘পামরী পোকা, লেদাপোকা, বিছা পোকা, ক্ষুদে মাকড় ইত্যাদি ফসলের ক্ষতি করে। এরা ক্ষতিকর পতঙ্গ।’ এখানেও এই আগের সমস্যা। এইসব পতঙ্গ যেন মানুষের পূর্ব জন্মের শত্রু। তাছাড়া ক্ষতিকর পতঙ্গ উপকারী পতঙ্গ- এইসব শব্দ বিজ্ঞানের বইয়ের সঙ্গে যায় না। একই অধ্যায়ে ২৫ পৃষ্টায় বলা আছে, ‘স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে মানুষ সর্বাপেক্ষা উন্নত। মানুষ কথা বলতে পারে। মানুষের মস্তিস্ক বা মগজ অন্যসব প্রাণীদের চেয়ে বড় ও উন্নত। হাত মুঠো করে কোন কিছু আঁকড়ে ধরতে পারে। দু’পায়ে ভর করে দাঁড়াতে ও হাঁটতে পারে। মানুষ পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী। এ কারণে মানুষকে প্রাণী জগতের শ্রেষ্ঠ প্রাণী বলা হয়। ’-এই বাক্য কয়টি পড়ার পর মনেই হবে না , এগুলো বিজ্ঞানের বইয়ের ভাষা। মানুষ কেন কথা বলতে পারে, কেন মানুষের মস্তিষ্ক অন্য প্রাণীর চেয়ে বড় ও উন্নত হলো, তা বলা নেই। উপরন্তু হাত মুঠো করা ও দুপায়ে দাঁড়াতে হাটতে পারা পড়ে মনে হয় বোধহয় মানুষই একমাত্র প্রাণী যারা ওই কাজগুলো পারে। আবারও একই অধ্যায়ের ২৬ পৃষ্টায় প্রাণীর অভিযোজন অংশে বলা হয়েছে, ‘এ প্রাণীগুলো বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে এরূপ পরিবেশে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিয়েছে। ’-এ লাইনটি পড়ে কি মনে হয় না, যে প্রাণীগুলোর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী কারো নির্দেশে তাদের পরিবেশ অনুযায়ী ভাগ করে দেওয়া হয়েছে?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এবং পঞ্চম অধ্যায় ‘স্বাস্থ্যবিধি’ পৃষ্ঠা ৫৪ তে আছে, ‘এইচআইভি (HIV) ভাইরাস মানুষের দেহের রক্তে প্রবেশ করে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা ধ্বংস করে দেয়।’ এই রকম অজস্র উদাহরণ দেওয়া যাবে, যার মধ্য দিয়ে বোঝা যাবে-কীরকম উদ্দেশ্যবাদী বিজ্ঞান শিক্ষা আমাদের শিশুরা পাচ্ছে। এই উদ্দেশ্যবাদী বর্ণণা আমাদের শেখায় প্রাণীজগৎ অবচেতন ভাবে একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সাধনের জন্য কাজ করে। যে সমাজে, রাষ্ট্রে এরকম উদ্দেশ্যবাদী বিজ্ঞানচর্চা থাকে, অর্থাৎ আইডিওলজিক্যাল সংকট থাকে, সেখানে বিজ্ঞানের বিকাশ কতটুকু সম্ভব ?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিবর্তনের মতবাদের ইতিহাসে ডারউইন পূর্ববর্তী বিজ্ঞানীদের মধ্যে সুইডিশ বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস (১৭০৭-১৭৭৮) সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য । বিবর্তনের কোনো মতবাদ আবিস্কৃত হবার সামাজিক শর্ত সে সময় উপস্থিত ছিল। লিনিয়াস ছিলেন অসামান্য প্রতিভাবান । শুধু সঠিক আইডিওলজির অভাবে তিনি কোনো মতবাদ আবিস্কার করতে সক্ষম হন নি। বাইবেলে ছিল তাঁর প্রচন্ড আস্থা। তিনি কাজ করেছেন যেন এক ধর্মবিদের সাথে, যিনি বাইবেলে উল্লেখিত ভেষজ ও উদ্ভিদ নিয়ে একটি বই লিখেছেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ডারউইনের মতো তিনিও জীববৈজ্ঞানিক অভিযানে গিয়ে ছিলেন ল্যাপল্যান্ডে । সেখানে যোগাড় করেছেন বহু নমুনা, এঁকেছেন একরাশ ছবি ও সংগ্রহ করেছেন বহু তথ্য । তবুও তিনি পারেন নি। কারণ আইডিওলজিক্যাল ঘাটতি। আমরাও কি আমাদের সন্তানদের এই ঘাটতির মধ্যে রেখে দিতে চাই? এই ঘাটতির কারনেই আমাদের বিজ্ঞানের ছাত্ররাই মৌলবাদী রাজনিতিতে যুক্ত হয় বেশি। বিজ্ঞানী বের না হয়ে কেরানী হয়। এ বছর সারা দুনিয়ায় চার্লস ডারউইনের দ্বিশততম জন্ম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে উৎসবের সাথে অথচ আমাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ,স্কুলে, কোন অনুষ্ঠান হলোনা। আজ নারী নীতি নিয়ে যে এত কথা বার্তা,নারী পুরুষের সম্পর্কে যে ঘাটতি,তার মূলেও ওই আইডিওলজিক্যাল ঘাটতি,সমাজ ও উৎপাদন সম্পর্কের ক্রমবিকাশকে না বোঝা। তাই আসুন শুধু অসংগতি ধরিয়ে দেওয়াই নয়, আদর্শ বিজ্ঞানের পাঠ্য বই কেমন হবে, তার রূপরেখাও দাঁড় করাই । তাতে বাংলাদেশও অনেকখানি দাঁড়িয়ে যাবে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;লেখকঃ শিক্ষক, ক্ষুদে পন্ডিতের পাঠশালা,&lt;br /&gt;চিলমারী, কুড়িগ্রাম।&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/5243345960059992699-9038231693238202684?l=bigyanbodh.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/feeds/9038231693238202684/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/2009/05/blog-post.html#comment-form' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/5243345960059992699/posts/default/9038231693238202684'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/5243345960059992699/posts/default/9038231693238202684'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/2009/05/blog-post.html' title='প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোন বিজ্ঞান শিখছে শিশুরা?'/><author><name>সুশান্ত বর্মন</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='31' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/_j1L4QAM2tRw/SOzw6uaJHHI/AAAAAAAAChM/5kHx3973jbs/S220/su.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-5243345960059992699.post-1869538675257492410</id><published>2008-11-10T14:43:00.000+06:00</published><updated>2009-08-17T10:32:30.810+07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='দর্শন'/><title type='text'>ভাগ্য বা অদৃষ্টবাদ প্রসঙ্গে- ২য় অংশ</title><content type='html'>&lt;div style="text-align: center;"&gt;শিবাজি দে&lt;br /&gt;সহকারী অধ্যাপক&lt;br /&gt;আব্দুলপুর সরকারি কলেজ, নাটোর।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;a href="http://bigyanbodh.blogspot.com/2008/10/blog-post.html"&gt;পূর্ব প্রকাশের পর......&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মুসলিম ধর্মমতেও মানুষের ইচ্ছার স্বাধীনতার প্রশ্ন, প্রজ্ঞা ও প্রত্যাদেশের মধ্যকার দ্বন্দ্ব- এসব নিয়ে নানা মতের ফলে নানা সম্প্রদায়ের উদ্ভব দেখা যায়। বিশেষ করে অদৃষ্টবাদে বিশ্বাস নিয়ে, পক্ষে ও বিপক্ষে দুটো চেতনা নিয়ে মুসলিম ধর্মতত্ত্বে দুটো পরস্পরবিরোধী সম্প্রদায়ের উদ্ভব দেখা যায়। এরা হলো- জাবারিয়া ও কাদারিয়া সম্প্রদায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জাহস বিন সাফাওয়ান (মৃত্যু- ৭৪৫) এই সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা। আরবি জাবর শব্দ হতে জাবারিয়া শব্দের উদ্ভব। জাবর শব্দের অর্থ হচ্ছে বাধ্যতা, নিয়তি বা অদৃষ্ট। অদৃষ্টে বা আল্লাহর সর্বময় ইচ্ছায় বিশ্বাস করার জন্য এই সম্প্রদায় জাবারিয়া সম্প্রদায় নামে পরিচিত। তাদের মতে ভাল-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় সবকিছুই আল্লাহর সৃষ্টি। মানুষ তার হাতের ক্রীড়নক মাত্র। জাবারিয়া সম্প্রদায় আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও সর্বময় কর্তৃত্বের ক্ষমতার উপর অত্যাধিক গুরুত্ব আরোপ করেন। জাবারিয়াগণ সম্পূর্ণরূপে ইচ্ছার স্বাধীনতা অস্বীকার করেন। সব কাজ আল্লাহ্‌র নিকট হতে আসে। মানুষের কোন কার্য নির্বাচন করার ক্ষমতা বা শক্তি নাই। মানুষ আল্লাহর ইচ্ছার নিক সম্পূর্ণ অসহায়। জগতের প্রতিটি কার্য ও ঘটনা আল্লাহর নির্দেশে সংঘটিত হচ্ছে। মানুষের কোন ইচ্ছার স্বাধীনতা নেই। সে সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর সার্বভৌম শক্তির অধীন। মানুষের পুরস্কার ও শাস্তি আল্লাহর সার্বভৌম ক্ষমতার অন্তর্ভূক্ত। তিনি যাকে ইচ্ছা পুরস্কার দিবেন, যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেবেন। জাবারিয়া সম্প্রদায় তাদের মতবাদের সমর্থনে কোরআন থেকে কিছু আয়াতের উল্লেখ করেন। কয়েকটি আয়াত নিম্নে উল্লেখিত হলো-&lt;br /&gt;(১) "আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন, যাকে ইচ্ছা শাস্তি দিবেন, কারণ তিনিই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী।" (সুরা-২, আয়াত-২৮৪)&lt;br /&gt;(২) "তিনি যাকে ইচ্ছা সুপথে পরিচালনা করবেন।" (সুরা-২, আয়াত-২৭২)&lt;br /&gt;(৩) "তিনি প্রত্যেক জিনিস সৃষ্টি করেছেন এবং ভাগ্য নির্দেশ করে দিয়েছেন।" (সুরা-২৫, আয়াত ২২)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জাবারিয়া সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়াস্বরূপ কাদারিয়া সম্প্রদায়ের উদ্ভব হয়। কাদারিয়া সম্প্রদায়ের চিন্তাবিদগণ মানুষের কার্যক্ষমতা এবং ইচ্ছার স্বাধীনতায় বিশ্বাস করতেন। এদের মতে মানুষের কার্যক্ষমতা রয়েছে এবং তার সম্পাদিত কাজের জন্য সে নিজেই দায়ী। এরা অদৃষ্টবাদ সমর্থন করেন না; বরং বলেন মানুষ নিজেই তার কাজের কর্তা, নিয়ন্তা ও স্রষ্টা- মানুষ স্বেচ্ছায় ভাল বা মন্দ পথ অনুসরণ করে। মানুষের মধ্যে নীতিবোধ ও কর্তব্যবোধ রয়েছে, ফলে তার ইচ্ছার স্বাতন্ত্র্য ও কার্যের স্বাধীনতা রয়েছে। ভাল কাজ করলে সে পুরস্কার পাবে এবং মন্দ কাজ করলে শাস্তি পাবে। কাদারিয়া চিন্তাবিদগণ তাদের সমর্থনেও কোরআনের কিছু আয়াত নির্দেশ করেন। তার কয়েকটি আয়াত নিম্নে উল্লেখিত হলো-&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;(১) "যে ব্যক্তি পাপ করে, সে নিজ দায়িত্বেই তা করে। (সুরা-৪ , আয়াত- ১১১)&lt;br /&gt;(২) "যে জাতি নিজের ভাগ্য নিজে পরিবর্তন করে না, আল্লাহও সে জাতির ভাগ্য পরিবর্তন করেন না। (সুরা- ১৩, আয়াত- ১৯)&lt;br /&gt;(৩) "যে যেমন কাজ করবে সে অনুরূপ ফল পাবে।" "মানুষ চেষ্টার অতিরিক্ত ফল পাবে না।" "তোমাদের যে মুসিবত ঘটে তা তোমাদেরই কৃতকর্মের ফল।" (সুরা- ৪২, আয়াত- ৩০)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;খ্রিস্টান ধর্মমতেও আমরা নানাভাবে অদৃষ্টবাদের সমর্থন লক্ষ্য করি। যিশুর জন্মের পূর্বেই জগতের ত্রাতা যিশুর আগমনের সংবাদ অনেকের কাছে পৌঁছে যায়। ঈশ্বরই একমাত্র সর্বমঙ্গলময় সর্বশক্তিমান এবং সব কার্যের নিয়ন্ত্রক। পবিত্র বাইবেলে আছে "তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে দয়া করেন, এবং যাকে ইচ্ছা, তাকে কঠিন করেন।" ঈশ্বর তার ইচ্ছানুযায়ী মানুষকে পুরস্কার কিংবা শাক্তি দিবেন। যিশুর মাধ্যমে সত্যের পথে এলে মানুষ চির আনন্দের সূত্র খুঁজে পাবে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রচলিত ধর্মমতগুলির মধ্যে বৌদ্ধ এবং জৈব মতগুলোকে অদৃষ্টবাদী বলা যায় না। মূলতঃ এই মতগুলো মানুষকে তাদের সাধনা এবং কর্মের মাধ্যমে নির্বাণ বা মোক্ষলাভের কথা বলে। জৈন মতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো 'স্যাৎবাদ', যা খুবই আগহোদ্দীপক। এই স্যাৎবাদের কথা বলো, বস্তুসত্ত্বা বহুমূখী বলে আমাদের বস্তু সম্পর্কে প্রতিনি উক্তিই সম্ভাবনামূলক। প্রতিটি অবধারণ আপেক্ষিক ও বিশ্লেষণমূলক। বিশ্লেষণী দৃষ্টিতে প্রতিটি বিকল্প সম্ভাবনাকেই স্বীকারা করা যায়। চূড়ান্ত সত্য কি? এই প্রশ্নের কোন মীমাংসা নাই। বস্তুর প্রকৃতি ও গুণাগুণ সম্পর্কে হ্যাঁ কিংবা না-বোধক যত বাক্যই উদ্ভাবন করি না কেন- সবই শর্তসাপেক্ষ এবং আপেক্ষিক। দেশ-কাল, দ্রব্য-পর্যায়, আকৃতি-প্রকৃতি প্রভৃতি অনেক ধরণের শর্ত আছে। সমস্ত যুক্তিবাক্যই এসব শর্তের অধীন। মূলতঃ জৈন-দর্শনে জ্ঞান ও সত্যের আপেক্ষিকতা এবং সম্ভাব্যতার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এখানে অদৃষ্টবাদের মত কোন চূড়ান্ত সত্যের কথা বলা হয় না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বৌদ্ধ ধর্মকথার মূল সত্য চারটি। এগুলো হলো----&lt;br /&gt;(১) সকলই দুঃখময়।&lt;br /&gt;(২) দুঃখের কারণ আছে।&lt;br /&gt;(৩) দুঃখের নিরোধ সম্ভব।&lt;br /&gt;(৪) দুঃখ নিরোধের সুনির্দিষ্ট উপায় আছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বুদ্ধ তার প্রজ্ঞা দ্বারা দেখেছিলেন, নাম রূপ সর্বস্ব এই জীবন অনিত্য, ক্ষণভঙ্গুর, অনাত্ম এবং দুঃখময়। অজ্ঞানতাই এই দুঃখের মূল কারণ। অবিদ্যাবশত মানুষ তাঁর প্রাকৃতিক বাসনা এবং সংস্কারের প্রভাবে পড়ে নিরন্তর জন্ম-মৃত্যুর ভবচক্রে আবর্তিত হচ্ছে। প্রাকৃতিক বাসনা, কর্ম এবং সংস্কার কখনোই মানুষকে এই আবর্ত থেকে মুক্ত করে না। এই নৈরাশ্যবাদ থেকে মুক্তির উপায় নির্বাণলাভ। দুঃখ দৈন্য হতে সকল জীবের মুক্তির জন্য মৈত্রী ও করুণার দ্বারা একান্ত হৃদয়ে জীব সেবা করতে হবে। এভাবে দিব্য-অনুভব, অহিংসা কর্ম এবং নিষ্কাম কর্মের মাধ্যমে নাম-রূপ প্রবাহ নিরুদ্ধ হলেই নির্বাণ লাভ হয়। বুদ্ধমতেও মানুষকে স্বাধীন ইচ্ছার দ্বারা দুঃখ থেকে মুক্তির উপায় সমূহ চর্চা করে মুক্তিলাভের পথে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়। বুদ্ধমতে আশাবাদই গুরুত্ব পেয়েছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতি ও সেইসাথে নিরীশ্বরবাদী নানা মত বস্তুবাদী ও বহুত্ববাদী নানা দর্শনের প্রভাবে বর্তমানে সরাসরি অদৃষ্টবাদে সমর্থন (বিশেষভাবে বিজ্ঞান শিক্ষায় শিক্ষিতদের মধ্যে) কম দেখা যায়। বর্তমানে অনেকেই জ্যোতিষবিদ্যা বিশ্বাস করে না। তাছাড়া প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের আওতায় আসার যে শর্তাবলী তা না থাকায় জ্যোতিষবিদ্যা বিজ্ঞানের বাইরে প্রক্ষিপ্ত হয়। এসময়ে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে গ্রহণযোগ্য মতবাদ হিসেবে সম্ভাব্যতা অথবা আকস্মিকতার কথা মেনে নেয়া হয় পরিসংখ্যান বিদ্যার মাধ্যমে ঘটনাবলীর সাধারণ সূত্র নির্মাণে অনেকটাই সত্যের কাছাকাছি পৌঁছানো যায়। বিজ্ঞানের দিক দিয়েও আপেক্ষিক সত্যকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। আধুনিক দর্শনেও অনেক অজ্ঞেয়বাদী মতবাদ দেখা যায়। ডারউইনের বিবর্তনবাদে আকস্মিকতার কথাই বলা হয়েছে। ডারউইনের মতে, জটিল জীবকোষগুলোতে আকস্মিক ও স্বতঃস্ফুর্ত পরিবতন দেখা দেয়, যার জন্য জীবদেহেরও পরিবর্তন দেখা দেয়। জীবকোষের আকস্মিক পরিবর্তন বংশানুক্রমে সংক্রমিত হয়। এই পরিবর্তন দেহের অনুকুল হলে জীবন সংগ্রামে বেঁচে থাকা যায়, আর প্রতিকুলে হলে সে জাতি ধ্বংস হয়। জীবন সংগ্রামে জয়ীরা প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যবিধান করে বেঁচে থাকে। তারাই যোগ্যতম। এভাবেই প্রকৃতিতে প্রাণীকূলের বিবর্তন এগিয়ে চলেছে। আবার হেনরী বার্গসও অন্যভাবে আকস্মিকতার কথা বলেন। তাঁর মতে প্রাণ-প্রবাহ হলো একমাত্র সত্তা। প্রাণপ্রবাহ অখণ্ড, অবিভাজ্য এবং গতিশীল। এর কোন ছেদ নেই। চলাই হচ্ছে এর মূলমন্ত্র। গতিই হচ্ছে নিখিল বিশ্বের চিরন্তন সত্য। প্রাণপ্রবাহ তার চলার পথে কেবল সৃষ্টি করে যায়। এ সৃষ্টি অতীত বা ভবিষ্যৎ কারো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়। আবার মানবতাবাদীরা (প্রটোগোরাস থেকে মার্ক্স, রাসেল প্রমুখ) অন্যভাবে অদৃষ্টবাদকে পুরোপুরি অস্বীকার করেন। তাদের মতে মানবকল্পিত ঈশ্বরে সর্বজ্ঞতা, সর্বশক্তিময়তা এবং অনন্ত করুনা আরোপ করলে মানুষের উপর নানাভাবে ব্যাপক অন্যায়, অপচয় এবং দুঃখের ব্যাখ্যা দেয়া দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে, শুধু তাই নয় ইতিহাসে এবং সমকালে মানুষের প্রত্যক্ষ দুরবস্থার কারণ নির্ণয় করা সম্ভব নয়। কিন্তু প্রয়োজন মানুষের প্রত্যক্ষ দুরবস্থার কারণ নির্ণয় করা সম্ভব নয়। কিন্তু প্রয়োজন মানুষের কল্যাণে পরিবর্তন এবং তার দুঃখের কারণ নির্ণয় করে সেগুলোর অপসারণ। আধুনিক যুগে এসে প্রায় সবগুলো মতেই নিয়তিবাদ বা অদৃষ্টবাদের প্রভাব তাত্ত্বিকভাবে একেবারে নিঃশেষ হয়ে এসেছে। তবে মানুষ যে তার স্বাধীন ইচ্ছার দ্বারা সুনির্দিষ্ট ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ করতে পারে না, ভাগ্যের অধীনে না হলেএ - অন্যান্য প্রাকৃতিক শর্তাবলীর অধীনে, তা সব মতবাদই কোন না কোনভাবে মেনে নেয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ধর্মমতসমূহে, পুরাণগুলোতে কার্বে সাহিত্যে, অদৃষ্টবাদের নানা সমর্থন থাকলেও অতীতে অনেকে এর বিরোধীতা করেছে। আজকের যুগে তো কথাই নেই। ভারতীয় চার্বাকরা কিংবা গ্রীক বস্তুবাদীরা প্রাচীন যুগেই নিয়তিবাদের বিরোধীতা করেছে। মানুষ অদৃষ্টে বিশ্বাস করলেও তার মধ্যে এ বিষয়ে অনিশ্চয়তা আছে বলেই সে জীবন চালানোর জন্য বা বেঁচে থাকার জন্য কাজ করে। মানুষ তাদের নিজেদের এবং সমাজের উন্নয়নের জন্য খুব কঠিন বা কষ্টকর পদক্ষেপও নেয়। শুধু ভাগ্যের আশায় বসে থাকে না। সত্যিকারে মনস্তাত্ত্বিকভাবে ভাগ্যে বিশ্বাস কর্মত্যাগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়- যা থেকে দায়িত্বহীনতা দেখা দেয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমেরিকান সাহিত্যেক জেমস. এ. পাইক নিয়তিবাদের সমালোচনা করতে গিয়ে ধর্মীয় স্বর্গ-নরক ধারণার একটি সকৌতুক ব্যাখ্যা করেন। তাঁর মতে, &lt;blockquote&gt;সম্পূর্ণ পূণ্যের অবস্থা আরেকটি সম্পূর্ণ পাপের অবস্থা এই দুই সম্পূর্ণ অন্তহীন বিরোধী অবস্থার যে কোন একটি পরম স্তরেই ব্যক্তি থাকতে পারবে। এই সম্পূর্ণ পূণ্যের অবস্থাই হলো স্বর্গ। এই স্বর্গে যাওয়ার জন্য প্রার্থীদের যেসব গুণাবলী দেখাতে হয় তার একটি প্রধানগুণ হলো পরার্থপরতা বা নিঃস্বার্থ ভালবাসা। প্রশ্ন হলো একজন মৈত্রী করুণাভাবাপন্ন পরার্থপর মানুষ কিভাবে স্বর্গে বাস করতে পারে, যেখান থেকে ঈশ্বর স্থায়ীভাবে অন্যদের বাইরে রেখেছে। যাদের নিজেদের পরিবর্তন করার কোন সুযোগ নেই বা পরিতৃপ্তির কোন আশা নেই। তাই স্বর্গীয় সেসব মহান এবং মহৎ ব্যক্তিদের বিবেক কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে যা থেকে তারা মহান ঈশ্বরের সামনে প্রতিবাদ জানাতে পারে অথবা আরো বেশীকিছু, যেমন নরকবাসীদের সেখান থেকে উদ্ধারের জন্য উদ্ধার দল (Rescue party) তৈরি করতে পারে।&lt;/blockquote&gt; ---- এই সমালোচনাটি আক্ষরিক অর্থে না নিয়ে ভাবার্থ করলে দাঁড়ায় যে অদৃষ্টবাদ মেনে নিলে ঈশ্বর সর্বক্ষমতাময় হয়েও কাউকে পূণ্যের পথে, কাউকে পাপের পথে কেনই বা চালাবেন, কেনই বা তিনি শাস্তির মত অমানবিক কাজ করবেন, কেনই বা তা বিবেকবান মানুষ মেনে নেবে। এজন্যই অদৃষ্টবাদীরা ব্যক্তির যে কোন অবস্থাকেই ঈশ্বরপ্রদত্ত বলে মেনে নেয়ার কথা বলে এবং প্রতিরোধকে অনুৎসাহিত করে (ব্যতিক্রম আছে)।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রকৃতপক্ষে, যৌক্তিক বা বিচারবিশ্লেষণ ভিত্তিক আলোচনায় অদৃষ্টবাদ মেনে নেয়া যায় না। তারপরও প্রকৃতির এক ক্ষুদ্র অংশ হিসাবে মানুষ অসহায়। ব্যক্তি মানুষের নানা ক্ষুদ্রতা, ব্যর্থতা, সসীমতা, অন্যদিকে তার আশা, পূর্ণতাবোধ, অসীমতার ধারণা সব মিলিয়ে কোন না কোনভাবে ভাগ্য বা নিয়তির কথা কোন না কোন সময় বিশ্বাস করে ফেলে, বিশেষ করে জটিল বা সংকটজনক অবস্থায়। স্বামী বিবেকানন্দ তার 'মায়া' বিষয়ক আলোচনায় বলেছিলেন -&lt;blockquote&gt;"প্রত্যেক বালক জন্ম হইতেই আশাবাদী; সে সুখের স্বপ্নই দেখে। যৌবনে সে অধিকতর আশাবাদী হয়। মৃত্যু, পরাজয় বা অপমান বলিয়া কিছু আছে- কোন যুবকের পক্ষে ইহা বিশ্বাস করা কঠিন। বৃদ্ধাবস্থা আসিল- জীবন ধ্বংসরাশিতে পরিণত হইল, সুখস্বপ্ন আকাশে বিলীন হইল; বৃদ্ধ নৈরাশ্যবাদ অবলম্বন করিলেন। এইরূপে আমরা প্রকৃতি তাড়িত হইয়া আশাশূন্য ও উদ্দেশ্যহীনের মতো এক প্রান্ত হইতে অপর প্রান্তে ধাবিত হইতেছি।" &lt;/blockquote&gt;মানুষ সময়ে সাথে সাথে যখন ভীষণ প্রতিরোধের সামনে পড়ে, তখন কোন না কোনভাবে অদৃষ্টবাদী হয়ে পড়ে। তাছাড়া, আমাদের সামাজিক ও ঐতিহ্যগত সংস্কৃতির মধ্যে থেকে কিছুটা হলেও শিশুকাল থেকেই অধিকাংশের মনে অদৃষ্টবাদের বীজ বপন হয়ে যায়।  কজনেই আর বার্ট্রান্ড রাসেল বা হুমায়ূন আজাদের মতো নিরাপোষ যুক্তিবাদী থাকতে পারে জীবনের শেষ পর্বেও।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;হয়তো অদৃষ্টই আমাকে এ লেখা লেখাচ্ছে। আবার হয়তো স্বাধীন ইচ্ছা দ্বারা স্থির হয়েই লেখাটা লিখছি। যে যেভাবে ইচ্ছা বলতে পারে। তবে, ভাবনা যেভাবেই হোক; কল্যাণ কামনা নিয়ে আনন্দচিত্তে কর্ম করে যাওয়াটাই দরকার। ভাগ্যের ভরসায় ভাগ্যে বিশ্বাসীরাও বসে থাকে না। বরং ভাগ্যে বিশ্বাসের কথা বলে অন্যকে প্রতারিত করে নিজেদের আখের গুছিয়ে নেয়ার লোকের অভাব নেই। ভাগ্যে বিশ্বাস করে নিশ্চল হয়ে থাকার চেয়ে যতক্ষণ শক্তি আছে, বুদ্ধির সাহায্যে এগিয়ে চলাই শ্রেয়- তাতে ভাগ্যও হয়তো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সহায় হয়। তাই অদৃষ্টবাদ, মতবাদ হিসেবে শুধু পড়ে যাওয়াই ভালো- মনে বা কাজে একে স্থান দেয়া সমীচিন নয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;----##----&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/5243345960059992699-1869538675257492410?l=bigyanbodh.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/feeds/1869538675257492410/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/2008/11/blog-post.html#comment-form' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/5243345960059992699/posts/default/1869538675257492410'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/5243345960059992699/posts/default/1869538675257492410'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/2008/11/blog-post.html' title='ভাগ্য বা অদৃষ্টবাদ প্রসঙ্গে- ২য় অংশ'/><author><name>সুশান্ত বর্মন</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='31' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/_j1L4QAM2tRw/SOzw6uaJHHI/AAAAAAAAChM/5kHx3973jbs/S220/su.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-5243345960059992699.post-1259062728282201765</id><published>2008-10-15T14:55:00.000+06:00</published><updated>2009-08-17T10:32:30.801+07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='দর্শন'/><title type='text'>ভাগ্য বা অদৃষ্টবাদ প্রসঙ্গে- ১ম অংশ</title><content type='html'>&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;span style="font-weight: bold;"&gt;শিবাজি দে&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight: bold;"&gt;সহকারী অধ্যাপক&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight: bold;"&gt;আব্দুলপুর সরকারি কলেজ, নাটোর।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;আমাদের এই চলমান জীবনে আমরা প্রায়ই নানাভাবে নানাশব্দে ভাগ্যের কথা বলি। যেমন:&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;   * তোমার সৌভাগ্য যে একবারেই বিষয়টা বুঝেছ,&lt;br /&gt;   * তোমার দুর্ভাগ্য যে, যে কাজেই হাত দাও তাই ব্যর্থ হচ্ছো,&lt;br /&gt;   * যেখানে তোমার রিজিক আছে সেখানেই তো খাবে,&lt;br /&gt;   * গুরুর কৃপায় আমি ব্যবসায় উন্নতি করেছি,&lt;br /&gt;   * অদৃষ্টের নির্মম পরিহাসে আজ তার এই অবস্থা,&lt;br /&gt;   * কপালের লিখন, না যায় খন্ডন--- ইত্যাদি&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রকৃতপক্ষে এ জগত খুব জটিল। প্রকৃতিতে সবসময়ই নানা বিচিত্র ও আকস্মিক ঘটনা ঘটে চলেছে। ঘটনা ঘটার পরে আমরা তার ব্যাখ্যা দাড় করাই কিন্তু ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে সিদ্ধান্ত করা অধিকাংশক্ষেতেই অসম্ভব। যেহেতু মানুষ নিজেকে, নিজের ভবিষ্যৎ, আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন- এসব কিছুই পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তাই সময়ভেদে কোন না কোনভাবে (ব্যতিক্রমী দু'একজন ছাড়া) নিজেকে অদৃষ্টের হাতে সমর্পণ করে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ভাগ্য বা অদৃষ্টবাদ আমাদের মনে করায় আমাদের সসীমতা, আপেক্ষিক ধ্যান-ধারণা, প্রকৃতির বিশাল ব্যপ্তির মাঝে নিজের ক্ষুদ্রতা। তাছাড়া ধর্মীয় ধারণায় আমরা আমাদের ক্ষুদ্রতার সাথে ঈশ্বরের অসীম সত্ত্বার বিশাল পার্থক্য দেখি। ঈশ্বর সর্বতোভাবে ভাল, কিন্তু বিশেষভাবে তিনি সর্বক্ষমতাময় ও সর্বজ্ঞ। সসীম মানুষ ঈশ্বরের সৃষ্টি ও জগতের পরিকল্পনা সম্বন্ধে কখনোই জানতে পারে না। কেন আমরা জন্মেছি এবং কেন আমাদের নানাভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে, যেমন- নারী কিংবা পুরুষরূপে, বুদ্ধিমান কিংবা নির্বোধ করে, ফর্সা কিংবা কালো করে, লম্বা কিংবা খাটো করে- এসব ঈশ্বরের দুর্বোধ্য সৃষ্টিরহস্য- যা কারো পক্ষেই জানা সম্ভব নয়। নিয়তিবাদ বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয় মানুষের মূল লক্ষ্যে (মোক্ষ, স্যালভেশন, নির্বাণ ইত্যাদি)। এই লক্ষ্যগুলো ঈশ্বরের পরম ইচ্ছার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও নির্বাচিত। ঈশ্বরই এই লক্ষ্য সম্বন্ধে জ্ঞাত, কিন্তু তা চিরদিনই মানুষের কাছে অনির্ধারযোগ্য।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অদৃষ্টবাদ বা নিয়তিবাদের রয়েছে সুপ্রাচীন ঐতিহ্য। মানুষের সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে যখনই সে প্রকৃতিকে কিছু কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে শিখেছে, দেখা দিয়েছে সামনের বিশাল অনিশ্চয়তা। নিজের মেধা, শক্তি, পরিশ্রমের পাশাপাশি তাই মানুষ সর্বদাই ভাগ্যেরও সহায়তা চেয়েছে। বিভিন্ন যুগে, বিভিন্ন সমাজে মানুষ নানাভঅবে ভাগ্যের সহায়তা লাভের জন্য নানারকম কল্পনা করেছে, যাদুমন্ত্রের উদ্ভব ঘটেছে, সেখান থেকে নানা দেব-দেবী থেকে একেশ্বর মহাশক্তিকে খুশী করার নানা ক্রিয়া-পদ্ধতি গড়ে উঠেছে। মানুষের সংস্কৃতিতেও এর প্রভাব বিস্তীর্ণ ও গভীর। তাছাড়া মানুষ উন্নত মেধাসম্পন্ন জীব বলেই হয়তো তার মধ্যে পূর্ণতার ধারণা রয়েছে। মানুষ সবসময় চায় স্থায়ীভাবে কিছু পেতে। কিন্তু এই পরিবর্তনশীল জগতে পূর্ণতাপ্রাপ্তি সম্ভব নয়। তাই মানুষ অবিরত ছুটে চলেছে পূর্ণতা প্রাপ্তির আশায়। এখানেও নিয়তির সহায়তা ছাড়া কল্পিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তাই ভাগ্য বা নিয়তির প্রতি দুর্বলতা মানুষের ছিল এবং আজো রয়ে গেছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রাচীন পুরাণ বা সাহিত্যগুলোতে ভাগ্য বা অদৃষ্টবাদের প্রভাব ছিল খুবই বেশি। প্রাচীন গ্রীকরাও মনে করতো তাদের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করছে আকাশের তারা, গ্রহ বা উপগ্রহ। জ্যোতিষশাস্ত্র প্রাচীন যুগে মানুষের জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। প্রাচীন মহাকাব্যগুলিতে দেখা যায়, বিভিন্ন দেব-দেবী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে মানুষ। সফোক্লিসের 'ইডিপাস'-এ দেখতে পাই অদৃষ্টের নির্মম করাঘাতে দেবতাদের ভবিষ্যৎবাণীর জন্য ইডিপাসের জীবনে কি হৃদয়-বিদারক ঘটনা ঘটে গেল। সক্রেটিস, যিনি মানুষের জ্ঞানের অগ্রগতির ক্ষেত্রে প্রধান আলোকবর্তিকা উত্তোলনকারী, যাকে সভ্য-সংস্কৃত মানুষ আদর্শ শিক্ষক হিসেবে মনে করে, সেই সক্রেটিস ডেলফির মন্দির থেকে দেবীর দৈববাণী শুনেছিলেন বলে কথিত আছে। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ মহাকাব্য 'মহাভারতে' নানাভাবে নিয়তিবাদের সমর্থণ দেখতে পাই। ব্যাসদেব ছিলেন ত্রিকালদর্শী। অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ সবই তিনি জানতে পারতেন। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের আগে তিনি ধৃতরাষ্ট্রকে বলেছিলেন, "পুত্র এই যুদ্ধে তোমার পুত্রেরা ও অন্যান্য রাজাগণ বিনষ্ট হবে, তুমি শোক কোরো না, কালবিপর্যয় লক্ষ্য করো।" পরে ধৃতরাষ্ট্র সঞ্জয়ের মাধ্যমে যুদ্ধের সরাসরি বর্ণনা শুনেন। এখানে দেখি, নিয়তি পূর্ব থেকেই নির্ধারিত ছিল। মহাভারতের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো পান্ডবদের বনবাসের সময় ধর্ম্মরাজের কাছে যুধিষ্ঠিরের পরীক্ষা। যুধিষ্ঠিরের অন্যান্য ভাইদের জীবনরক্ষার জন্য তাকে ধর্ম্মরাজের অনেকগুলো অনেকগুলো প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছিল। যুধিষ্ঠিরকে প্রশ্ন করা হয়েছিল 'বার্তা' কি? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, "সূর্যের আগুনে দিন-রাত্রির ইন্ধনে, মাস ও ঋতুর হাতা দিয়ে নেড়ে নেড়ে কাল এই মহামোহময় কটাহে প্রাণীবৃন্দকে রন্ধন করছে- এই বার্তা।" এখানে জীবন-মৃত্যুর সম্পূর্ণ বৃত্ত, বৃদ্ধি-ক্ষয়ে ঘুর্ণমান সর্বজীবের জীবনের রূপচিত্র দেখা যায়। মহাকালের কাছে মানুষ নিতান্তই ক্ষুদ্র, সে নিতান্তই প্রকৃতির ক্রিড়নক। এ বিষয়টিই প্রকাশ পাচ্ছে এখানে। অন্য জায়গায় কৃষ্ণ অর্জুনকে বলছেন, "হে অর্জুন, ঈশ্বর সর্বজীবের হৃদয়ে অধিষ্ঠিত হয়ে, যন্ত্রারূড় (পুতুলের মতো) সর্বজীবকে মায়ার দ্বারা চালনা করেন।" এখানেও আমরা জগৎ পরিচালনায় ঈশ্বরের মহাপরিকল্পনারই বাস্তবায়ন দেখি। মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা এক্ষেত্রে অবান্তর বলেই মনে হয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বর্তমান যুগে প্রচলিত ধর্মমতসমূহেও নানাভাবে অদৃষ্টবাদের সমর্থণ দেখা দেয়। ধর্মমতগুলিতে যেহেতু জগৎ ও জীবনের নানা জটিল বিষয়গুলোকে একসূত্রে বাঁধার চেষ্টা করা হয় তাই সেখানে নানা দ্ব্যর্থকতা, রূপকতা থাকে। তাই দেখা যায় একই ধর্মগ্রন্থের একই প্রত্যাদেশ নিয়ে নানা ব্যাখ্যা, নানা মত, এমনকি নানান সম্প্রদায়ও গড়ে ওঠে। ধর্মমতগুলোতে কখনও মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতাকে স্বীকার করা হয়, আবার কখনও অস্বীকার করে অদৃষ্টবাদকে সমর্থন করা হয়। পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষই প্রচলিত ধর্মমতগুলোতে বিশ্বাসী হওয়ায় ধর্মের গুরুত্ব মানুষের জীবনের খুবই গভীর। তাই বিভিন্ন ধর্মমতে অদৃষ্টবাদ সম্পর্কে কিছু বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;শ্রীমদ্ভগবতগীতা হিন্দুধর্মের একটি প্রধান ধর্মগ্রন্থ। এই মহান ধর্মগ্রন্থের 'বিশ্বরূপ দর্শন' নামক একাদশ অধ্যায়ে ভক্তবৎসল ভগবান অর্জুনকে দিব্যচক্ষু প্রদান করে স্বীয় বিশ্বরূপ দেখান। অনির্বচনীয়, অদৃষ্টপূর্ব, অত্যদ্ভূত সেই বিশ্বরূপ; তাতে একত্র সমবস্থিত বিশ্বব্রহ্মাণ্ড দৃশ্যমান, যার আদি নাই, অন্ত নাই, মধ্য নাই। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ ব্যাপারে যা ঘটবে, ভগবান বিশ্বরূপে সেই ভবিষ্যৎ দৃশ্যটিও দেখান। অর্জুন বিস্ময়ে ভয়ে আপ্লুত হয়ে অবনত মস্তকে ভগবানকে প্রণাম করেন। পরে ভগবান বলেন যে তিনি লোকক্ষয়কারী মহাকাল। বাস্তবিক সকলকেই তিনি নিহত করে রেখেছেন।, অর্জুন শুধু এই যুদ্ধের নিমিত্তমাত্র। এখানে আমরা দেখি সবকিছু পূর্বথেকেই ঈশ্বর নির্ধারিত করে রেখেছেন, মানুষ শুধুই নিমিত্তমাত্র। ঈশ্বর কর্মনীতির কর্তা এবং তিনিই মানুষকে তার কর্মের পুরস্কার বা শাস্তি প্রদান করেন, সেইজন্য কর্মফল ঈশ্বরে সমর্পণ করতে হয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আবার শ্রীমদ্ভগবৎগীতাতে কর্মযোগেরই জয়জয়কার। মানুষের স্বাধীন ইচ্ছাবলে মানুষ যেরকম কামনার দ্বারা কর্ম করে, জন্মজন্মান্তরে স্বাধীন ইচ্ছাবলে মানুষ যেরকম কামনার দ্বারা কর্ম করে, জন্ম জন্মান্তরে সেই কর্মেরই ফল ভোগ করে। গীতায় স্বকর্ম বা স্বভাবকর্মের কথা বলা হয়েছে। মানুষ নিজেই স্ব-ইচ্ছায় কার্য করে এবং তার জন্য নিজেই দায়ী থাকে। তাই মানুষের কর্মফল অনুযায়ীই তার অবস্থান নির্দিষ্ট হয়। তবে যেহেতু কর্মমাত্রই কোন না কোনভাবে দেষযুক্ত থাকে তাই কর্মফল অবশ্যম্ভাবী, তাই গীতায় ফলত্যাগ করে অনাসক্তচিত্তে কর্ম করার কথা বলা হয়েছে- এতে কোন বন্ধন থাকে না। যারা মনে মনে সমস্ত কর্ম ঈশ্বরে অর্পণ করে সর্বদা ঈশ্বরে চিত্ত রাখে এবং স্বকর্ম করতে থাকে তারা ঈশ্বরের প্রসাদে কর্মের শুভাশুভ ফল অতিক্রম করে মোক্ষলাভ করতে পারে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ন্যায়-দর্শনে ঈশ্বরের স্বরূপ সম্পর্কে বলা হয় - ঈশ্বর সর্বজ্ঞ। তিনি নিখিল জগৎ এবং জীবের নিমিত্তকারণ। তিনি শ্বাশত পরম সত্তা। তিনি অসীম চৈতন্যের অধিকারী। ঈশ্বরই কর্মফল প্রদান করেন। ঈশ্বরের প্রভাবেই জীব এবং জগতে সংগতি ও শৃঙ্খলা পরিদৃষ্ট হয়। তিনি সমগ্র জীবের মধ্যে এবং জাগতিক কার্যের মধ্যে কল্যাণের প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি জগতের স্রষ্টা, রক্ষাকর্তা এবং সংহারকর্তা। ঈশ্বরের মহাকরিকল্পনাতেই জগতের সবকিছু বিরাজমান এবং পরিবর্তনশীল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আবার ন্যায়-দর্শন মনে করে মোক্ষই মানুষের পক্ষে কাঙ্ক্ষনীয় চরম সদ্বস্তু; পরম সুখ এবং শান্তির অবস্থা। সর্বপ্রকার ক্ষুদ্রতা, সংকীর্ণতা, ভেদ, অজ্ঞতা এবং দুঃখ হতে বিমুক্তি অপেক্ষা মানুষের পক্ষে শ্রেয়তর কিছুই নাই। মিথ্যাজ্ঞান ও অবিদ্যা হেতু দুঃখ হয়। অজ্ঞানতাবশতঃ মানুষ নিজেকে কর্তা, জ্ঞাতা এবং ভোক্তা মনে করে। আত্মাকে সুখ, দুঃখ, ইচ্ছা, দ্বেষ প্রভৃতির অধীন মনে করে মোহগ্রস্ত হয়। আত্মাকে এরূপ মনে করাই অবিদ্যা। অবিদ্যা দূরীভূত হলে দোষ, প্রবৃত্তি, জন্ম এবং দুঃখ একে একে বিলুপ্ত হয়। পতঞ্জলি বর্ণিত যোগাঙ্গগুলির সাধনা করলেই দুঃখ নিবৃত্ত হয়। প্রকৃত মুক্তি সত্যজ্ঞান হতেই সম্ভব হয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এখানে ঈশ্বরের স্বরূপ বর্ণনায় অদৃষ্টবাদের সমর্থন লক্ষ্য করলেও মানুষের মোক্ষলাভের জন্য তার নিজেকেই কর্ম করতে হবে, মুক্তির সাধনা করতে হবে। একদিকে অদৃষ্টবাদ, অন্যদিকে আশাবাদ মিলেমিশে একাত্ম হয়ে আছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-style: italic;"&gt;অসমাপ্ত&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/5243345960059992699-1259062728282201765?l=bigyanbodh.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/feeds/1259062728282201765/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/2008/10/blog-post.html#comment-form' title='1 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/5243345960059992699/posts/default/1259062728282201765'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/5243345960059992699/posts/default/1259062728282201765'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/2008/10/blog-post.html' title='ভাগ্য বা অদৃষ্টবাদ প্রসঙ্গে- ১ম অংশ'/><author><name>সুশান্ত বর্মন</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='31' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/_j1L4QAM2tRw/SOzw6uaJHHI/AAAAAAAAChM/5kHx3973jbs/S220/su.jpg'/></author><thr:total>1</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-5243345960059992699.post-1018799767468720625</id><published>2008-09-10T23:20:00.103+06:00</published><updated>2009-08-17T10:32:30.977+07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='বিজ্ঞানচিন্তা'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='দর্শন'/><title type='text'>বিজ্ঞান ও দর্শন</title><content type='html'>&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;span style="font-weight: bold;"&gt;শিবাজি দে&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight: bold; font-style: italic;"&gt;সহকারী অধ্যাপক&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight: bold; font-style: italic;"&gt;আব্দুলপুর সরকারি কলেজ, নাটোর।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;দর্শন এমন এক জ্ঞানের শাখা যা পরিচিত অন্যান্য বিষয়গুলোর সাথে বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে সম্পূর্ণই আলাদা। দর্শনের এই অনন্যতা চিহ্নিত করা খুব সহজ নয়। অন্যান্য জ্ঞানের শাখায় তাদের বিষয়বস্তু শনাক্ত করা বা ব্যাখ্যা করা যতটা সহজ, দর্শনের ক্ষেত্রে তা বেশ কষ্টসাধ্য। সাধারণভাবে বলা যায়, জগৎ ও জীবনকে সামগ্রিকভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করে সে সম্পর্কে সুষ্ঠু এবং যুক্তিসংগত একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হবার চেষ্টা করাই হলো দর্শন। আবার বলা যায়, জ্ঞানের প্রতি ভালোবাসা বা জ্ঞানানুশীলনের প্রতি আকাঙ্ক্ষাই হলো দর্শন। কিন্তু দর্শনকে এরূপ সংজ্ঞায়নের চেষ্টায় এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা জন্মায় না। তবে দু'দিক থেকে দর্শনের আলোচ্য বিষয়ের কথা বলার চেষ্টা করা যায়। একদিকে, আমাদের ধারণা বা চিন্তাগুলোকে বিশ্লেষণ ও উপলব্ধির চেষ্টা করা দর্শনের মূখ্য কাজ। বিভিন্ন জ্ঞানের শাখায়, এমনকি আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও আমরা বিভিন্ন ধারণাকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করি। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই এ ধারণাগুলি বিচার-বিশ্লেষণহীনভাবে গ্রহণ করা হয়। দার্শনিকরা এসব বিভিন্ন বিষয়ের উপর ব্যবহৃত ধারণাগুলোকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে এদের সঠিকতা বা নিশ্চয়তা দেখতে চেষ্টা করেন। আবার অন্যদিকে দর্শনকে চিহ্নিত করা হয় 'চিন্তা সম্পর্কিত চিন্তা' হিসেবে। এই দিক থেকে সকল জ্ঞানের শাখাতেই দর্শনের প্রবেশাধিকার আছে। যেমন-সমাজ-দর্শন, ধর্ম-দর্শন, রাষ্ট্র-দর্শন, বিজ্ঞান-দর্শন প্রভৃতি। প্রকৃতপক্ষে দর্শনকে তার বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে নয় বরং তার অনন্য উপস্থাপন বা পদ্ধতির ভিত্তিতে তাকে সংজ্ঞায়িত করা দরকার।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span id=”fullpost”&gt;&lt;br /&gt;দর্শনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অন্যান্য বিষয়ের যেমন বাস্তব ফলাফল পাওয়া যায়, দর্শনে তেমন কিছু পাওয়া যায় না। এর আংশিক কারণ হলো যখনই কোন বিষয়ের সুনির্দিষ্ট জ্ঞান সম্ভব হয়, তখনই সেটা দর্শন নামের অযোগ্য হয়ে যায়, এবং তা একটা আলাদা বিজ্ঞানে রূপ লাভ করে। অর্থাৎ যে সব প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে তা বিজ্ঞানে রূপ লাভ করে এবং যে সব প্রশ্নের উত্তর এখনও খুঁজে পাওয়া যায় নি তাদেরকেই দর্শনে আলোচনা করা হয়। এ জাতীয় কিছু প্রশ্ন, যেমন:-&lt;br /&gt;&lt;ul&gt;&lt;li&gt;শুভ অশুভ কি?&lt;/li&gt;&lt;li&gt;এগুলোকি সমস্ত বিশ্বজগতের জন্য প্রযোজ্য?&lt;/li&gt;&lt;li&gt;জগতের কি কোন উদ্দেশ্য আছে?&lt;/li&gt;&lt;li&gt;ইচ্ছার কি কোন স্বাধীনতা আছে?&lt;/li&gt;&lt;li&gt;চেতনা কি জড় থেকেই উৎপন্ন?&lt;/li&gt;&lt;/ul&gt;এরকম অসংখ্য প্রশ্ন দর্শনে আলোচিত হয়। কিন্তু এসব প্রশ্নের যেসব উত্তর দেয়া হয় তার কোনটিই প্রমাণ করা যায় না। এসব প্রশ্নাবলীর উত্তর খুঁজে পাওয়া যতই দুষ্কর হোক, এসব প্রশ্নের বিচারবিশ্লেষণ অব্যাহত রাখা দর্শনের একটি প্রধান কাজ। এসব প্রশ্নাবলী নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে আমরা এদের গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত হই, এদের ব্যাখ্যা করার যেসব দিক আছে সেগুলো পরীক্ষা করতে পারি, এদের সম্বন্ধে প্রচলিত মতগুলোর বিভিন্ন ত্রুটি দূর করতে পারি, এছাড়া আমাদের যে একটা চিন্তামূলক আগ্রহ আছে তাকে সজীব রাখতে পারি। প্রশ্নের খাতিরেই দর্শন পাঠ করা আবশ্যক। কারণ এই প্রশ্নগুলো সম্ভাব্য বিষয়াবলী সম্পর্কে আমাদের ধারণা বাড়ায়, আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক কল্পনার পরিপুষ্টি সাধন করে। এভাবে দর্শন পাঠের ফলে গোঁড়ামী ও নিশ্চয়তাপূর্ণ একমুখী চিন্তা থেকে মনকে মুক্ত করা যায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দর্শনে আলোচ্য বিষয়গুলোর অনিশ্চয়তার মধ্যেই দর্শনের প্রকৃত মূল্য নিহিত। যে ব্যক্তির দর্শন বা বুদ্ধিবৃত্তিক বিচারবিশ্লেষণ নেই, তার জীবন নানা সংস্কারের বেড়াজালে বন্দী অবস্থায় কাটে। এসব সংস্কারগুলো আসে সাধারণ জ্ঞান থেকে অথবা তার যুগ বা জাতিতে বা পূর্ব পুরুষদের থেকে প্রাপ্ত কতকগুলো প্রচলিত বিশ্বাস থেকে, যেগুলো ঐ ব্যক্তির বুদ্ধির সহযোগিতা বা সম্মতি ছাড়াই মনের মধ্যে বেড়ে ওঠে। এধরণের লোকের কাছে বিশ্বজগৎ হয়ে যায় সীমিত স্পষ্ট এবং নিশ্চিত। তাদের মনে সাধারণ কোন বিষয়ে মনে প্রশ্নের উদ্রেক হয় না এবং অপরিচিত কোন সম্ভাবনা তারা ঘৃণার চোখে দেখে। তাই এরা নতুন জ্ঞান, নতুন পারিপার্শ্বিকতা, নতুন উদ্ভাবনী - এগুলোর সাথে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারে না বা নিজেকে নবায়িত করতে পারে না। এর জন্যে এরা মানব-প্রগতি তথা বিশ্ব শান্তির পথে অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। অন্যদিকে দার্শনিকের দৃষ্টিতে দেখলে আমরা সচরাচর যেসব বিষয়ের সাথে পরিচিত এগুলোও নানা প্রশ্নের উদ্রেক করতে পারে যাদের সম্পূর্ণ উত্তর দেয়া সম্ভব হয় না। দর্শন এসবের সম্পূর্ণ উত্তর না দিলেও অনেকগুলো সম্ভাবনা নির্দেশ করতে পারে, যা আমাদের চিন্তার পরিধি বাড়ায় এবং একে প্রচলিত রীতিনীতির স্বেচ্ছাচারিতা থেকে মুক্ত করে। দর্শন কোন বিষয় সম্পর্কে নিশ্চয়তা কমিয়ে দিলেও ঐ বিষয়গুলো কি হতে পারে সে সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানের পরিধি বাড়ায়, ঐ বিষয়গুলো সংক্রান্ত উগ্রতা বা গোঁড়ামী দূর করে এবং এসব পরিচিত বিষয়ের অপরিচিত নানা দিক উদঘাটন করে। দর্শন এভাবে সবসময়ই আমাদের কৌতুলহলকে সজীব রাখে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মানব জীবনের উদ্দেশ্যসমূহ এবং জীবনের সাথে জড়িত অন্তর্নিহিত মূল্যে মূল্যবান উপাদানগুলো সম্পর্কে দর্শন বিচার-বিশ্লেষণমূল জ্ঞান দান করে। যদিও বস্তুগতক্ষেত্রে আমাদের স্বাধীনতা কার্যক-কারণ নিয়মে সীমাবদ্ধ কিন্তু মূল্যের ক্ষেত্রে আমাদের স্বাধীনতার কোন সীমারেখা নেই। সময়ের সাথে সাথে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির যতই পরিবর্তন হোপক না কেন, প্রেম, সৌন্দর্য, জ্ঞান, আনন্দ প্রর্বতি বিষয়গুলোর উজ্জ্বল্যের তাতে কোন হানি হয় না। দর্শন আমাদের এ বিষয়গুলোর মূল্যানুভবে সাহায্য করে এব মানুষের সম্মিলিত কর্মপ্রচেষ্টাকে একটি ধারাবাহিক প্রগতির লক্ষ্যে পরিচালিত করে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;যুক্তিবিদ্যা, নীতিবিদ্যা, মূল্যবিদ্যা, জ্ঞানবিদ্যা প্রভৃতি দর্শনের বিভিন্ন শাখায় জগৎ ও জীবনের সাথে সম্পৃক্ত বিভিন্ন মৌল সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়। যদিও এসব শাখায় আলোচিত কোন কোন বিষয় অনেক সময় বাস্তব জীবনের সমস্যাবলীর সঙ্গে সম্পর্কহীন মনে হয়, কিন্তু পরোক্ষভাবে এরা জীবনের সাথে সম্পৃক্ত। বিশেষ করে বিমূর্ত বিষয়াবলী দেখে এরূপ মনে হয়। প্রকৃতপক্ষে জীবনের মূল্য উপলব্ধি ও অবধারন করাই এসব বিষয়ের মূল লক্ষ্য। তাই কানিহামের মতে " দর্শনের জন্ম সোজাসুজি জীবন ও জীবনের প্রয়োজনে।"&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দর্শন পাঠের সাথে বিভিন্ন দার্শনিকদের জীবন, কর্মপ্রবাহ, মতবাদ প্রভৃতি বিষয় অর্থাৎ ইতিহাসের আলোকে দার্শনিকদের সম্বন্ধে আলোচনা একান্তভাবে জড়িত। যদিও বিভিন্ন দার্শনিক বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে একে অপরের সাথে ভিন্নমত পোষণ করেছেন, কিন্তু মূল দার্শনিক উপলব্ধি সবার প্রায় একই। খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ অব্দে সক্রেটিস বলেছিলেন, "অপরীক্ষিত জীবন মহৎ জীবন নয়।" দর্শনের মূখ্য কাজ তাই মানবজীবনকে চালিত করে যেসব বিশ্বাস তাদের সমালোচনামূলক পরীক্ষা, এসব বিশ্বাসের পিছনের কারণ খুঁজে বের করা এবং যৌক্তিক এবং বৌদ্ধিক উপাদানের মাধ্যমে এসব বিশ্বাস এবং তাদের বিকল্পের মধ্যে তুলনামূলক গ্রহণীয় ধারণা প্রদান করা। এ থেকে বলা যায়, জীবনের বিভিন্ন দিক তলিয়ে দেখা এবং জীবনকে পরীক্ষা ও সমীক্ষা করার মানসিকতাই দর্শন। আর দার্শনিক হলেন তারা যারা জগতের স্বরূপ ও বৈশিষ্ট্য এবং জীবনের বিবিধ সম্ভাবনাকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে তুলনা ও পরীক্ষা করে দেখেন, যারা নির্বিচারে কোন কিছুই মেনে নেন না। জীবনকে পরীক্ষা ও সমীক্ষা করার প্রধান অর্থই হলো যে কোন কাজে হাত দেয়ার আগে এর সাথে জড়িত সকল বিষয় সম্পর্কে প্রাপ্তিযোগ্য সকল তথ্য সংগ্রহ, এর শুভ-অশুভ দিক, ঔচিত্য-অনৌচিত্য নিয়ে চিন্তা করা, এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য উপলব্ধির চেষ্টা করা। দার্শনিক জ্ঞানের পূর্বশর্তই হলো অন্তর্দৃষ্টি, দৃষ্টিভঙ্গির অভ্রান্ততা, বিচার-বিশ্লেষণের ভারসাম্য ও সামঞ্জস্য। যথার্থ দার্শনিকরা জ্ঞান ও সত্যের সন্ধানে কোন সংস্কার, সংস্কৃতি, সমাজ, ধর্ম প্রভৃতির রীতিনীতি দ্বারা পরিচালিত না হয়ে যুক্তিবিচার ও মুক্তবিবেক দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দার্শনিকরা মানুষকে নিয়ে ভাবেন, মানবিক বোধে মানব-পরিস্থিতিকে পরিস্ফুট করার প্রয়াস পান। আর এ প্রচেষ্টার ফলেই সম্ভব হয় মানবীয় প্রগতি। দার্শনিক তার সমসাময়িক যুগ ও পরিবেশকে চিন্তায় ধারণ করে সে সময়ের বৈজ্ঞানিক, নৈতিক, অর্থনৈতিক বা ধর্মীয় অবস্থা মানব-প্রগতির লক্ষ্যে চিত্রিত করেন। এ কারণেই শ্রেষ্ঠ দার্শনিকরা গণচেতনার ধারক ও সংস্কারক হিসেবে স্বীকৃতি পান। আর দার্শনিকরা যে জ্ঞান ও সত্যের সন্ধানে নিজেকে নিয়োজিত করেন, তাই পরবর্তীতে বিজ্ঞান, সাহিত্য শিল্পকলা প্রভৃতি যা কিছু আমাদের সভ্যজগতের জন্য অপরিহার্য, তাদেরকে প্রভাবিত করে এবং তাতে সংরক্ষিত হয়। এজন্য বলা যায়, অতীতের শ্রেষ্ঠ দার্শনিকদের চিন্তাভাবনার সাথে পরিচিত হওয়া শুধু আকর্ষণীয় নয়, শিক্ষণীয়ও বটে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের মতে দর্শনের সর্বশ্রেষ্ঠ মূল্য সম্ভবত এটা যে, দর্শন অত্যন্ত মহৎ বিষয় নিয়ে চিন্তা করে এবং এই চিন্তার ফলে দর্শন মানুষকে ব্যক্তিগত সংকীর্ণ উচ্চাভিলাষ থেকে মুক্তি দেয়। প্রবৃত্তিচালিত মানুষের জীবন তার ব্যক্তিগত স্বার্থের বন্ধনেই আবদ্ধ, যেখানে রয়েছে অস্থিরতা ও সংকীর্ণতা। এই ধরণের জীবনে কেবল কামনার তাড়না এবং ইচ্ছাশক্তির অসহায়তার মধ্যে একটা বিরামহীন দ্বন্দ্ব কাজ করে। জীবনকে মহৎ ও মুক্ত করতে হলে এই বন্দীশালা ও দ্বন্দ্ব থেকে উপরে উঠতে হবে। যার জন্য দরকার দর্শন চর্চা। দার্শনিক চিন্তা তার প্রশস্ততম নিরীক্ষায় বিশ্বকে শুভ-অশুভ, শত্রু-মিত্র, পক্ষে-বিপক্ষে এসব পরস্পর-বিরোধী শিবিরে বিভক্ত না করে সবকিছুই নিরপেক্ষতার সঙ্গে বিচার করে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;যে ব্যি্তি দার্শনিক-চিন্তার স্বাধীনতায় ও নিরপেক্ষতায় অভ্যস্ত, সে তার কার্যক্ষেত্রে কিংবা আবেগের জগতেও স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা অক্ষুন্ন রাখার চেষ্টা করেন। সুস্থ চিন্তাকে তারা সার্বক্ষণিক পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন বলে জীবনের নানা ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যেও তাঁরা সত্য, শুভ ও সুন্দরের চর্চা অব্যাহত রাখতে পারেন। নানা প্রতিকূল শক্তির বিরুদ্ধেও সমুন্নত রাখতে পারেন তাদের প্রজ্ঞা ও বিবেককে। আবার দার্শনিক চিন্তা শুধু চিন্তার বিষয়বস্তুকেই প্রশস্ত করে না বরং ব্যক্তির কার্য ও প্রেমের বিষয়বস্তুর পরিমণ্ডলও বাড়ায়। তাই দার্শনিক চিন্তায় অভ্যস্ত ব্যক্তিগণ নিজেদের সংকীর্ণ প্রাচীরঘেরা শহরের অধিবাসী হবার চেয়ে আন্তর্জাতিক মানুষ হিসেবেই নিজেকে দেখেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পরিশেষে বলা যায়, আমাদের আজকের সমাজে যে অবক্ষয়, বিশেষ করে নানা সংকীর্ণতা, দূর্নীতি, মৌলবাদের বিকাশ, ক্ষমতার অপব্যবহার- এগুলো যা আমাদের নাগরিক জীবনে শান্তির আশা ধ্বংস করছে, তার একটি প্রধান কারণ আমাদের সমাজে দর্শন চর্চায় অনীহা। রাষ্ট্রীয় শিক্ষা পরিকল্পনাতেও দর্শন এবং এর একটি প্রধান শাখা যুক্তিবিদ্যাকে অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখা হয়েছে বলেই মনে হয়। আন্তর্জাতিক ক্ষেতেও আজ অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নকে গুরুত্ব বেশি দিয়ে মূল্যবোধ ও নীতিবোধকে এড়িয়ে  যাওয়ার উন্নয়নকে গুরুত্ব বেশি দিয়ে মূল্যবোধ ও নীতিবোধকে এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি বেশিরভাগ রাষ্ট্রেই গৃহীত হয়েছে। হয়তো এ জন্যেই বিশ্বে এত যুদ্ধ, ধ্বংস, অবিচার এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। দর্শন চর্চাই সঠিক দিক-নির্দেশনার মাধ্যমে এসব অশুভ, হতাশা, ঘৃণা, নিষ্ঠুরতা থেকে মানব সমাজকে মুক্ত করতে পারে। দার্শনিক-ই পারেন বিভিন্ন সমাজের ঐতিহাসিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক দিক বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যৎ সুখী, সুন্দর সমৃদ্ধিশালী পৃথিবী গড়ার জন্য সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে। তাই আজকের সমাজে দর্শন চর্চা একান্তভাবে প্রয়োজন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বার্ট্রান্ড রাসেলের একটি উক্তি দিয়ে লেখাটি শেষ করছি। "সর্বোপরি বিশ্বের ব্যাপকতা সম্পর্কে দর্শন যে চিন্তা করে তার ফলে মনেরও প্রসার লাভ হয় এবং এর ফলে এ বিশ্বের সঙ্গে তা মিলনের উপযুক্ত হয়। মনের পক্ষে এই হলো সর্বোচ্চ লাভ।"&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/5243345960059992699-1018799767468720625?l=bigyanbodh.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/feeds/1018799767468720625/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/2008/09/blog-post_10.html#comment-form' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/5243345960059992699/posts/default/1018799767468720625'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/5243345960059992699/posts/default/1018799767468720625'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/2008/09/blog-post_10.html' title='বিজ্ঞান ও দর্শন'/><author><name>সুশান্ত বর্মন</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='31' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/_j1L4QAM2tRw/SOzw6uaJHHI/AAAAAAAAChM/5kHx3973jbs/S220/su.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-5243345960059992699.post-2956518995187885032</id><published>2008-08-08T23:01:00.001+06:00</published><updated>2009-08-17T10:32:30.949+07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='শিক্ষা'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='দর্শন'/><title type='text'>রাসেলের শিক্ষা ভাবনা</title><content type='html'>&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;span style="font-weight: bold;"&gt;রাসেলের শিক্ষা ভাবনা&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight: bold;"&gt;শিবাজী দে&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;এ যুগের অন্যতম চিন্তাবিদ বার্ট্রান্ড রাসেলের (১৮৭২-১৯৭০) প্রতিভা ও সৃষ্টির বহুমুখিতা বিস্ময়কর। অনেকের মতে, রাসেলের গাণিতিক যুক্তিবিদ্যা ও দর্শন সম্পর্কিত অবদান চিন্তার ইতিহাসে স্থায়ী পরিবর্তন সূচনা করে। গণিত শাস্ত্র এবং দর্শনে তাঁর আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও তিনি অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজ, ধর্ম, নৈতিকতা, শিক্ষা এসব নিয়েও প্রচুর লিখেছেন। তিনি গণিতের উপর তাঁর যুগান্তকারী বই 'Principia Mathematica' লিখে বিশ্ববিখ্যাত হয়েছিলেন, কিন্তু ১৯৫০ সালে 'Marriage and Morals' গ্রন্থের জন্য সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। রাসেলের লক্ষ্য ছিল সুখী, সুন্দর শান্তিপূর্ণ এক পৃথিবী। তাই মানবজীবনের সাথে জড়িত প্রায় সকল বিষয়েই তাঁর চিন্তা আবর্তিত হয়েছে। শিক্ষা সম্পর্কেও তিনি সবিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করেন। শিক্ষার উদ্দেশ্য, শিক্ষাপদ্ধতি, শিক্ষার বিষয়বস্তু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাঠামো, এর নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া, সমাজ গঠনে শিক্ষার ভূমিকা ও প্রভাব ইত্যাদি সম্পর্কে রাসেল এত বিস্তৃত আলোচনা করেছেন যে বর্তমান প্রবন্ধে এত স্বল্প পরিসরে রাসেলের শিক্ষাভাবনার উপর সামগ্রিক আলোকপাত করা সম্ভব নয়। তাই এখানে সংক্ষিপ্তভাবে তাঁর শিক্ষাচিন্তার কয়েকটি দিক তুলে ধরার প্রয়াস নেব।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;শিক্ষার উপর রচিত রাসেলের প্রথম গ্রন্থ 'On EducationÕ (১৯২৬) এত বহুল পঠিত হয়েছিল যে, এক বছরের ব্যবধানে এই বই সাতবার প্রকাশ করতে হয়েছিল। এছাড়া শিক্ষার উপর বিশেষভাবে রচিত তাঁর অন্য গ্রন্থ MÖš’ 'Education and the Social Order'(১৯৩২) এখন পর্যন্ত অনেক বিশ্ববিদ্যালয় পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাঁর ''Principles of Social Reconstruction'(১৯১৯) গ্রন্থে শিক্ষার উপর রচিত অধ্যায়টিও খুব প্রশংসা পায়। এছাড়া অন্যান্য গ্রন্থেও শিক্ষা সম্বন্ধে তাঁর বিভিন্ন চিন্তার প্রকাশ দেখা যায়। মুক্তবুদ্ধির চর্চা, মুক্ত আলোচনা, বিজ্ঞানসম্মত মানসিক গঠন, বিজ্ঞান মনস্কতা কিভাবে প্রকৃত শিক্ষাকে সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠা দিতে পারে রাসেল তা ব্যাখ্যা করেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রাসেলের দৃষ্টিতে শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো সভ্যতা, যাকে সংজ্ঞায়িত করা যায় আংশিক ব্যক্তিক ও আংশিক সামাজিক প্রেক্ষাপটে। ব্যক্তির মাঝে সভ্যতা বিকশিত হয় বৌদ্ধিক ও নৈতিক গুণাবলীর সমন্বয়ে। এছাড়া তাকে কিছু সাধারণ জ্ঞান, নিজের পেশা সংক্রান্তজ্ঞান, সাক্ষপ্রমাণ সাপেক্ষে মতামত প্রদানের ক্ষমতা, প্রেম-প্রীতি, দয়া-মায়া, হাসি-আনন্দের অনুভূতি। আর সমাজ জীবনে সভ্যতা দাবী করে আইনের প্রতি সম্মান, ন্যায়পরায়নতা, মানবজাতির কোন একটি অংশের প্রতি স্থায়ী কোন ক্ষতি না করার উদ্দেশ্য এবং উদ্দেশ্যের সাথে উপায়কে বুদ্ধিসম্মতভাবে সংগতিপূর্ণ করে তোলা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সংগঠিত সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় জীবনে শিক্ষার সমস্যা একটি প্রাচীন সংখ্যা। আজকে যে শিশু আগামীকাল সে পরিপূর্ণ নাগরিক হবে তাই তাকে কি শিক্ষা দেয়া হবে, কি পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে, কি শর্তাবলী থাকবে, বড় হয়ে সে কি দায়িত্ব পালন করবে, কি দায় শোধ করবে, শিশুর শিক্ষা কখন থেকে শুরু হবে এসব প্রশ্নের মূলে আছে ব্যক্তির সঙ্গে সমষ্টির সম্পর্কের প্রশ্ন। ব্যক্তির বিকাশ কি চুড়ান্তভাবে স্বাধীন হবে, না রাষ্ট্র বা সরকার তাকে নিয়ন্ত্রিত করবে এসব প্রশ্ন নিয়ে দুই হাজার বছর আগে প্লেটোও আলোচনা করেছিলেন। রাসেলের মতে, “প্রশ্ন হচ্ছে, শিক্ষার উদ্দেশ্য কি হবে? শিক্ষার উদ্দেশ্য কি উত্তম ব্যক্তিকে তৈরী করা না উত্তম নাগরিকের সৃষ্টি।.... সত্তা হিসাবে ব্যক্তি স্বাধীন, কিন্তু নাগরিক হিসাবে সে প্রতিবেশের অধীন।.... কিন্তু আমার বক্তব্য হচ্ছে, ব্যক্তি হিসাবে আমাদের চারিত্রিক যে সত্তা তাকে স্মরণ রাখা আমাদের কর্তব্য। ব্যক্তির বৈশিষ্ট্যের স্বীকৃতির ভিত্তিতে যদি আমরা নাগরিক হতে পারি, তাহলে কেবল যে আমরা নাগরিক হব তাই নয়, তাহলেই মাত্র আমরা উত্তম নাগরিক হতে পারব। রাসেল অভিমত পোষণ করেন যে শিক্ষার দুটি উদ্দেশ্য; একদিকে মন গঠন করা, অন্যদিকে নাগরিককে প্রশিক্ষণ দেয়। এথেন্সবাসীরা প্রথমটির প্রতি এবং স্পার্টাবাসীরা দ্বিতীয়টির প্রতি মনোযোগী হয়েছিল। স্পার্টাবাসীরা জয়ী হয়েছিলেন, কিন্তু এথেন্সবাসীরা স্মরণীয় হয়েছিলেন।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রাসেলের মতে মানুষকে নাগরিক হিসাবে প্রশিক্ষণ দেয়া শিক্ষার একটি অন্যতম উদ্দেশ্য। ব্যক্তি হিসাবে ব্যক্তি স্বয়ংসম্পূর্ণ, স্বয়ম্ভর, কিন্তু একজন নাগরিক হিসাবে সে তার প্রতিবেশীদের দ্বারা, সমাজের অন্যান্যদের দ্বারা সীমাবদ্ধ। রাসেল বলেন, “একজন নাগরিকের মনোভাব হতে হবে এমন যে সে সচেতনভাবে জানবে যে, তার ইচ্ছাটাই একমাত্র ইচ্ছা নয়। তার সম্প্রদায়ের মধ্যে যত বিরোধপূর্ণ ইচ্ছা আছে তার মধ্যে একটা ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে ইচ্ছাকে বাস্তবায়িত করতে হবে। একমাত্র রবিনসন ক্রুসো ছাড়া আমরা সকলেই নাগরিক এবং সে কারণে শিক্ষাকে এ সত্য মেনে নিয়ে ব্যাখ্যা করতে হবে।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রাসেল ব্যক্তিকে যেমন সমাজ ও রাষ্ট্রের বাইরে ভাবতে পারেননি, তেমনি আবার সমাজ ও রাষ্ট্র যেখানেই তার সংকীর্ণ রাষ্ট্রীয়, ধর্মীয় বা শ্রেণীগত স্বার্থ দ্বারা ব্যক্তির নিজস্ব সত্তাকে খর্ব করার চেষ্টা করেছে, সেখানেই প্রতিবাদ করেছেন। “সংকীর্ণ দৃষ্টিতে দেখলে নাগরিকের শিক্ষা ব্যক্তির আপন সত্তার বিকাশে যেখানে সবচেয়ে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে, সে হচ্ছে মীমাংসাহীন প্রশ্নের ক্ষেত্রে ব্যক্তির বৈজ্ঞানিক দৃষ্টির স্ফুরণ। বিজ্ঞানের পদ্ধতি হচ্ছে প্রশ্নের পদ্ধতি আবিষ্কারের পদ্ধতি। আবিষ্কার মানেই জ্ঞানের এক অবস্থা থেকে অপর অবস্থায় উত্তরণ অর্থাৎ পরিবর্তন। বৈজ্ঞানিক মনের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই আবিষ্কারের দৃষ্টিভঙ্গিকে স্বীকার করা। তাকে বিকশিত করা। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির অর্থ বিজ্ঞানের বিধানে অনড় বিশ্বাস নয়। তার অর্থ নতুনতর বিধানের আবিষ্কারের সম্ভাবনাকে বিশ্বাস করা। কিন্তু নাগরিকের পক্ষে এই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গী রাখা সম্ভব নয়। কারণ সে প্রাচীন ঐতিহ্য আর প্রবীণদের শাসনে আবদ্ধ। যা প্রতিষ্ঠিত ও প্রচলিত তাই তার কাছে সত্য এবং অপরিবর্তনীয়। আর যে ব্যক্তি এই প্রতিষ্ঠিত সত্যে প্রশ্ন তোলে সে নাগরিকদের কাছে ভয়ঙ্কর রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি। তাই রাসেল যদিও সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় শিক্ষার অনিবার্যতার কথা স্বীকার করেন তবুও বলেন, “কাজেই নাগরিকত্বের শিক্ষার মধ্যে যে মারাত্মক বিপদ নিহিত রয়েছে তাকে আমরা বিস্তৃত হতে পারিনে।” রাসেল মূলত ব্যক্তি বিকাশের উপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থাকেই কেন্দ্রে রেখে এর সাথে রাষ্ট্রীয় শিক্ষার সমন্বয়ের কথা বলেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রাসেল রাষ্ট্রীয় শিক্ষায় দেশপ্রেম বা জাতীয়তাবাদ শিক্ষার বিরোধী ছিলেন। রাসেলের মতে “স্কুলে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সংকীর্ণ দেশ প্রেমের শিক্ষা দেয়া হয় তাতে রাষ্ট্র তথা সরকারের সমস্ত নীতি, বিশেষ করে অপর রাষ্ট্রের সাথে তার গৃহীত নীতিকে সমর্থণ নাগরিকের মজ্জাগত হয়ে দাঁড়ায়। এই সংকীর্ণ দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদ পৃথিবীকে পরস্পরবিরোধী মানব গোষ্ঠীতে বিভক্ত করে ফেলে। কারণ উগ্র জাতীয়তাবাদী মনোভাব যদি হ্রাস করা না যায় তাহলে সমগ্র সভ্যতার অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়বে। জাতীয়তাবাদ নাগরিককে নিজের রাষ্ট্র সর্বোত্তম ও অপর সব রাষ্ট্র শত্র“ এ মনোভাবে পূর্ণ করে তোলে।.... তাই জাতীয়তাবাদের মধ্যে রয়েছে ঘৃণার বীজ আর মিথ্যার প্রচারণা। উভয় দেশপ্রেম বা জাতীয়তাবাদের শিক্ষাদান মানুষ হিসাবে ব্যক্তির চারিত্রিক বিকাশের পরিপন্থি।” রাসেল প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জাতীয়তাবাদের যে হিংস্র এবং অমানবিক ও অযৌক্তিক প্রকাশ দেখেছেন এবং এর ফলে যুদ্ধে যে ধ্বংস প্রত্যক্ষ করেছেন সেখান থেকেই বিশ্বশান্তির জন্য জাতীয়তাবাদী ভাবনা ক্ষতিকর বলে মনে করতেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বেই রাসেল আশা প্রকাশ করেছেন, “হয়তো আগামী যুদ্ধের শেষে রাষ্ট্রগুলো এই জাতীয়তাবাদের মারাত্মক পরিণামের কথা উপলব্ধি করবে এবং তখন তারা জাতীয়তাবাদের পতাকার নীচে বিভক্ত হওয়ার চেয়ে সর্বজাতির সম্মিলিত সংগঠনের পতাকাতলে সমবেত হওয়াই মানুষ হিসাবে বেঁচে থাকার একমাত্র উপায় হিসাবে গণ্য করবে। আজ হয়তো এটা আমার কল্পনা বিলাসমাত্র।” রাসেল তাই শিক্ষাব্যবস্থায় কোন সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রাধান্য না দিয়ে শিশুকে যাতে আন্তর্জাতিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা যায় সেদিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;শিক্ষা ব্যবস্থায় ধর্মের স্থান কেমন হওয়া উচিত এ প্রসঙ্গে রাসেলের আলোচনা যদিও ইংল্যন্ড এবং ইউরোপের সমাজভিত্তিক তবুও তা প্রণিধানযোগ্য। রাসেলের মতে একটি বৈজ্ঞানিক জ্ঞান আহরণকারী রাষ্ট্র ধর্মীয় শিক্ষাকে তার সাধারণ শিক্ষার অঙ্গীভূত করতে পারেনা। এর কারণ সম্পর্কে রাসেল যে সব যুক্তি দেন তার সংক্ষিপ্ত রূপ হলো প্রথমত ধর্ম রক্ষণশীল শক্তি। ধর্ম সর্বদাই অতীতকে ধরে রাখতে চায়। নতুনকে গ্রহণে অনীহা দেখায়। দ্বিতীয়ত: ধর্ম তার বিশ্বাসীদের ভবিষ্যৎ বা পরকালের সুখ স্বাচ্ছন্দের কথা বলে, সে বিশ্বাস বিনষ্ট হলে, ব্যক্তি হতাশাগ্রস্থ হয় এবং তার জীবন অসহনীয় হয়ে উঠতে পারে। তৃতীয়ত: যেহেতু ধর্মের জোর হচ্ছে পরকালের উপর তাই অনেক সময়ই সামাজিক অন্যায় অবিচার প্রতিরোধের মনোভাব সৃষ্টির বদলে ব্যক্তিকে পরকালের আরাম আয়েশের আশ্বাসে এগুলো সহ্য করার মানসিকতা সৃষ্টি করে। চতুর্থত: ধর্ম ব্যক্তিকে আত্মবিশ্বাসী, উদ্যোগী করার বদলে অনেক ক্ষেত্রেই আত্মসমর্পণকারী এবং অতিপ্রাকৃত শক্তির ক্রীড়নকে পরিণত করে। এসব ছাড়াও রাসেলের মতে ধর্ম প্রায় সবক্ষেত্রেই জ্ঞান, বুদ্ধি বা প্রশ্নের প্রশংসা না করে বরং অনুৎসাহিত করে। তাছাড়া ধর্মীয় শিক্ষা মানুষের মনকে নতুন চিন্তা, নতুন জিজ্ঞাসা, নতুন আবিষ্কারের প্রতি বিমুখ করে তোলে। রাসেল মনে করেন এমনকি নীতিবোধ গঠনেও রাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থায় ধর্মের স্থান থাকা আবশ্যক নয়। কারণ ধর্মকে আশ্রয় করে নীতিবোধটিকে তাকলে সেক্ষেত্রে ব্যক্তির আত্মনির্ভরশীলতা নষ্ট হয়ে যায়। সে ব্যক্তি নির্বিচারে ধর্মীয় কর্তৃত্বে বিশ্বাসী হযে বৌদ্ধিক গুণাবলীর অবমূল্যায়ন করে। রাসেল তাই ধর্মকে নৈতিকতার ছড়মূল থেকে সরিয়ে সেখানে প্রতিস্থাপন করেছেন ভালবাসা ও জ্ঞানকে। মানুষের ভবিষ্যৎ পূর্ণতার জন্য জ্ঞান, আবেগ, উচ্ছ্বাস, শক্তি এবং সেইসাথে সৃজনী তাড়না ও অন্যের প্রতি মর্যাদাবোধ এগুলো যথাসম্ভব বাড়ানোর ব্যবস্থা শিক্ষার একটা উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। রাসেলের মতে ধর্মীয় প্রাতিষ্ঠানিকতার জন্য ধর্মের প্রেমের দিক অপেক্ষা ধর্মান্ধতা ও গোঁড়ামীই বৃদ্ধি পায়। এই অন্ধবিশ্বাস এবং অসহনশীলতা শুধু উত্তেজনা ও উদ্বেগ বৃদ্ধি করে; কোন ন্যায় বা শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেনা বরং যুদ্ধ ও ধ্বংসই বয়ে আনে। তাই রাসেল মন্তব্য করেন, “আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি যে ভাবীকালে মানুষ তথাকথিত ধর্মীয় বিশ্বাস ও আদর্শের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অংশগ্রহণ করতে রাজী হবেনা; বরং আগামী দিনের মানুষ একটি প্রজ্ঞাশীল শান্তিপূর্ণ সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হবে।” সমষ্টির কল্যাণের জন্য আবশ্যক উদারতা ও পক্ষপাতহীনতা। কিন্তু গতানুগতিক প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মগুলোও এর অভাবের ফলেই ধর্মীয় গোড়ামী সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ এবং শ্রদ্ধাশীল নয়। এসব নানা দিক বিশ্লেষনে রাসেল শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মের অন্তর্ভুক্তির বিরোধীতা করেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রাসেলের শিক্ষাচিন্তায় স্বাধীনতার ধারণা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রাসেল মনে করেন চিন্তার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারলেই শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য অনেকটাই সাধিত হবে। রাসেলের মতে চিন্তা ও মতামতের জগতটা যে কোন ধরণের নিয়ন্ত্রণের সম্পূর্ণ অনুপযোগী। চিন্তাজগত যতদূর সম্ভব স্বাধীন ও স্বতঃস্ফূর্ত অভিব্যক্তির উপযোগী হওয়া উচিত। শিক্ষা ও মানবজীবনের জন্য যা প্রয়োজন তা হলো ব্যক্তিগত উদ্যম এবং সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত এমন শিক্ষা প্রদান যা দ্বারা ব্যক্তি মননের স্বাতন্ত্র্য রক্ষিত হয়। শিক্ষাগ্রহণের আকাক্সক্ষা মানুষের একটি সহজাত আকাক্সক্ষা। এই সহজাত প্রবণতার কারণেই আনন্দচিত্তে শিশু শিখতে থাকে। তবে বড়রা উৎসাহ এবং প্রশংসা দিয়ে শিশুদের শিক্ষার কাজটি সহজতর করে দেয়। কিন্তু শিশু যখন একটু বড় হয়, নিজে নিজে নিজস্ব কাজগুলো করতে পারে তখন শিশুদের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা দিযে শুরু করাটা অনেকক্ষেত্রেই বিপজ্জনক। স্বাধীনতার সাথে পরিহারযোগ্য অবস্থাগুলোকে গুলিয়ে ফেলে তারা গঠনমুলক কিছু করতে অপারগ হতে পারে। রাসেলের মতে, “সুস্থ জীবনবোধের ধারণা ও পরিবেশের সঙ্গে জীবনকে খাপ খাইয়ে নেয়ার মতো করে বেড়ে উঠবার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা এবং কিছু পরিমাণ শাসন শিশুর জন্য অপরিহার্য।” রাসেল স্বীকার করেন যে, শিক্ষাঙ্গনে কিছু পরিমাণ আনুগত্য ও শৃঙ্খলা থাকা অপরিহার্য, কিন্তু আনুগত্যের খাতিরে আনুগত্য বা শৃঙ্খলা প্রদর্শন কখনো কাম্য হতে পারেনা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;শিশুর পূর্ণ বিকাশ ঘটিয়ে তাকে শিক্ষিত করে তোলার দ্বায়িত্ব যে শিক্ষকের তার মাঝে থাকা প্রয়োজন শ্রদ্ধা ও সম্মানবোধ। উষ্ণ অনুভূতি দিয়ে শিক্ষককে বুঝতে হবে শিক্ষার্থীর সীমাবদ্ধতাটা কোথায়। শিক্ষকের কর্তব্য এই নয় যে তিনি ছাত্রকে কোন ছাঁচে ঢেলে তৈরি করবেন। প্রতিটি মানুষ তার নিজের জীবনের রূপকার। ছাত্র স্বাধীনভাবে নিজের জীবন গড়ে তুলবে। শিক্ষক কেবল তার হাতকে সবল করে তুলবেন। ব্যক্তির জীবনের উদ্দেশ্য এমন নয় যে তা রাষ্ট্র বা কোন কর্তৃপক্ষ বা কোন প্রতিষ্ঠান তার উপর চাপিয়ে দিতে পারে। বরং এই উদ্দেশ্য থাকে তার নিজের মাঝে স্বীয় উদ্যমে উদ্ভাসিত। শিক্ষকের এই সত্যটি বুঝতে হবে তবেই তিনি পারবেন স্বাধীনতার নীতিকে খর্ব না করে প্রকৃত শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে। “তবে শিক্ষার্থীর জন্য স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষককে হতে হবে স্বাধীনÑ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রাসেলের মতে আধুনিক বিশ্বে যে কোন ধরণের বিজয় বা প্রাপ্তির জন্য বিনয়ের চেয়ে বৃদ্ধির ভূমিকা অধিক। বিনাবিচারে কোনকিছু গ্রহণ করে নেয়ার শিক্ষা মানবিক অবক্ষয়কে ত্বরান্বিত করে। সামান্যতম অগ্রগতির জন্য মুক্ত স্বাধীন অনুসন্ধিৎসা অপরিহার্য। বিশ্বাস স্থাপনের পরিবর্তে কোন শিক্ষা যদি গঠনমূলক সন্দেহের জন্ম দেয়, তা থেকে যদি অগ্রযাত্রা সাহসিকতার মহিমায় উজ্জ্বল হয় তবেই সে শিক্ষা প্রকৃত শিক্ষা। যদি শিক্ষাপ্রদানের নামে মানুষের প্রকৃত আকাক্সক্ষাগুলোকে লালন না করে কোন ছাঁচে ঢেলে অন্য কোন উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য যখন ব্যক্তিকে ব্যবহার করা হয় তখনই দেখা দেয় ব্যক্তিমনের অপূর্ণতা ও অসন্তোষ- এবং এ থেকে সৃষ্টি হয় সামাজিক বিশৃংখলা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রাসেল শিশুদের ভয় দেখিয়ে শাসন করে কিছু শিক্ষাদানের বিরোধী ছিলেন। রাসেলের মতে, বিভিন্ন নিষ্ঠুর মতবাদের মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তি খুঁজলে দেখা যায় ‘ভয়’ই হলো এসব মতবাদের প্রধান উৎস। এজন্য রাসেল শিশুদের জন্য শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে ‘ভয়'কে দূরীভূত করতে চেয়েছেন। শিশুদের সমস্ত ভয় এবং ধ্বংসাত্মক প্রবৃত্তি থেকে মুক্ত করলেই ভবিষ্যতে তাদের কাছে জ্ঞানের রাজ্য খুলে দেয়া সম্ভব। রাসেলের মতে, হাজারো প্রাচীন ভয় মানুষের স্বাধীন ও সুখী হওয়ার পথে বাঁধার সৃষ্টি করে। কিন্তু ভালবাসা ভয়কে জয় করতে পারে। শিশুদের ভালবাসার মাধ্যমেই ভবিষ্যতে সুখী সুন্দর বিশ্ব গড়ে তোলা সম্ভব।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রাসেল শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট যাবতীয় বিষয় নিয়েই সুচিন্তিত মতামত প্রকাশ করেন। রাসেল তার পতœী ডোরা ব্লাকের সঙ্গে যৌথভাবে ১৯২৭ সালে একটি শিশু শিক্ষালয় প্রতিষ্ঠা করেন যা পরবর্তীতে রাসেলের বেকনহিল স্কুল নামে খ্যাতি লাভ করে। এই স্কুলকেই তিনি তাঁর শিক্ষা সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করেন। শিক্ষাপদ্ধতি, শিক্ষার উদ্দেশ্য, বিষয় নির্বাচন, শিক্ষা ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ এসব বিষয় তিনি সুন্দরভাবে তুলে ধরেন তাঁর বিভিন্ন গ্রন্থে। এসবের বাইরে মূল্যবোধের সামাজিক উৎস সম্বন্ধেও রাসেল সচেতন ছিলেন। শুধুমাত্র নৈতিক বক্তৃতা দিয়ে সমাজের মূল্যবোধ বদলানো যায় না। শুধু শিক্ষার মধ্য দিয়েও নয়। সমাজে প্রচলিত নৈতিক ব্যবস্থাই শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রতিফলিত হয়। প্রচলিত নৈতিক ব্যবহার শ্রেণীচরিত্রের মত শিক্ষারও শ্রেণীচরিত্র শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য অর্জনে বাঁধার সৃষ্টি করে এবং মিথ্যার প্রচারণাকে পরোক্ষে উৎসাহিত করে। যেমন বিত্তের অসংগতিকে বুদ্ধির অসংগতি হিসাবে ভাবার প্রবণতা কেবল বিত্তবানদের সংস্কার হিসাবে আবদ্ধ থাকেনা, এ সংস্কার শিক্ষা পরিকল্পনার অধিকর্তাদের তথা সামগ্রিকভাবে সমাজের মানসিকতাকেও আক্রমণ করে। বৃহত্তর সমাজের মত শিক্ষায়তনের পরিবেশেও বিত্তবানের ঔদ্ধত্য ও দরিদ্রের দীনতাই স্বাভাবিকভাবে প্রশ্রয় পেতে তাকে। যা মূলত: মনুষ্যত্বের পক্ষে অবমাননাকর তথা শিক্ষার লক্ষ্যের পরিপন্থী। তাই রাসেলের মতে অন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত সমাজে শিক্ষার নৈতিক দিকটি যেমন হওয়া উচিত, তেমন কখনই হয়না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রাসেল যদিও আশাবাদী ছিলেন যে সুস্থ সমাজের অনেক লক্ষণের মধ্যে একটি হলো ঐ সমাজে সহমর্মিতা ও সহযোগিতার আবেগ দ্বেষ বা ঘৃণার আবেগকে স্থানচ্যূত করে সামাজিক পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। ঘৃণা ও দ্বন্দ্বকে নিষ্প্র্রয়োজনীয় ও নির্মুল করতে পারার মধ্যেই সমাজের মুক্তি। কিন্তু শুধু রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো বদলে ফেলার চেষ্টাতেই এই লক্ষ্যে উপনীত হওয়া যাবেনা। শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে সুচারু আবেগ ও সৃষ্টিময়তার উন্মেষের উপর জোর দিতে হবে বলে রাসেল মনে করেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রাসেল জ্ঞান ও ভালবাসাকেই ভবিষ্যৎ সমাজের চালিকাশক্তি হিসাবে ভেবেছেন। ব্যক্তির চেতনাতেই এই জ্ঞান ও ভালবাসা সত্যতা পায়। রাসেলের শিক্ষাচিন্তার মূলেও আছে ব্যক্তি। রাসেলের শিক্ষাদর্শনে ব্যক্তির অনন্যতা ও তার আবেগগত প্রয়োজনের কথা মনে রেখে ‘শ্রদ্ধাবোধ’কে শিক্ষাপদ্ধতির ভিত্তি বলে নির্দেশ করা হয়েছে। রাসেলের ভাষায় “সমষ্টিতে নয় ব্যষ্টিতেই চুড়ান্ত মূল্যমান আরোপ করতে হবে।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রাসেল ছিলেন মানবতাবাদী দার্শনিক। মানব কল্যাণের লক্ষ্যেই তিনি শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাসে মনোযোগী হন। যদিও রাসেলের শিক্ষাচিন্তাকে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাতত্ত্ব বলা যায় না। শিক্ষায় পরিপূর্ণ স্বাধীনতাও অনেক ক্ষেত্রে বিরূপ ফল বয়ে আনে যার জন্য রাসেল নিজেও কিছুটা নিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতার পক্ষে যুক্তি দেখিয়েছেন। আবার শিক্ষায় ধর্মের ভূমিকা ন-ঞর্থক বলে রাসেল মন্তব্য করলেও ধর্মের কিছুটা সদর্থক দিকের কথা অনেক মনীষী যেমন ডেল কার্নেগি, মনোবিজ্ঞানী ডা: এ. এ. ব্রিল প্রমুখ স্বীকার করেন। রাসেল নিজেও ধর্মের প্রেমের দিককে গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন। এসব নানা সমালোচনা করা গেলেও রাসেলের শিক্ষাচিন্তাকে মোটেও খাটো করে দেখার উপায় নেই। আধুনিক সুখী ও সমৃদ্ধশালী সমাজ গড়ার ক্ষেত্রে রাসেলের শিক্ষাচিন্তা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা গ্রহণে দিক-নির্দেশনা দিতে পারে। আজ যে মানবতার অপমান, মূল্যবোধের অবক্ষয় সমগ্র বিশ্বকে গ্রাসকরতে চলেছে, তা থেকে মুক্তির পথ শুধুমাত্র বিজ্ঞানের আবিষ্কার দেখাতে পারবেনা। তা পারে শিক্ষা - যে শিক্ষা মানব প্রেমে উদ্বুদ্ধ প্রতিটি ব্যক্তির মুক্তবুদ্ধির চর্চাকে অনুপ্রাণিত করবে। অতীতের নিস্ক্রয়তাকে পরিহার করে সৃজনশীল ভবিষ্যৎ গড়ার আদর্শে শিক্ষা হবে যুগধর্মী, প্রগতিশীল - যা হয়তো রাসেলের কল্পনার বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাবে। সবশেষে বলা যায় রাসেল থেকে আমাদের শিক্ষা সমস্যার সমাধান পাব তা নয়; তবে আমাদের শিক্ষা-সংক্রান্ত যাবতীয় সমস্যার উপায় সন্ধানে রাসেলের শিক্ষা চিন্তা আমাদের সহায়তা করবে, দিক নির্দেশনা দিতে পারবে। যার মূল্য আমাদের বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে অপরিসীম।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight: bold;"&gt;গ্রন্থপঞ্জি:&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;ol&gt;&lt;li&gt;Russell B. - Education and the Social Order&lt;/li&gt;&lt;li&gt;        " - On Education&lt;/li&gt;&lt;li&gt;       " - The Scientific Outlook&lt;/li&gt;&lt;li&gt;     " - Authority and the Individual&lt;/li&gt;&lt;li&gt;    " - Sceptical Essays&lt;/li&gt;&lt;li&gt;বার্ট্রান্ড রাসেল - সম্পাদক মফিজউদ্দিন আহমেদ, নতুন সংস্করণ সম্পাদক: খানম মমতাজ আহমেদ, মনন সমিতি, দর্শন বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়&lt;/li&gt;&lt;li&gt;দর্শন ও প্রগতি - ১৪ শ বর্ষ ১ম ও ২য় সংখ্যা জুন-ডিসেম্বর ১৯৯৭&lt;/li&gt;&lt;li&gt;দর্শন - বাংলাদেশ দর্শন সমিতির পত্রিকা ১৯৯৬&lt;br /&gt;&lt;/li&gt;&lt;/ol&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight: bold;"&gt;লেখক: সহকারী অধ্যাপক, দর্শন বিভাগ, আব্দুলপুর সরকারি কলেজ, আব্দুলপুর, নাটোর।&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/5243345960059992699-2956518995187885032?l=bigyanbodh.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/feeds/2956518995187885032/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/2008/08/blog-post_7395.html#comment-form' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/5243345960059992699/posts/default/2956518995187885032'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/5243345960059992699/posts/default/2956518995187885032'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/2008/08/blog-post_7395.html' title='রাসেলের শিক্ষা ভাবনা'/><author><name>সুশান্ত বর্মন</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='31' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/_j1L4QAM2tRw/SOzw6uaJHHI/AAAAAAAAChM/5kHx3973jbs/S220/su.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-5243345960059992699.post-6276981535650969428</id><published>2008-08-04T20:17:00.002+06:00</published><updated>2009-08-17T10:32:30.868+07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='ইতিহাস'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='নৃতত্ত্ব'/><title type='text'>বিজ্ঞানচর্চা ও বিজ্ঞান আন্দোলন</title><content type='html'>&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;span style="font-weight: bold;"&gt;এ. এন. রাশেদা&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;৩৫০ কোটি বছর পূর্বে পৃথিবীপৃষ্ঠে আদিমতর উদ্ভিদ জীবনের শুরু হয়েছে বলে মনে করা হয়। সালোক - সংশ্লেষণকারী আদিমতর উদ্ভিদের উৎপত্তির ফলেই প্রাণিজগৎ সৃষ্টি সম্ভব হয়েছে। জীবজগতের আবির্ভাবের বয়স মনে করা হয় ১৫০ কোটি বছর। দশ লক্ষ বছর পূর্বে আবির্ভাব ঋজু মানুষের, আদি হোমোসেপিয়েন্স [Homo-sapience] ২ লক্ষ ৫০ হাজার বছর পূর্বে। ১ লক্ষ ৫০ হাজার বছর আগে নিয়ান ডারথাল মানুষ, চল্লিশ হাজার বছর আগে ক্রো ম্যাগনন [উচ্চ অববাহিকার গুহা ও বস্কোপের অধিবাসী], অবশেষে আধুনিক মানুষ Homo-sapience। আর শিলালিপিতে বিভিন্নভাবে পাওয়া মানুষের ইতিহাস অর্থাৎ মোটামুটি ইতিহাসের অন্তর্ভুক্ত সময়কাল দশ হাজার বছরের। পণ্ড শিকার ও ফলমূল সংগ্রহই ছিল সেই সময়কার জীবন জীবিকার উপায়। গ্রীক ও রোমে মানব সভ্যতার প্রথম উন্মেষ ও বিকাশ ঘটে দু’ তিন হাজার বছর আগে। সেই সময়কার তিনজন ব্যক্তিত্বকে আমরা স্মরণ করতে পারি প্লেটো, এরিস্টোটল এবং থিওফ্রাস্টটাস।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ত্রয়োদশ শতাব্দী পর্যন্ত সময়কালকে মধ্যযুগ ধরা হয় এবং সে সময়কালে দেখা যায় গ্রীক ও রোমানদের সেই ঐতিহ্যের কথা ইউরোপবাসীর প্রায় ভুলতেই বসেছিল। ১৪০০ খ্রিঃ থেকে ১৬০০ খ্রিঃ পর্যন্ত ইউরোপে চলে শিল্প বিপ্লব, যাকে বলা হয় ‘রেনেসাঁ বা পুনর্জাগরনের যুগ’। এই যুগে বিজ্ঞানের জয়যাত্রা শুরু হয়। রেনেসাঁ পরবর্তি যুগেও বিজ্ঞানের সেই যুত্রা যা অব্যাহত রয়েছে। এই কথাগুলো বলার উদ্দেশ্য হলো দুই‘তিন হাজার বছর ধরে মানুষ প্রকৃতি এবং পারিপার্শ্ব থেকে যা কিছু জ্ঞান অর্জন করেছে তাকে বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করে ভুল বা নির্ভুল নির্ধারণের যে সময়কাল তা কিন্তু দু-তিন হাজার বছরের নয়। পৃথিবীর উৎপত্তি, জীবের উৎপত্তি, মানুষরূপী শ্রেষ্ঠ প্রাণীর আত্মপ্রকাশ ‘আমরা কিভাবে বেঁচে আছি’ কিভাবে ভূ-পৃষ্ঠে চলাফেরা করছি- এই ধারণাগুলোর বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ খুব বেশী দিনের নয়। স্যার আইজ্যাক নিউটন যাঁর জীবনকাল ১৬৪২-১৭২৭ পর্যন্ত, তিনি জানালেন মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কথা; এই মহাবিশ্বে যে কোনো দুটি বস্তুকণা পরস্পরকে আকর্ষণ করে এই আকর্ষণকে মহাকর্ষ বলে। এ ছাড়াও তিনি বস্তুর ভর, গতি ও বলের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে সূত্র প্রাকাশ করেন। এভাবে দেখা যায়-রবার্ট হুক কর্তৃক মোমবাতির আলোতে আলোকিত করে মাইক্রোস্কোপ আবিষ্কারও খুব বেশী দিনের নয়- ১৬৬৫ খ্রিষ্টাব্দে। এরপর থেকেই শুরু হয় এর জয়যাত্রা। খালি চোখে না দেখা জিনিসের এক বিস্ময়কর অস্তিত্ব।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মানুষ জানতে পারে জীবদেহ গঠনের কথা অর্থাৎ কোষের কোষের কথা, নিউক্লিয়াসের কথা। ক্রোমোজমের কথা, মাত্র এই শতাব্দীতে ১৯৫৩ সালে ডিএনএ [DNA]-এর কথা; আজ বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ধারণা-জীবনের শুরু এই ধরনের Molecule থেকেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিজ্ঞান গবেষণাগার প্রতিষ্ঠার ইতিহাসও খুব বেশী দিনের নয়। ইতালীয়ান জ্যোতির্বিজ্ঞানী গ্যালিলিও যাঁর জীবনকাল ১৫৬৪-১৬৪২ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত যিনি কোপর্নিকাসের (১৪৭৩-১৫৪৩) বক্তব্য সূর্যের চারদিকে পৃথিবীসহ সব গ্রহ ঘোরে বলে নিগৃহিত হয়েছিলেন তাঁর উদ্যোগেই ইতালীর রোম শহরে ১৬০৩ অব্দে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রথম বিজ্ঞান একাডেমি ‘একাডেমি ডাই লিপস’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এর মুখপত্রটিই ছিল পৃথিবীর সর্বপ্রথম বিজ্ঞান সাময়িকী। জার্মানীর লিওপোল্ডীয় একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৬৫২ সালে; ১৬৫৭ সালে ইতালীর ফ্লোরেল শহরে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘ফ্লোরেন্সীয়ান একাডেমি অব এক্সপেরিমেন্ট’। লন্ডন রয়্যাল সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৬৬২ সালে। এই সোসাইটির মুখপত্র Nature খুব খ্যাতি লাভ করেছে। French Academy of Sciences প্রতিষ্ঠিত হয় ১৬৬৬ সালে। মানব সভ্যতা শুরুর সময়কালের তুলনায় পৃথিবীব্যাপী এইসব বিজ্ঞান একাডেমি প্রতিষ্ঠার সময়কাল খুব বেশীদিনের নয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমারা যারা বিজ্ঞান চেতনা বা বিজ্ঞানমনস্কতা সৃষ্টির জন্য ‘বিজ্ঞানচেতনা পরিষদ’ বা ‘বিজ্ঞান মঞ্চে’, সমবেত হচ্ছি – আমাদের প্রয়োজন বিজ্ঞানচর্চার এবং তা ছড়িয়ে দেয়ার। আমরা আমাদের চারপাশের যে বদ্ধ ধারণা বা কুসংস্কারের কথা বলছি- তার উত্তর একমাত্র নিহিত বিজ্ঞানের ব্যাখ্যাদানের ওপর। আমাদের যেমন ধারণর সুজলা সুফলা পৃথিবীতে সভ্য মানুষ এসে বসবাস শুরু করেছে। কেউ আমাদের বানিয়ে পাঠিয়ে দিচ্ছে, তিনি যেমন চেহারা দিচ্ছে আমরা তারই মালিক হচ্ছি, কী কুদরতে আমরা সবাই ভিন্ন ভিন্ন চেহারার অধিকারী হচ্ছি, আমাদের যে পুত্র বা কন্যা সন্তান হচ্ছে- তাও তারই ইচ্ছা। আবার কন্যা সন্তানের জন্য মেয়েদেরকে দায়ী করে নিগৃহীত করা হচ্ছে- ইত্যাদি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অথচ এই প্রশ্নসমূহের জবাব বিজ্ঞানীদের জানা হয়েছে খুব বেশী আগে নয়। সাদামাটা ভাবে কিছু বিষয়ের ব্যাখ্যা ১৯ শতকে দিলেও মাত্র বিংশ শতাব্দীতে আরও সুশৃঙ্খলভাবে ব্যাখ্যা দিতে সমর্থ হয়েছেন বিজ্ঞানীগণ, বংশগতিবিদ্যা সম্পর্কে জানতে পেরে এবং DNA আবিষ্কারের পরে।&lt;br /&gt;পৃথিবীতে মানুষের আগমন সম্পর্কে প্রচলিত যে ধারণা তার বিপরীতে সামান্য কিছু প্রশ্ন করলে এর বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ সম্ভব। যেমন যে মানুষ পৃথিবীতে এল তারা কত বছর বয়সের ছিল? শিশু, কিশোর, প্রৌঢ় বা বৃদ্ধ কেমন চেহারার ছিল? এবং শুধু মানুষ তো নয়, এত প্রাণী অর্থাৎ জীবজন্তু গাছপালা যেমন- বটগাছ কি পৃথিবীতে বিশাল বিশাল ঝুড়ি নিয়ে এল না বীজ বা চারারূপে এল ইত্যাদি। আবার বিভিন্ন অঞ্চলের মানুসের বিভিন্ন চেহারা আফ্রিকান, আমেরিকান, রেড ইন্ডিয়ান, জাপানী, মঙ্গোলিয়ান। আমাদের দেশেও আমরা দেখতে পাই সাঁওতাল, রাখাইন, চাকমা, হাজং গারো প্রভৃতি। এক দম্পতি যদি পৃথিবীর সকল মানুষের পূর্বপুরুষ হন তাহলে এত আকৃতি প্রকৃতি বা লম্বা খাটো সাদা কালো অর্থাৎ এত বর্ণ কি করে সম্ভব?&lt;br /&gt;পৃথিবীতে একদিনে সকল জীবের আগমন যে ঘটে নাই- এর প্রমাণ মেলে জীবাশ্মে। কেননা, ভূ-স্তর খনন করে একই স্তরে একই ধরনের জীবাশ্ম পাওয়া যায় নি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: right;"&gt;&lt;span style="font-style: italic; color: rgb(255, 204, 0);"&gt;অসমাপ্ত&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/5243345960059992699-6276981535650969428?l=bigyanbodh.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/feeds/6276981535650969428/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/2008/08/blog-post_04.html#comment-form' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/5243345960059992699/posts/default/6276981535650969428'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/5243345960059992699/posts/default/6276981535650969428'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/2008/08/blog-post_04.html' title='বিজ্ঞানচর্চা ও বিজ্ঞান আন্দোলন'/><author><name>সুশান্ত বর্মন</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='31' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/_j1L4QAM2tRw/SOzw6uaJHHI/AAAAAAAAChM/5kHx3973jbs/S220/su.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-5243345960059992699.post-3787964138303144932</id><published>2008-07-22T23:53:00.001+06:00</published><updated>2009-08-17T10:32:30.964+07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='শিক্ষা'/><title type='text'>Education &amp; Pragmatic views: Dewey’s PHILOSOPHY OF EDUCATION</title><content type='html'>&lt;div class="entry"&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;     &lt;/div&gt;&lt;div class="snap_preview"&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt; &lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;span style="font-weight: bold;"&gt;Shibajee Dey&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;p&gt;John Dewey (1859-1952) was an American philosopher, educator and social critic. Dewey is probably best known for his philosophy of education. This is not a special branch of his philosophy, however it is claimed that all philosophy can be conceived of as the philosophy of education.&lt;/p&gt; &lt;p&gt;The key concept in Dewey’s philosophy is experience. Dewey presented a comprehensive and synoptic image of man and the universe. The entire universe consists of a multifarious variety of natural transactions. Man is at once continuous with the rest of nature and exhibits distinctive patterns of behaviors that distinguish him from the rest of the nature. His experience is also pervaded with qualities that are not reducible to less complex natural transactions. Thus Dewey attempted to place man within the context of the whole of nature.&lt;/p&gt; &lt;p&gt;Dewey’s philosophy is both realistic and optimistic. In Dewey’s view, philosophy is dependent on, but should attempt to transcend, the specific culture from which it emerges. The function of philosophy is to effect a junction of the new and the old, to articulate the basic principles and values of a culture, and to reconstruct these into a more coherent and imaginative vision. Philosophy is therefore essentially critical and, as such, will always have work to do. For as the complex of tradition, values, accomplishments and aspirations that constitute a culture changes, so must philosophy change. Indeed, in pointing the way to new ideals and in showing how these may be effectively realized, philosophy is one of the means for changing a culture. Philosophy is continually faced with the challenge of understanding the meaning of evolving cultures and civilizations and of articulating new projected ideals.&lt;/p&gt; &lt;p&gt;Dewey is the inventor of instrumentalism. From Dewey’s perspective, there are no absolute first truths that are given or known with certainty. Furthermore, knowledge neither has nor requires such a foundation in order to be rational. Inquiry and its objective, knowledge, are rational because inquiry is a self-corrective process by which we gradually become clearer about the epistemological status of both our starting points and conclusions . We must continually submit our knowledge claims to the public test of a community of inquirers in order to clarify, refine and justify them.&lt;/p&gt; &lt;p&gt;Dewey’s thinking on education is based on his pragmatic view. It is essential to appreciate the dialectical context in which Dewey developed his educational ideals. He was critical to the excessively rigid and formal approach to education that dominated the practice of most American schools in the later part of the nineteenth century. He argued that such an approach was based upon a faulty psychology in which the child was thought of as a passive creature upon whom information and knowledge had to be imposed. But Dewey was equally critical of the “new education”, which was based on a sentimental idealization of the child. This child-oriented approach advocated that the child himself should pick and choose what he wanted to study. This approach also was based on a mistaken psychology, which neglected the immaturity of the child’s experience. Education is, or ought to be, a continuous reconstruction of experience in which there is a development of immature experience toward experience enriched with the skills and habits of intelligence. The slogan “Learn by doing” was not intended as a credo for anti-intellectualism but, on the contrary was meant to call attention to the fact that the child is naturally an active, curious and exploring creature. A properly designed education must be sensitive to this active dimension of life and must guide the child, so that through his participation in different types of experience his creativity and autonomy will be cultivated rather than stifled.&lt;/p&gt; &lt;p&gt;Like Aristotle, Dewey believed that the function of education is to encourage those habits and dispositions that constitute intelligence. Dewey placed great stress on creating the proper type of environmental conditions for eliciting and nurturing these habits. His conception of the educational process is therefore closely tied to the prominent role that he assigned to habit in human life. Education as the continuous reconstruction and growth of experience also develops the moral character of the child.&lt;/p&gt; &lt;p&gt;Dewey also thought of the school, as an ideal miniature society is the chief means for social reform. In the controlled social environment of the school it is possible to encourage the development of creative individuals who will be able to work effectively to eliminate existing evils and institute reasonable goods. The school therefore, is the medium for developing the set of habits required for systematic and open inquiry and for reconstructing experience that is endowed with greater harmony and aesthetic quality.&lt;/p&gt; &lt;p&gt;Dewey perceived actually the threat posed by unplanned technological, economic and political development to the future of democracy. The natural direction of these forces is to increase human alienation and to undermine the shared experience that is so vital for the democratic community. For this reason, Dewey placed so much importance on the function of the school in the democratic community. The school is the most important medium for strengthening and developing a genuine democratic community, and the task of democracy is forever the creation of a freer and more human experience in which all share and participate.&lt;/p&gt; &lt;/div&gt;   &lt;span style="font-weight: bold;"&gt;Writer:  Assistant Professor,  Department of Philosophy, Abdulpur Govt. College, Natore.&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;span id="”fullpost”"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/5243345960059992699-3787964138303144932?l=bigyanbodh.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/feeds/3787964138303144932/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/2008/07/education-pragmatic-views-deweys_22.html#comment-form' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/5243345960059992699/posts/default/3787964138303144932'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/5243345960059992699/posts/default/3787964138303144932'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/2008/07/education-pragmatic-views-deweys_22.html' title='Education &amp;amp; Pragmatic views: Dewey’s PHILOSOPHY OF EDUCATION'/><author><name>সুশান্ত বর্মন</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='31' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/_j1L4QAM2tRw/SOzw6uaJHHI/AAAAAAAAChM/5kHx3973jbs/S220/su.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-5243345960059992699.post-6647079983925538251</id><published>2008-07-17T21:50:00.001+06:00</published><updated>2009-08-17T10:32:30.856+07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='ইতিহাস'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='নৃতত্ত্ব'/><title type='text'>মানুষের ক্রমবিকাশের ধারা</title><content type='html'>&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;span style="font-weight: bold;"&gt;মানুষের ক্রমবিকাশের ধারা&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight: bold;"&gt;সৈয়দ আমীরুল ইসলাম&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘এপ’ জাতীয় জীব থেকে মানুষের উদ্ভব বলে আধুনিক নৃবিদরা মনে করেন। এসব এপ বা এর উত্তররসুরিদের দাঁত, চোয়ালের হাড়, মাথার খুলি, পায়ের হাড়, হাতের অংশবিশেষ ইত্যাদি সারা পুথিবীর নানা স্থানে পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত নিদর্শনের ওপর ভিত্তি করে এসব প্রাণীর ক্রমবিবর্তনের আলোচনা নৃবিদরা করেছেন। এদের মধ্য দিয়ে মানুষের ক্রমবিকাশের ধারাটি যথেষ্ট পরিষ্কারভাবে ফুটে ওঠে। এখানে সংক্ষেপে এ মানুষের ক্রমবিবর্তনের এই রূপটি তুলে ধরা হলো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight: bold;"&gt;এপ্&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;মানব জাতির খুব কাছাকাছি এক ধরনের প্রাণী হলো এপ। এ রকম প্রধান প্রাণী আছে চারটি, শিম্পানজি, গিবন, গরিলা এবং ওরাং ওটাং। এদের দেহ লোমে ভরা। লেজ নেই। পায়ের চেয়ে দীর্ঘ হলো হাত। হাত ও পায়ের আঙুল লম্বা লম্বা। মস্তিষ্ক বেশ বড়। বুদ্ধি মানুষের কাছাকাছি। শারীরিক দিকে এরা অনেকটা মানুষের মতো। অনেক বিজ্ঞানীর ধারণা এদের এবং মানবজাতির পূর্বপুরুষ ছিল এবই কোন জীব; কিন্তু এরা মানুষের পা হাতের চেয়ে দীর্ঘ। দেহে লোম অনেক কম।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বানরের সাথেও এদের বেশ মিল রয়েছে, তবে এপ্-এর মত বুদ্ধি বানরের নেই। অনেক বাসরের লেজ রয়েছে। বানর চার হাত-পা এপ্-এর চেয়ে আরো স্বচ্ছন্দে ব্যবহার করে গাছে গাছে ঝাঁপাঝাঁপি, ঝোলাঝুলি এবং মাটিতে দৌড়াদৌড়ি করতে পারে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আকারে গরিলা সবচেয়ে বড়, তারপর ওরাং-ওটাং এবং তারপর শিম্পানজি। সবচেয়ে ছোট হলো গিবন। খাদ্য হিসেবে গরিলা লতাগুল্ম ও চারাগাছ এবং অন্যেরা গাছের ফুল খেয়ে থাকে। গিবন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বনে-জঙ্গলে পাওয়া যায়। শিম্পানজি দেখা যায় পশ্চিম এবং পূর্ব আফ্রিকায়। গরিলা পাওয়া যায় পশ্চিম এবং মধ্য আফ্রিকার জঙ্গলে এবং পূর্ব আফ্রিকার পার্বত্য বনাঞ্চলে। ওরাং ওটাং এশিয়া মহাদেশের বোর্নিও এবং সুমাত্রার জঙ্গলে বাস করে। পুরুষ ও মেয়েরা গিবন বাচ্চাসহ পরিবারের মত বসবাস করে। শিম্পানজি বিশ থেকে চল্লিশটি পর্যন্ত একত্রে থাকে। ওরাং ওটাং মাধারণত একা থাকে, তবে মেয়েরা সন্তানাদি নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। বয়স্ক পুরুষ গরিলাদের পিঠে সাদা লোম গজায় এবং এদেরই একজন দলনেতা হিসাবে বিশটি পর্যন্ত সঙ্গে নিয়ে একত্রে ঘুরে বেড়ায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight: bold;"&gt;হোমিনিড&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;‘হোমিনিড’ শব্দটি বোঝায় মানবসদৃশ অর্থাৎ দেখতে মানুষের মত কোন জীব। এপ এবং মানুষের বানর থেকে আলাদা করে বোঝানোর জন্য হোমিনিড শব্দ ব্যবহৃত হয়। হোমিনিড মানবসদৃশ হলেও এটি ঠিক ‘এপ’ কে বোঝায় না। হোমিনিড হলো সত্যিকার মানন কিংবা মানুষের মত প্রাণী যার সাথে মানুষের সরাসরি সম্পর্ক আছে। অর্থাৎ এ ধরনের জীব থেকেই মানুষের উদ্ভব।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্লিওপিথেকাস হলো সর্বপ্রাচীন এক ধরনের প্রোটো-এপ। অনেকটা আধুনিক গিবন-এর মত দেখতে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight: bold;"&gt;প্রোকনসাল আফ্রিকানাস&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;১৯৩১ খ্রীষ্টাব্দে আফ্রিকা মহাদেশের কেনিয়া অঞ্চলে ‘এপ’ জাতীয় জীবের ফসিল পাওয়া যায়। এদের সাধারণ নাম প্রোকনসাল। ১৯৪৭-এ আরো এদের বহু দেহবিশেষ পাওয়া যায়-চোয়াল, দাঁত, হাড়গোড় এবং মস্তিষ্কের খুলি। ভূতাত্ত্বিক হিসেবে মাইয়োসিন যুগের এরা অধিবাসী। শিম্পানজির আকার থেকে গরিলার আকার পর্যন্ত এরা হতো। লেজযুক্ত বানর থেকে লেজবিহীন এপ ধরনের জীবের এরা অন্তর্বতী স্তর বলে মনে করা হয়। কেউ কেউ মানুষ এবং এনথ্রপয়েড এপ জাতীয় মাঝখানের কোন বিলুপ্ত প্রাণীর সঙ্গে এরা সম্বন্ধযুক্ত বলে মনে করেন। শিম্পাঞ্জির পূর্বপুরুষবলে অনুমিত বর্তমানকালে যে এনথ্রপয়েড এপ ড্রাইপিথেকাস নামে পরিচিত এদেরই আগে প্রোকনসাল বলা হতো। ইউরোপ, ভারত এবং চীনে এদের ফসিল পাওয়া গেছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight: bold;"&gt;রামাপিথেকাস&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;রামাপিথেকাস এক ধরনের ‘এপ’। ৮০ লক্ষ থেকে ১ কোটি ৪০ লক্ষ বছর আগে এরা জীবিত ছিল। ১৯৩২ খ্রীস্টাব্দে আমেরিকার নৃবিজ্ঞানী জর্জ ই-লুইস এদের প্রথম আবিষ্কার করেন। চোয়ালের অংশবিশেষ এবং কয়েকটি দাঁত তিনি উদ্ধার করেন। উত্তর ভারতের দিকে এগুলো পাওয়া যায়। তিনি এদের নাম দেন রামপিথেকাস। সংস্কৃত ভাষার মহাকাব্য রামায়ণ-এর নায়ক ‘রাম’-এর নাম অনুসারে এ নাম প্রদান করা হয়েছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন রামপিথেকাস হলো হোমিনিড অর্থাৎ মানব জাতীয় জীবের অন্তর্ভুক্ত। ১৯৭০-এর পর এদের প্রচুর ফসিল পাওয়া গেছে। সে-সব গবেষণা করে বর্তমানে ধারণা করা হয় যে, এরা ওরাং ওটাং জাতীয় জীবের পূর্বপুরুষ। এরা এশিয়ায় বসবাস করতো। তবে অন্য স্থানেও এদের ফসিল পাওয়া গেছে। ভারত ছাড়া পাকিস্তান, তুরস্ক, চীন, হাঙ্গেরি, কেনিয়া ইত্যাদি অঞ্চলেও এদের অস্তিত্ব মেলে। এদের খাদ্য ছিল বিভিন্ন ধরনের বিচি, গাছগাছালির শেকড় এবং নানা জাতীয় বীজ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight: bold;"&gt;কেনিয়াপিথেকাস&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;১৯৬২ খ্রীস্টাব্দে প্রখ্যাত নৃবিদ লুই সাইমর বেজেট লেকি আফ্রিকার কেনিয়া অঞ্চলে এপসদৃশ প্রাণীর চোয়াল এবং কয়েকটি দাঁত উদ্ধার করেন। এগুলো আনুমনিক এককোটি চল্লিশ লক্ষ বছর আগের বলে তিনি ধারণা করেন। এই নিদর্শনগলোর তিনি নাম দেন ‘কেনিয়াপিথেকাস’। পরবর্তীতে এগুলোর আরো চিহ্ন এ অঞ্চলে পাওয়া গেছে। বিশ লক্ষ বছর আগে এ অঞ্চলে মানুষের প্রথম আবির্ভাব হয়েছিল বলে নৃতত্ত্ববিদগণ মনে করেন। উল্লিখিত প্রাপ্ত নিদর্শনগুলো তাদেরই কোন পূর্বসূরির হতে পারে বলে মনে হয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight: bold;"&gt;অস্ট্রালোপিথেকাস&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;বহু নৃবিদ মনে করেন যে অস্ট্রালোপিথেকাস হলো মানব জাতীয় জীবের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন। এরা আফ্রিকায় বসবাস করতো। চল্লিশ থেকে দশ লক্ষ বছর আগে এরা জীবিত ছিল। অস্ট্রালোপিথেকাস শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ অস্ট্রালিস [অর্থ দক্ষিণ] এবং গ্রীক শব্দ পিথেকাস [অর্থ এপ] থেকে। এদের প্রথম হোমিনিড বলা হয়। আগেই বলা হয়েছে হোমিনিড হলো মানবজাতি এবং প্রাগৈতিহাসিক মানবসদৃশ জীবগোত্রভূক্ত জীব।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অনেকে চার ধরনের অস্ট্রালোপিথেকাস চিহিত করেন: ১. অস্ট্রালোপিথেকাস আফ্রিনেসিস- চল্লিশ লক্ষ বছর আগে পুর্ব আফ্রিকার অধিবাসী ছিল এরা; ২. অস্ট্রালোপিথেকাস আফ্রিকানাস – ২৫ লক্ষ বছর আগে পূর্ব আফ্রিকায় জীবিত ছিল; ৩. অস্ট্রালোপিথেকাস বোইসেই – ২৫ লক্ষ বছর আগে পূর্ব আফ্রিকায় এদের দেখা যেতো; এবং ৪. অস্ট্রালোপিথেকাস রোবাস্টাস – ২০ লক্ষ বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় এরা ছিল।&lt;br /&gt;অস্ট্রালোপিথেকাস সোজা হয়ে দাঁড়াতে এবং দু পায়ে ভর দিয়ে হাঁটতে পারতো। এরা চার থেকে পাঁচ ফুট [১২০ থেকে ১৫০ সেন্টিমিটার] দীর্ঘ হতো। এদের মস্তকের পরিমাপ ছিল আধুনিক মানুষের মস্তিষ্কের তিন ভাগের এক ভাগ। বহু নৃবিদ মনে করেন ক্ষুদ্র অস্ট্রালোপিথেকাস থেকেই মানুষের উদ্ভব হয়েছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১৯২৪ খ্রীস্টাব্দে এদের ফসিল প্রথম পাওয়া যায়। অস্ট্রেলিয় নৃবিদ রেমন্ড এ, ডার্ট একটি শিশুর মাথার খুলি দক্ষিণ আফ্রিকায় পান। তিনি একে হোমিনিডভুক্ত জীব বলে মনে করেন কিন্তু অনেকে আবার একে বিলীন হয়ে যাওয়া এপ এর শেষ চিহ্ন বলে মনে করেন। প্রাপ্ত বিভিন্ন ফসিল থেকে এদের বর্তমানে হোমিনিড বলেই বিজ্ঞানীরা মনে করছেন। ইথিওপিয়া, তানজানিয়া ইত্যাদি অঞ্চলেও এদের ফসিল পাওয়া গেছে। এসব ফসিল দেখে মনে হয় মানবসদৃশ এইসব জন্তু মানুষ কর্তৃক অস্ত্র তৈরির আরো বহু আগে থেকেই – প্রায় বিশ লক্ষ বছর আগেই সোজা খাড়াভাবে হাঁটতে পারতো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight: bold;"&gt;হোমো হেবিলিস; দক্ষ মানুষ&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;ল্যাটিন ‘হোমো’ শব্দের অর্থ মানুষ, আর ‘হেবিলিস’ অর্থ দক্ষ। এ থেকে এদের বলা যায় দক্ষ মানুষ। এদের ফসিলের সঙ্গে পাওয়া গেছে সবচেয়ে প্রাচীন হাতিয়ারপাতি। মনে হয়, এরাই এসব হাতিয়ারের প্রস্তুতকারী। নৃবিজ্ঞানীদের অধিকাংশই হোমো হেবিলিসকে মানুষের সবচেয়ে প্রাচীন পূর্বপুরুষ বলে মনে করেন।&lt;span style="font-style: italic; color: rgb(255, 0, 0);"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/5243345960059992699-6647079983925538251?l=bigyanbodh.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/feeds/6647079983925538251/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/2008/07/blog-post_17.html#comment-form' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/5243345960059992699/posts/default/6647079983925538251'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/5243345960059992699/posts/default/6647079983925538251'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/2008/07/blog-post_17.html' title='মানুষের ক্রমবিকাশের ধারা'/><author><name>সুশান্ত বর্মন</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='31' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/_j1L4QAM2tRw/SOzw6uaJHHI/AAAAAAAAChM/5kHx3973jbs/S220/su.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-5243345960059992699.post-1386934963916123682</id><published>2008-06-24T22:49:00.001+06:00</published><updated>2009-08-17T10:32:30.840+07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='বিজ্ঞানচিন্তা'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='সচেতনতা'/><title type='text'>বুদ্ধিবৃত্তিক আবর্জনা</title><content type='html'>&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;span style="font-weight: bold;"&gt;বুদ্ধিবৃত্তিক আবর্জনা&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight: bold;"&gt;বার্ট্রান্ড রাসেল&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;আত্মগরিমাই [ব্যক্তিগত কিংবা বংশগত] হলো অধিকাংশ ধর্ম বিশ্বাসের উৎস। পাপের ধারণাও আত্মগরিমা প্রসূত। বরো এক নিঃসঙ্গ ওয়েলশ্ ধর্ম প্রচারকের সাথে সাক্ষাতের কথা বর্ণনা করেছেন। সহানুভূতির সাথে প্রশ্ন করে তিনি সেই ধর্মপ্রচারকের নিঃসঙ্গতার কারণ জানতে পেয়েছেন। সাত বছর বয়সে সেই ওয়েলশ্ ধর্ম প্রচারক পবিত্র আত্মার (Holy ghost) বিরুদ্ধে এক ‘পাপ’ করেছিলেন। একথা শুনে বরো বললেন, ‘প্রিয় বন্ধু, সেজন্য চিন্তা করোনা। তোমার মতো অনেকেই একই সমস্যায় ভোগে। তাদের সংখ্যা দেখলে তুমি তাজ্জব বনে যাবে। একটিমাত্র ঘটনার কারণে গোটা মানব সমাজ থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখোনা।’ একথা শোনার পরমুহূর্ত থেকেই তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। একাকীত্বকে তিনি জয় করেছিলেন, কিন্তু বিশাল পাপীদলের অন্তর্ভুক্ত হওয়া মোটেই আনন্দের ছিল না। অধিকাংশ পাপীর আত্মশ্লাঘা অপেক্ষাকৃত কম, কিন্তু ধর্মতাত্ত্বিকরা এই ভেবে সন্তুষ্ট হন যে, ঈশ্বরের ভালবাসার মতো তাঁর ক্রোধের লক্ষ্যবস্তুও মানুষই। স্বর্গ থেকে পতনের পর যেমন মিল্টন আশ্বাস দিয়েছেন-&lt;blockquote&gt;The Sun Had fist his precept so to move, so shine, As might affect the Earth cold and heat Scarce tolerable, and from the north to call Decrept winter, from the south to bring Solstitial summer’s heat.&lt;/blockquote&gt;যতই মতবিভেদ থাকুক না কেন, তাঁকে শিক্ষা দেওয়ার জন্যই যে এই মহাকাশ-ব্যবস্থার সৃষ্টি এই বিশ্বাস থেকে আদমকে বিচ্যুত করা কঠিন। সব ধর্মতত্ত্বেই মহাবিশ্বে সকল সৃষ্টির মধ্যে মানুষের মাহাত্ম্যকে বিস্তৃতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। হোক না সে ধর্মতত্ত্ব স্বর্গ কিংবা নরক সম্পর্কে-সবখানেই মানুষ হলো সৃষ্টির সেরা জীব। সকল ধর্মতাত্ত্বিক মানুষ বিধায় এই দাবির সামান্যই বিরোধিতা হয়েছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিবর্তনবাদের প্রচলনের পর মানুষের মাহাত্মারোপ নূতন রূপ নিয়েছে। বলা হচ্ছে, এক মহান উদ্দেশ্যে বিবর্তন সাধিত হয়েছে। লক্ষ লক্ষ বছর আগে ডাইনোসর ও বিশালাকৃতি ফার্ণ লতাগুল্মের যুগে- যখন কেবল কর্দমাক্ত মাটি ছিল, সে সময় ঈশ্বর পরিবেশ সৃষ্টি করছিলেন। সর্বশেষে সৃষ্টি করলেন মানুষ। যার নমুনা নীরো ও ক্যালিগুলা, হিটলার ও মুসোলিনী, যাদের সীমাতিক্রান্ত গৌরব ঈশ্বরের এই দীর্ঘ সৃষ্টি প্রক্রিয়াকে সার্থক করেছে। আমার কাছে ঈশ্বরের সর্বময় ক্ষমতার পক্ষে গোঁড়াযুক্তির চেয়ে অনন্ত নরক যন্ত্রণা কম অবিশ্বাস্য ও কম হাস্যকর মনে হয়। যদি ঈশ্বর সত্যিই সর্বশক্তিমান হয়ে থাকেন তাহলে ওই দীর্ঘ ও শ্লথ ভূমিকা ছেড়ে কেন দ্রুত সেই গৌরবময় সৃষ্টি প্রক্রিয়া সমাপ্ত করলেন না?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ধর্মতাত্ত্বিকদের দাবিমতো মানুষেই সৃষ্টির সেরা জীব কিনা সে প্রশ্নের মীমাংসায় না গেলেও আরেকটা সমস্যা থাকে। সেটি এই যে, এই গ্রহে মানুষের জীবন নিশ্চিতরূপেই সাময়িক। একদিন পৃথিবী শীতল হয়ে যাবে, বায়ুমন্ডল উধাও হবে, পানির অভাব দেখা দেবে কিংবা স্যার জেমস্ জীনস্ যেমন অমায়িক ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন তেমনটিও ঘটতে পারে। তাঁর মতে, সূর্য বিস্ফোরিত হবে এবং সকল গ্রহ গ্যাসে পরিণত হবে। এর মধ্যে কোনটি আগে ঘটবে বলা যায় না। কিন্তু যেমন করেই হোক মানবজাতি যে নিশ্চি‎‎‎হ্ন হয়ে যাবে এটা নিশ্চিত। অবশ্য গোঁড়া ধর্মতাত্ত্বিকদের নিকট ব্যপারটা মোটেই গুরুত্ববহ নয়। কারণ তাদের মতে মানুষের আত্মা অবিনশ্বর এবং মৃত্যুর পর পৃথিবীতে কেউ না থাকলেও মানুষ বেঁচে থাকবে পরকালে; স্বর্গে ও নরকে। যদি তাই হয়, তাহলে পার্থিব উন্নতির ব্যাপারে এত মাথাব্যথা কেন? যারা আদিমকালের আঠালো মাটি থেকে মানুষের উৎপত্তির উপর গুরুত্বারোপ করে তারা অজান্তেই এই পার্থিব জগতের উপর গুরুত্বারোপ করে। তারা এই উপসংহারে আসতে দ্বিধাগ্রস্ত যে, পৃথিবীতে আমাদের এই জীবন ঘোলাটে ভাব ও অসীম কুয়াশার মাঝে সামান্য বিশ্রাম মাত্র। সৌরজগতের ভবিষ্যত সম্পর্কিত বিজ্ঞানের চিন্তাধারা ধর্মতাত্ত্বিকদের অন্যতম মতবাদ মানুষের শ্রেষ্ঠত্বকে মোটেই সমর্থন করে না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আত্মগরিমা ছাড়াও মিথ্যা বিশ্বাস জন্মানোর আরো কারণ আছে। তার একটি হলো বিস্ময়ের প্রতি অনুরাগ। আমি এক বিজ্ঞানমনস্ক জাদুকরকে দেখেছি যিনি সীমিত সংখ্যক দর্শকের সামনে তাঁর কৌশল প্রদর্শন করতেন এবং প্রতিক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া অর্থাৎ তারা  প্রত্যেকে কী দেখেছে তা তাদের দ্বারা লিখিয়ে নিতেন। সবসময়ই বাস্তবে যা দেখানো হতো দর্শকরা তার অধিক কিছুর বর্ণনা দিতেন। অনেক সময় এমন সব বর্ণনা পাওয়া যেত যা কোন জাদুকরের পক্ষে ঘটানো সম্ভব নয়। অথচ নিজ চক্ষে যা দেখেছেন তাই লিখেছেন বলে প্রত্যেকেই দাবি করতেন। গুজবের ক্ষেত্রে এরকম মিথ্যাকরণ আরো সত্য। যেমন ক, খ-কে বলল যে সে মদ নিষিদ্ধকরণের পক্ষপাতী, অমুককে সামান্য মাতাল অবস্থায় দেখেছে। তখন খ, গ-কে বলল যে, ক একটা ভাল মানুষকে মাতাল অবস্থায় গড়াগড়ি যেতে দেখেছে; গ তখন ঘ-কে বলবে যে, লোকটিকে অচেতন অবস্থায় গলির ড্রেন থেকে তোলা হয়েছে। তারপর ঘ, ঙ-কে বলবে যে, লোকটিকে প্রায়ই সন্ধ্যায় গুঁড়িখানায় যেতে দেখা যেত। এরকম ক্ষেত্রে আরেকটা উদ্দেশ্য কাজ করে সোজা কথায় যাকে বলা যায় বিদ্বেষ। আমরা প্রতিবেশীদের সম্পর্কে খারাপ ধারণা পোষণ করতে ভালবাসি। সে কারণেই অতিসামান্য নিদর্শনেই অন্যের সম্পর্কে খারাপ ধারণা অল্পে বদ্ধমূল হয়ে যায়। কিন্তু যদি কোন ক্ষেত্রে এরকম উদ্দেশ্য নাও থাকে, তবে বিস্ময়কর কোনকিছূকে অতিসহজেই বিশ্বাস করা হয়, যদি না তা কোন শক্ত সংস্কারের বিপক্ষে যায়। অষ্টাদশ শতাব্দীর আগ পর্যন্ত ইতিহাস পূর্ণ ছিল নানা বিস্ময়কর কাহিনীতে, যা বর্তমান ঐতিহাসিকরা এড়িয়ে যান। সত্য ওসব ঘটনা থেকে অনেক দূরে বলে, বর্তমান ঐতিহাসিকরা তা পছন্দ করেন না এই কারণে যে, বিজ্ঞান কোনটাকে সম্ভবপর বলে মনে করে সেটা তারা ভেবে দেখেন। সীজারের মৃত্যুর আগের রাতের বর্ণনার শেকসপীয়র লিখেছেন-&lt;br /&gt;&lt;blockquote&gt;A common slave – you know him well by sight-&lt;br /&gt;Held up his left hand, which did fiame and burn&lt;br /&gt;Like twenty torhes join’d; and yer his hand,&lt;br /&gt;Not sensides- I have not since put up my sword-&lt;br /&gt;Against the Capitol I met a lion,&lt;br /&gt;Who glar’d upon me, and went surly by,&lt;br /&gt;Without annoying me, and there were drawn&lt;br /&gt;Upon a geap a hundred ghastly women.&lt;br /&gt;Transformed with their fear, who swore they saw&lt;br /&gt;Men all in fire walk up and down the strees.&lt;/blockquote&gt;সেকসপীয়র এসব তথ্য উদ্ভাবন করেননি। জুলিয়াস সীজার সম্পর্কে জানার জন্য আমরা যেসব ঐতিহাসিকের সাহায্য নিই সেকসপীয়র তাদের মাঝেই ওসব তথ্য পেয়েছেন। কোন মহান ব্যক্তির মৃত্যু কিংবা কোন যুদ্ধের শুরুতে এরকম বর্ণনার সাক্ষাত প্রায়শই মেলে। এমনকি অতিসম্প্রতি ১৯১৪ সালেও শোনা গেল। ‘স্বর্গীয় দেবদূতরা’ ব্রিটিশ সেনাদের উদ্দীপিত করেছে। এরকম কোন ঘটনার নতুন নতুন ধারণা তৈরি করা হয়- যা অধিকাংশ ইতিহাসবেত্তাই বর্তমানে গ্রহণ করতে রাজি নন, যদি না কোন ধর্মীয় গুরুত্ববহ বিষয় হয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রতিটি গাঢ় আবেগই অতিবাস্তব কিংবদন্তি তৈরির প্রবণতাবিশিষ্ট। সেই আবেগ যদি হয় ব্যক্তিবিশেষের এবং সে যদি নিজের উদ্ভাবিত কল্পকাহিনীর প্রতি অবিচল আস্থা পোষণ করে, তাহলে সে ব্যক্তির ভাগ্যে পাগল আখ্যা জোটে। কিন্তু যদি সে আবেগটা সামষ্টিক হয়, [যেমন যুদ্ধের ক্ষেত্রে হতে পারে] তবে এর ফলে উদ্ভূত অতিবাস্তবতাকে সংশোধন করার কেউ থাকে না। অধিকন্তু কোন সামষ্টিক উত্তেজনার ক্ষেত্রে অলক্ষিত গুজব বেশি বিশ্বাস অর্জন করে। ১৯১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইংল্যান্ডের প্রায় সকলেই বিশ্বাস করেছিল যে, রুশ সেনাবাহিনী ইংল্যান্ড অতিক্রম করে পশ্চিম রণাঙ্গনে পৌঁছে গেছে। বাস্তবে কেউই কোন রুশ সৈন্যকে যেতে দেখেনি, কিন্তু সকলেই বিশ্বাস করেছিল যে কেউ-না কেউ দেখেছে। এই কল্পকাহিনী তৈরির প্রবণতা অনেকক্ষেত্রেই নিষ্ঠুরতার সঙ্গে সম্পর্কিত। মধ্যযুগ পর্যন্ত ইহুদিদেরকে তান্ত্রিক হত্যাকান্ডের জন্য অভিযুক্ত করা হতো। এই অভিযোগের পক্ষে সত্যিকার কোন প্রমাণ নেই। এবং কোন সুস্থ মস্তিস্কের লোক এ ব্যাপারে অনুসন্ধান করে এই অভিযোগ বিশ্বাস করতে পারে নি। তবু এই বিশ্বাস প্রচলিত আছে। আমি এমন অনেক সাদা চামড়ার রুশকে দেখেছি যারা এ বিশ্বাস দ্বারা প্রভাবান্বিত  এবং অনেক নাৎসি বিনা প্রশ্নে তা মেনে নিয়েছে। এরকম কল্পকাহিনী নির্যাতনের ক্ষেত্র তৈরি করে এবং তাদের এই বিশ্বাস অবচেতন মনে নির্যাতনের শিকার খুঁজবারই প্রয়াস।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত এই ধারণা প্রচলিত ছিল যে, প্রেতাত্মা ভর করার কারণেই মানুষের মাঝে পাগলামি দেখা দেয়। বলা হতো, এরকম ক্ষেত্রে রোগী সে যন্ত্রণা ভোগ করে প্রকৃতপক্ষে ভর করে থাকা প্রেতাত্মাই তার ভাগীদার। সে কারণে উত্তম কাজ হলো রোগীকে যত বেশী সম্ভব নির্যাতন করা, যাতে প্রতাত্মা সেই নির্যাতন সহ্য করাতে না পেরে পালিয়ে যায়। এই মতানুসারে পাগলকে নির্মমভাবে প্রহার করা হতো। রাজা তৃতীয় জর্জ পাগল হয়ে গেলে তার ওপরও এই চিকিৎসাপদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছিল, কিন্তু সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। বেশ কৌতুককর ও বেদনাদায়ক তথ্য এই যে, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রচলিত বেশিরভাগ পদ্ধতিই ছিল রোগীর পক্ষে যন্ত্রণাদায়ক। অনুভূতিনাশক ঔষধ আবিস্কৃত হওয়ার পর ধার্মিকরা ভাবল যে, এটা হলো ঈশ্বরের ইচ্ছা কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা। তবু দেখা গেল, আমাদের পাঁজরের হাড় সংগ্রহের সময় ঈশ্বর আদমকে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছিল। সে কারণে পুরুষের জন্য অনুভূতিনাশক ঔষধ (Anaesthetics)  ব্যবহার যথাযথ। কিন্তু নারীর ক্ষেত্রে অন্যরূপ, বিবি হাওয়ার অভিশাপের কারণে তাদের যন্ত্রণাভোগ নির্ধারিত। পশ্চিমের দেশগুলোতে নারীর ভোটাধিকার এই মতবাদ প্রত্যাখান করেছে, কিন্তু এখনও জাপানে সন্তান প্রসবের সময় অনুভূতিনাশক ঔষধ ব্যবহার করে যন্ত্রণা লাঘব নিষিদ্ধ। জাপানীরা সৃষ্টিতত্ত্বে (Genesis) বিশ্বাস করে না, সেহেতু এই ধর্ষকামের পক্ষে নিশ্চয় অন্য কোন যুক্তি আছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘বংশ’ ও ‘রক্ত’ সম্পর্কিত স্ববিরোধী যুক্তি পরস্পরার কোন নির্মোহ যৌক্তিকতা নেই। যদিও তা বেশ জনপ্রিয় এবং নাৎসীবাহিনীর সরকারী ধর্ম বিশ্বাসরূপে গৃহীত। ওসব বিশ্বাসের কারণ হলো এই যে তা নিজেকে উচ্চমূল্যসম্পন্ন বলে ভাবতে প্রেরণা যোগায়, এবং অনেক ক্ষেত্রেই নিষ্ঠুরতার দিকে চালিত করে। বিভিন্নরূপে এসব বিশ্বাস সভ্যতার শুরু থেকে বিদ্যমান। এগুলোর বাহ্যিক রূপ বদলায় মাত্র, কিন্তু অন্তর্নিহিত ভাব একই থাকে। সাইরাস নিজ রাজকীয় রক্ত সম্পর্কে অজ্ঞাত থেকে বিভাবে কৃষকদের মাঝে বেড়ে উঠেছিলেন হেরোডোটাস তা বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, বারো বছর বয়সে অন্যান্য রাখাল বালকদের সাথে সাইরাসের রাজোচিত ব্যবহারই সত্যকে প্রকাশ করে। হেরোডোটাসের এই কাহিনী ইন্দো-ইউরোপীয় দেশসমূহে প্রচলিত প্রাচীন কাহিনীর প্রকারান্তর মাত্র। এমনকি আধুনিক কালের মানুষও বলে ‘রক্তই কথা বলবে’। এক কালো নিগ্রো আর শাদা মানুষের রক্তের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই, কোন শারীরতাত্ত্বিকের একথা ঘোষণা করার প্রয়োজন পড়ে না। আমেরিকা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে আমেরিকান রেডক্রস কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে এই ঘোষণা দিল যে, রক্ত পরিসঞ্চালনের জন্য কোন নিগ্রোর রক্ত নেয়া হবে না। এর ফলে বিক্ষোভ দেখা দিলে এই সিদ্ধান্তে আসা হয় যে, নিগ্রো রক্ত গ্রহণ করা হবে কিন্তু তা কেবল নিগ্রো রোগীদের জন্যই ব্যবহৃত হবে। তেমনি জার্মানীতে আর্য সৈন্যদের রক্তের প্রয়োজনের সময় লক্ষ্য রাখা হলো যাতে ইহুদী রক্তের সংমিশ্রণে তাদের রক্ত দূষিত না হয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বংশ (Race) সম্পর্কে বিভিন্ন বিশ্বাস প্রচলিত আছে। রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত আছে এমন জায়গায় সবসময় দেখা যায় রাজা প্রজার চেয়ে উঁচু বংশের। কিছুদিন আগ পর্যন্ত একথা সবাই বিশ্বাস করতো যে জন্মগতভাবে নারীর চেয়ে পুরুষের বুদ্ধিমত্তা বেশি। এই প্রেক্ষিতে স্পিনোজার মতো আলোকিত মানুষও নারীর ভোটাধিকারের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। সাদা মানুষেরা  বিশ্বাস করে যে অন্যান্য গাত্রবর্ণ, বিশেষ করে কালো বর্ণের চেয়ে তার বর্ণ শ্রেয়। অন্যদিকে জাপানীরা ভাবে সকল বর্ণের মধ্যে হলুদ গাত্রবর্ণই শ্রেষ্ঠ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;হাইতির লোকজন যীশুর মূর্তি বানায় সাদারঙে আর শয়তানেরটা কালোরঙে। এরিস্টটল ও প্লেটো বর্বরদের তুলনায় গ্রীকদের এতই উত্তম মনে করেছিলেন যে দাস প্রথার ক্ষেত্রে কেবল গ্রীক প্রভুর জন্য বর্বর দাস-ই অনুমোদন করেছেন। আমেরিকার অভিবাসন আইন প্রণেতারা শ্লাভ, ল্যাটিন বা অন্য কোন সাদা বর্ণের মানুষের চেয়ে নর্ডিকদের প্রাধান্য দেন। যুদ্ধের মাধ্যমে নাৎসিবাহিনী এই সিদ্ধান্তে এসেছে যে, জার্মানীর বাইরে কোন নর্ডিক থাকতে পারে না, কুইসলিং ও তার অনুসারী ছাড়া আর সব নরওয়েবাসীই ফিন ও অন্যান্য গোত্রের সাথে মিশে বিশুদ্ধতা হারিয়েছে। এ ভাবেই রাজনীতি গোষ্ঠী নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়েছে। জীবতাত্ত্বিক ভাবে বিশুদ্ধ নর্ডিক হিটলারকে ভালবাসে। আর যদি কেউ না ভালবাসে তাহলে সেটা তার ভেজাল রক্তের প্রমাণ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জ্ঞাত ব্যক্তিমাত্রই এসবকে অর্থহীন উক্তি বলে সাব্যস্ত করেন। আমেরিকার স্কুলগুলোতে একই শিক্ষাব্যাবস্থায় বিভিন্ন গোত্রের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করে। এসব বিদ্যালয়ে নিজ গোষ্ঠী-প্রীতি বাদ দিয়ে কেউ যদি ছাত্র-ছাত্রীদের বুদ্ধ্যাঙ্ক (I.Q.) পরিমাপ করে তাহলে বংশগত মতবাদের প্রবক্তাদের মতো বুদ্ধ্যাঙ্কের ক্ষেত্রে গোত্রগত কোন পার্থক্য বের করতে পারবে না। প্রতিটি জাতি বা গোত্রে চালাক শিশুর মতো হাবাগোবা শিশুও আছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে সাদা শিশুর সমতালে অন্য বর্ণের শিশুর বিকাশ ঘটতে নাও পারে। এর কারণ তাদের প্রতি সামাজিক হীনতারোধ। কিন্তু সামাজিক প্রভাব থেকে সহজাত সামর্থ্যকে পৃথক করা গেলে বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে স্পষ্ট কোন পার্থক্য পাওয়া যাবে না। বংশের কৌলিন্যের ধারণা ক্ষমতাসীনদের দাম্ভিক আত্ম-শ্রদ্ধার ফলে সৃষ্ট অতিকথামাত্র। হয়তো এমন একদিন আসবে যখন অন্য নির্দশণ পাওয়া যাবে এবং শিক্ষকরা বলতে পারবেন যে অ-ইহুদিদের তুলনায় ইহুদিদের বুদ্ধিমত্তা চলনসই। কিন্তু সেই নিদর্শণ না পাওয়া পর্যন্ত কূলীন বংশ সম্পর্কে আলোচনাকে অর্থহীন প্রলাপ বলে উড়িয়ে দেয়া ছাড়া উপায় নেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ইউরোপীয় জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে গোত্রীয়তত্ত্ব প্রয়োগে অসামঞ্জস্য লক্ষণীয়। ইউরোপের কোথাও খাঁটি ‘বংশ’ বলে কিছু নেই। রুশরা বেশিরভাগই তাতার (Slavonic)। ফরাসীরা হলো কেল্টিক, জার্মান ও ভূমধ্যসাগরীয় অধিবাসী গোত্রের মিশ্রণ। ইতালীও তাই, তবে তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রোমানদের আনা দাসদের রক্ত। ইংরেজ সম্ভবত সবচেয়ে বেশি রক্তের মিশ্রণ। খাঁটি বংশে জন্মগ্রহণের সুবিধা আছে এরকম কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। এখনও যেসব খাঁটি বংশ টিকে আছে সেগুলো হলো- পিগমি Pygmies), হটেনটট Hotentos, অস্টেলীয় আদিবাসী এবং তাসমানিয়ার আধিবাসীরা কোন উৎকৃষ্ট সংস্কৃতির ধারক নয়। প্রাচীন গ্রীকরা ছিল বর্বর Barbarians ও অসম্ভ্রান্ত বংশীয় লোকদের মিশ্রণ। সুসভ্য এখনীয় ও আইয়োনীয়রা ছিল আরো বেশি সংকর জাতি। খাঁটি বংশের উৎকর্ষের ধারণা পুরোপুরি কাল্পনিক।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-style: italic; color: rgb(255, 0, 0);"&gt;সংক্ষেপিত&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/5243345960059992699-1386934963916123682?l=bigyanbodh.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/feeds/1386934963916123682/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/2008/06/blog-post_1349.html#comment-form' title='3 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/5243345960059992699/posts/default/1386934963916123682'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/5243345960059992699/posts/default/1386934963916123682'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/2008/06/blog-post_1349.html' title='বুদ্ধিবৃত্তিক আবর্জনা'/><author><name>সুশান্ত বর্মন</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='31' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/_j1L4QAM2tRw/SOzw6uaJHHI/AAAAAAAAChM/5kHx3973jbs/S220/su.jpg'/></author><thr:total>3</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-5243345960059992699.post-3468859575702382876</id><published>2008-06-15T20:48:00.001+06:00</published><updated>2009-08-17T10:32:30.818+07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='বিজ্ঞানচিন্তা'/><title type='text'>বিজ্ঞান দর্শন</title><content type='html'>&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;span style="font-weight: bold; color: rgb(153, 0, 0);"&gt;বিজ্ঞান দর্শন&lt;br /&gt;শিবাজী দে&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;সহকারী অধ্যাপক&lt;br /&gt;আব্দুলপুর সরকারি কলেজ, নাটোর।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;বিজ্ঞান দর্শন দর্শনের অন্যান্য শাখা যেমন- মনোদর্শন, ধর্মদর্শন, নীতিদর্শন, রাষ্ট্র-দর্শন ইত্যাদি শাখার মতই একটি শাখা। প্রকৃতপক্ষে দর্শন বিষয়টিই জ্ঞানের একটি অনন্য শাখা হিসেবে শিক্ষার অন্যান্য বিষয় যেমন জীববিদ্যা, পদার্থবিদ্যা, ইতিহাস, ভূগোল এগুলো থেকে বৈশিষ্ট্যগতভাবে আলাদা। অন্যান্য বিষয়ের মতো দর্শনের যেমন কোন সুনির্দিষ্ট বিষয় নেই, তেমনি সম্ভাব্য সকল বিষয়বস্তুই দর্শনের অন্তর্ভুক্ত এবং কোন না কোনভাবে যে কোন বিষয়েই দর্শনের প্রবেশাধিকার থাকে। মূলত: দর্শনকে তার বিষয়বস্তু দিয়ে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা বিফলে পর্যবসিত হয় বরং একে এক অনন্য সুশৃঙ্খল পদ্ধতি ও তার আবেদনের দিক থেকে সংজ্ঞায়িত করলেই বুঝতে সুবিধা হয়। দর্শন তার বিচার বিশ্লেষণের পদ্ধতির সাহায্যে জীবন ও জগতের বিভিন্ন মৌলিক সমস্যাগুলি (যেগুলো যে কোন বিষয় থেকে উদ্ভূত হতে পারে) সমাধানের চেষ্টা করে। এদিক থেকে বিজ্ঞান থেকে উদ্ভূত নানা মৌলিক প্রশ্নগুলি যার সমাধান শুধুমাত্র পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণের মাধ্যমে পাওয়া যায় না, বিজ্ঞানের পদ্ধতিগুলো যেগুলো বিভিন্ন বিভাগের জন্য আলাদা এবং সমন্বয়হীন, বিজ্ঞানের ভিত্তিগুলো সুদৃঢ় কি না ইত্যাদি বহু প্রশ্নের সমাধানের চেষ্টায় দর্শনের একটি শাখা হিসাবে জ্ঞান দর্শনের সৃষ্টি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;উনবিংশ শতাব্দী থেকে শুরু করে একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে বিজ্ঞান মানব-জীবনের উপর সর্বাত্মক প্রভাব ফেলেছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারে জীবনের প্রতিটি দিকই আরো গতিশীল হচ্ছে। এদিক থেকে বিজ্ঞান-দর্শনও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে বিজ্ঞানকে এক সুশৃঙ্খল, সন্দেহাতীত জ্ঞানের শাখা এবং অন্যান্য বিষয়ের সাথে এর সমন্বয় করার চেষ্টা চালাচ্ছে। বিজ্ঞানের বিভিন্ন তত্ত্ব, মানবজীবনে এসব তত্ত্বের প্রভাব, এগুলোর সাথে সমাজ ও মানবিক মূল্যবোধের তুলনা ও সমন্বয় সাধন এসব নিয়েই বিজ্ঞান-দর্শন বিচার বিশ্লেষণ ভিত্তিক আলোচনা করে চলেছে। তাই বলা যায়, মানব জীবনের বাস্তব প্রয়োজনেই বিজ্ঞান-দর্শনের আবির্ভাব। বিজ্ঞান-দর্শন মূলত কি জাতীয় কাজগুলো করে তারই একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা করার প্রয়াস এখন নিচ্ছি।&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: left;"&gt;&lt;span style="font-style: italic;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;বিজ্ঞান-দর্শন মনে করে বিজ্ঞান যে সব ধারণার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠে এবং যে সব ধারণা তারা বিভিন্ন তত্ত্ব বা মতবাদ হিসেবে উপস্থাপন করে সেসব ধারণাকে পরিস্কার করা ও শুদ্ধিকরণ দর্শনের একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কাজ। বিজ্ঞান-দর্শনের দার্শনিকরা বিশ্বাস করেন বিভিন্ন প্রতীক সম্পর্কে পরিস্কার বর্ণনা এবং আনুপূর্বিক বিবৃতি অধিবিদ্যক বিভিন্ন অনুমান পরিহার করতে সহায়তা করে। তা না হলে অধিবিদ্যক বিভিন্ন অনুমান থেকে সহজেই বিচারহীন তত্ত্বমূলক কোন অঙ্গীকার সৃষ্টি হতে পারে যা ঘটনার প্রকৃত অবস্থাকে আড়াল করে রাখে। বিজ্ঞান-দর্শন সাধারণ ভাষার বিভিন্ন বৈচিত্রময় ব্যবহারের মধ্যে সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্টগুলো বের করে এবং বিজ্ঞানের বিভিন্ন অনুসন্ধানের পদ্ধতিগুলোতে যেসব ভাষা ব্যবহার করা হয়, তাদের মধ্যে পার্থক্য করার চেষ্টা করে। সাধারণ ভাষায় অনেক অস্পষ্টতা বা দ্ব্যর্থকতা থাকে তাই বিজ্ঞানের অনুসন্ধান কাজে ব্যবহারের জন্য ভাষাকে সুনির্দিষ্ট, পরিস্কার ও প্রাঞ্জল হওয়া প্রয়োজন। তাই বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ভাষা বা প্রতীক (ভাষাও এক ধরণের প্রতীক) গুলোকে সুনির্দিষ্ট ও প্রাঞ্জল করার কাজকেও বিজ্ঞান-দর্শন গুরুত্ব দেয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিজ্ঞান-দর্শনের দার্শনিকরা প্রকৃত বিচার্য বিষয়ের সাথে ধারণাগত বিষয়ের মধ্যে যে পার্থক্য থাকে তার বিশ্লেষণ করে। অন্যকথায় তারা মনে করে আমরা বিশ্ব-প্রকৃতি সম্পর্কে যা বলি তা থেকে যখন কোন ভাব বা ধারণা নিয়ে আলোচনা করার সময় যা বলি তা সম্পূর্ণরূপে অন্যরকম। উদাহরণস্বরূপ যখন আমরা বলি, "খুব বেশী পরিমাণে আহার করার পর আমার বদহজম হয়েছিল" তা থেকে যখন বলি "অতিভোজনে বদহজম হয়" কথাটি ভিন্ন ধরণের। প্রথম দৃষ্টান্তে আমরা বাস্তব জগতের কোন ঘটনা সম্পর্কে বলি। কিন্তু দ্বিতীয় দৃষ্টান্তে আমরা কারণ ও কার্যের মধ্যে সম্পর্কের যে ধারণা, সে সম্পর্কে বলি। বিজ্ঞান-দর্শনের দার্শনিকরা সতর্ক পর্যবেক্ষণ ও বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিভিন্ন ধারণা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট অর্থ উদ্ভাবন করে। এর ফলে মানবীয় যোগাযোগের কাঠামোবদ্ধ আকারের সাথে ধারণাগুলি সঙ্গতি স্থাপন করতে পারে। বিজ্ঞান-দর্শন বাস্তব ঘটনাবলী বা মূল্য প্রসঙ্গে ঢিলেঢালাভাবে কোন মন্তব্য করাকে বিজ্ঞানের তত্ত্বগুলোর জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিজ্ঞান-দর্শনের দার্শনিকরা বিজ্ঞানীদের দেয়া বিভিন্ন ধারণা ও বিবৃতিগুলোকে সতর্কভাবে পরীক্ষা করে দেখে যে তারা যথাযথ ও নির্ভুলভাবে সংজ্ঞায়িত হয়েছে কি না এবং সেগুলো সংগতিপূর্ণভাবে সম্পর্কিত কি না। এ জাতীয় অতিসতর্ক প্রহরার কাজে কখনো কখনো প্রতীকী যুক্তিবিদ্যা ব্যবহার করা হয়। তবে এরা বিজ্ঞানের গবেষণার বিষয়বস্তু বা বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের বিশেষ কৌশল সম্বন্ধে বিশেষ উৎসাহী হয় না বরং বিশেষ ধরণের প্রয়োজনীয় প্রশ্ন উত্থাপন করে যার উত্তর অবশ্যই একমাত্র ধারণাগত স্তরেই পাওয়া সম্ভব। যেমন:&lt;br /&gt;&lt;ul&gt;&lt;li&gt;কখন এবং কি পরিস্থিতিতে আংশিক ও বিশেষ প্রাপ্ত তথ্য থেকে সার্বিকীকরণ বা সাধারণীকরণ করা বৈধ হবে?&lt;/li&gt;&lt;li&gt;বৈজ্ঞানিক নিয়ম বলতে প্রকৃতপক্ষে কি অর্থ বোঝায়?&lt;/li&gt;&lt;li&gt;যখন বলা হয় কোনকিছু 'কারণ' দ্বারা ঘটেছে, তার প্রকৃত অর্থ কি?&lt;/li&gt;&lt;li&gt;পর্যবেক্ষণকৃত ভাষা কি বিজ্ঞানের সকল শাখার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?&lt;/li&gt;&lt;li&gt;বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে কোন গোপনীয় বা সন্দেহজনক কোন পদ্ধতির ক্ষেত্রে কৃত্রিম ভাষা প্রযোজ্য হবে কি না। - ইত্যাদি&lt;/li&gt;&lt;/ul&gt;এভাবে বিজ্ঞান-দর্শনের দার্শনিকরা বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের যাবতীয় বিষয় থেকে সম্পূর্ণ অন্যধরণের এক বিশিষ্ট কার্য সম্পাদন করে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে এবং বিভিন্ন শাখায় এদের ব্যবহারও বহুবিধ। বিজ্ঞান দর্শন এসব নানারকম পদ্ধতি এবং এদের ব্যবহার সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে জানার চেষ্টা করে। আবার বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব বলতে কি বোঝায়, তারা কিভাবে কাজ করে এবং এদের সত্যতা কিভাবে প্রতিপাদন করা হয়। সহজভাবে বলা যায় - কোন তত্ত্ব বৈজ্ঞানিক স্তরে উন্নীত হয় যদি তা পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণের ভিত্তিতে গৃহীত হয় এবং পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণের মাধ্যমে এই তত্ত্ব সত্য বলে প্রমাণিত হলে তা আমরা বিশ্বাস করি। তবে এ জাতীয় বক্তব্যের সমস্যা হলো এগুলো একদিক থেকে বেশী ব্যাপক আবার অন্যদিক থেকে খুবই সংকীর্ণ। এ কথাটা খুব বেশী ব্যাপক এই অর্থে যে, প্রায় সব মতবাদই বৈজ্ঞানিক হিসেবে গৃহীত হতে পারে। যেমন প্রাচীন একটি তত্ত্ব ছিল যা বলতো যে পৃথিবী কচ্ছপের পিঠে স্থির হয়ে আছে। এই তত্ত্বটিও পর্যবেক্ষণের উপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছিল। ধারণা করা হতো - পৃথিবী মহাকাশ থেকে গড়িয়ে কেন পরে না, নিশ্চয়ই কচ্ছপের পিঠে স্থির থাকার জন্যই পৃথিবীও স্থির হয়ে আছে। এ জাতীয় প্রাচীন বিভিন্ন তত্ত্ব যা এখন হাস্যকর মনে হতে পারে, সেগুলো সে সময় পর্যবেক্ষণের উপর নির্ভর করেই মানুষের ধারনা গড়ে উঠেছিল। আবার বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব সম্পর্কিত বক্তব্যটি খুবই সংকীর্ণ এই কারণে যে সকল বৈজ্ঞানিক তত্ত্বগুলোকেই যেগুলো সত্য হিসেবে স্বীকৃত তাদেরকে বিবেচনার অযোগ্য বলেও প্রমাণ করা যায়। যেমন 'কার্য-কারণ' তত্ত্বে বিশ্বাসের উপরই সকল বিজ্ঞান দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু 'কার্য-কারণ' তত্ত্বের বৈধতা সম্পর্কেও প্রশ্ন তোলা যায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রকৃতপক্ষে কোন একক তত্ত্বকে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণ দ্বারা সত্য বলে প্রমাণ করা যায় না। সেখানে সবসময়ই পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণের মাধ্যমে প্রাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণগুলোর উন্মুক্ত ও অনির্দিষ্ট সম্ভাব্য তাত্ত্বিক ব্যাখ্যার সুযোগ থাকবে। যেমন জ্যোতির্বিদ্যায় কোপার্নিকাসের সূর্যকেন্দ্রিক মতবাদ দ্বারা টলেমী'র ভূ-কেন্দ্রিক জ্যোতির্বিদ্যা ভুল বলে প্রমাণিত হয়েছিল। মূলত: কোপার্নিকাসের তত্ত্ব বাস্তব অভিজ্ঞতার সাথে সংগতিপূর্ণ ছিল, কিন্তু টলেমীর তত্ত্ব তা ছিল না। যদিও টলেমীর তত্ত্বের মাধ্যমেও অনেক জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাস্তব অভিজ্ঞতার সাথে সংগতিপূর্ণ করা যেতো। টলেমীর তত্ত্ব বাতিল হওয়ার আরেকটি কারণ এর জটিলতা ও অস্পষ্টতা। তাই বলা যায় বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব (যা আমরা সত্য হিসেবে প্রমাণ করে বিশ্বাস করি) এবং অভিজ্ঞতা (যা তত্ত্বের স্বপক্ষে আংশিক বা কখনো সম্পূর্ণরূপে অনুমোদন করে) এই দুই এর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক নিরূপন করা খুব সহজ বিষয় নয়। শুধুমাত্র অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান দিয়ে কোন তত্ত্বে পৌঁছানো যায় না বা এর সত্যতা প্রমাণ করা যায় না। সেক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক কি তা বের করার চেষ্টা করা বিজ্ঞান-দর্শনের একটি প্রধান কাজ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মূলত: বিজ্ঞান-দর্শন বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি যেগুলো সত্যতা অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাদের শুদ্ধতা রক্ষা তথা সংশোধন, ও প্রয়োজনে পরিমার্জনের দিক-নির্দেশনা দেয়। কোন বৈজ্ঞানিক তত্ত্বে কোন ভাবে কোন অধিবিদ্যক বিষয়াদি প্রবেশ না করতে পারে, কিংবা কোন বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব কোন বিশ্বাস দ্বারা প্রভাবিত না হয় সে বিষয়ে বিজ্ঞান-দর্শন অতন্দ্র প্রহরী হয়ে কাজ করে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/5243345960059992699-3468859575702382876?l=bigyanbodh.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/feeds/3468859575702382876/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/2008/06/blog-post_4553.html#comment-form' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/5243345960059992699/posts/default/3468859575702382876'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/5243345960059992699/posts/default/3468859575702382876'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/2008/06/blog-post_4553.html' title='বিজ্ঞান দর্শন'/><author><name>সুশান্ত বর্মন</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='31' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/_j1L4QAM2tRw/SOzw6uaJHHI/AAAAAAAAChM/5kHx3973jbs/S220/su.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-5243345960059992699.post-3887382477930824927</id><published>2008-06-09T15:18:00.002+06:00</published><updated>2009-08-17T10:32:30.791+07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='মহাকাশ'/><title type='text'>রহস্যময় টাইটানের নতুন খবর</title><content type='html'>&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;a onblur="try {parent.deselectBloggerImageGracefully();} catch(e) {}" href="http://2.bp.blogspot.com/_j1L4QAM2tRw/SFUq5YQ9TCI/AAAAAAAABzQ/6O2Bec2hmK0/s1600-h/tt.jpg"&gt;&lt;img style="margin: 0pt 10px 10px 0pt; float: left; cursor: pointer;" src="http://2.bp.blogspot.com/_j1L4QAM2tRw/SFUq5YQ9TCI/AAAAAAAABzQ/6O2Bec2hmK0/s320/tt.jpg" alt="" id="BLOGGER_PHOTO_ID_5212119309005704226" border="0" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;span style="font-weight: bold; color: rgb(153, 0, 0);"&gt;রহস্যময় টাইটানের নতুন খবর&lt;br /&gt;মোহাম্মদ&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;চাঁদ ছাড়া সৌর জগতের অন্যান্য উপগ্রহের নাম খুব একটা পরিচিত না। তবে মহাকাশ বিষয়ে যাদের সামান্য আগ্রহও রয়েছে তারাই টাইটান নামটি জানেন। কারণ প্রাণের সম্ভাবনা থাকায় অনেক দিন থেকেই মহাকাশ বিষয়ক আলোচনার মধ্যমনি হয়ে আছে এই উপগ্রহটি। শনির উপগ্রহ টাইটান সম্বন্ধে এক নতুন খবর প্রকাশ করেছে নাসার জেপ প্রপালশন ল্যাবরেটরি, এই ২০শে মার্চে। ক্যাসিনি নভোযান থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষক দল জানিয়েছে, টাইটানের পুরু ভূত্বকের নিচে পানি এবং মিথেনের বিশাল সাগর থাকতে পারে। ব্যাপারটা আমার কাছে আরও মজার লেগেছে আরেকটি কারণে। গতকালই আর্থার সি ক্লার্কের করা ভবিষ্যৎবাণীগুলো অনুবাদ করেছি। ক্লার্ক এক জায়গায় বলেছেন, ২০৫৭ সালে মহাকাশ যুগের ১০০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপিত হবে। শুধু পৃথিবীতে নয়, একই সাথে চাঁদ, টাইটান, ইউরোপা ইত্যাদি জ্যোতিষ্কে বসবাসকারী মানুষেরা একসাথে এই দিবস পালন করবে। এটা পড়ার পর থেকেই চারটি উপগ্রহ নিয়ে নতুন যেকোন তথ্যের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নতুন কিছু জানার পর তা নিয়ে আরও কিছু জানা হতে থাকে অবিরাম। লক্ষ্য করলে যে কেউ এই তত্ত্বের সত্যতা খুঁজে পাবেন নিজের জীবনে। সেই তত্ত্ব মেনে আর্থার সি ক্লার্কের প্রবন্ধটি অনুবাদ করার পরদিনই সাইন্স ওয়ার্ল্ডে পেয়ে গেলাম টাইটানের রমরমা খবর, যে খবরটার কথা বললাম এখানে। এই বিষয়ের গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক হলেন রাল্‌ফ লরেঞ্জ। লরেঞ্জ, জন হপকিন্স অ্যাপ্লাইড ফিজিক্স ল্যাবরেটরির ক্যাসিনি রাডার বিজ্ঞানী। লরেঞ্জ এ সম্বন্ধে কি বলেছেন, তা-ই দেখা যাক প্রথমে:&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;"জৈব বালিয়াড়ি, হ্রদ, প্রণালী আর পাহাড়, সব মিলিয়ে টাইটান হয়ে উঠেছিল সৌর জগতের সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় এবং সক্রিয় জ্যোতিষ্ক। এখন দেখা যাচ্ছে, পুরো সৌর জগতে পৃথিবীর সাথে সাদৃশ্য সবচেয়ে বেশী এই টাইটানের। ...আমরা আরও দেখছি, টাইটানের ঘূর্ণন প্রক্রিয়া পরিবর্তিত হয়। এই পরিবর্তনের কারণেই আমরা টাইটানের অভ্যন্তরভাগে অনুসন্ধান চালাতে পারি।"&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ক্যাসিনি-হ্যোইগেন্‌স ১৯৯৭ সালে শনির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। পথিমধ্যে শুক্র আর বৃহস্পতির সাথে দেখা করে পৌঁছে যায় গন্তব্যে। হ্যোইগেন্স সন্ধানী যান আর ক্যাসিনি নভোযান দুয়ে মিলে শুরু করে শনি চর্চা। শনির বলয় আর তার উপগ্রহগুলোর বিস্তর পর্যবেক্ষণ শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আবিষ্কৃত হয় টাইটানের বিস্ময়কর সব ফিচার। একটি নভোযান যখন কোন জ্যোতিষ্কের বেশ কাছ দিয়ে অতিক্রম করে তখন তাকে নভোযানটির ফ্লাইবাই বলে। ক্যাসিনি আর টাইটানের মধ্যে এরকম অনেকগুলো ফ্লাইবাই ঘটেছে। এসব ফ্লাইবাই থেকে টাইটান সম্বন্ধে অনেক তথ্যের সন্ধান মিলেছে। জানা গেছে টাইটানের বায়ুমণ্ডল অতি পুরু, তবে সে বায়ুমণ্ডল ভেদ করে ক্যাসিনি দৃষ্টি নিক্ষেপ করতে পারে। আর পুরো টাইটান বরফের পুরু স্তরে আবৃত। এই বরফ স্তরের নিচে পানি আর মিথেনের সাগর থাকতে পারে, এমন তথ্য কিভাবে বের করলো বিজ্ঞানীরা, সে কথাই বলবো এবার:&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অভিযানের বিজ্ঞানীরা সবাই মিলে ক্যাসিনির সিনথেটিক অ্যাপার্চার রাডারের মাধ্যমে ২০০৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০০৭ সালের মে মাস পর্যন্ত টাইটানের প্রচুর ছবি ও তথ্য পেয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে ক্যাসিনি মোট ১৯ বার টাইটানকে ফ্লাইবাই করেছে। ফ্লাইবাইয়ের সময় টাইটানের পুরু জৈব বায়ুমণ্ডলের নিচে কি আছে তাও দেখতে পেয়েছে ক্যাসিনি, ক্যাসিনির চোখ দিয়ে দেখেছেন বিজ্ঞানী মহল। আর ক্যাসিনির সন্ধানী যান হ্যোইগেন্স তো স্বয়ং টাইটানে অবতরণ করেছে। এভাবে উপগ্রহটির ভূত্বকে প্রায় ৫০টি ভৌগলিক ফিচারের অবস্থান চিহ্নিত করেছেন তারা। আগে টাইটানের যে তথ্যগুলো পাওয়া গিয়েছিলো তার সাথে মেলানো হয়েছে নতুন তথ্যগুলো। মেলাতে গিয়েই বিস্মিত হয়ে হয়েছে বিজ্ঞানীদের। দেখা গেছে টাইটানের কোন কোন ভৌগলিক ফিচার যেমন হ্রদ, প্রণালী বা পাহাড় সর্বোচ্চ ১৯ মাইল পর্যন্ত সরে গিয়েছে। অর্থাৎ টাইটানের ভূত্বকের ফিচারগুলো স্থান পরিবর্তন করছে। এটি কেবল তখনই সম্ভব, যদি পুরু এবং শক্ত ভূত্বকের নিচে কোন সাগর তথা তরল অংশের অস্তিত্ব থাকে। এই তরল অংশের কারণেই কেবল ভূত্বক নড়তে পারে। এ বিষয়ে জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানী এবং এ সংক্রান্ত গবেষণাপত্রের অন্যতম লেখক "ব্রায়ান স্টাইল্‌স" বলেছেন,&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;"আমরা বিশ্বাস করি, টাইটানের বরফ এবং জৈব পদার্থে নির্মিত পুরু বহিরাবরণের প্রায় ৬২ মাইল নিচে অ্যামোনিয়া মিশ্রিত তরল পানির সাগর রয়েছে।"&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;শনির ৭টি উপগ্রহের মধ্যে টাইটান সর্ববৃহৎ। এর বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর থেকে ১.৫ গুণ পুরু। ক্যাসিনি-হ্যোইগেন্স প্রেরণ করা হয়েছে কেবল শনি ও তার উপগ্রহগুলোকে পর্যবেক্ষণ করার জন্য। সফল হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কারণ টাইটান জ্যোতির্জীববিজ্ঞানীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। জীবন সৃষ্টির জন্য দুইটি জিনিস লাগে, পানি এবং জৈব অণু। দুটিই রয়েছে টাইটানে। তাছাড়া টাইটানের গভীর সমুদ্রে যে পরিবেশ বিরাজ করছে তা প্রাণের সৃষ্টির সময় পৃথিবীর পরিবেশের সমতুল্য। টাইটানের রহস্য উন্মোচিত হলে পৃথিবীতে প্রাণের উদ্ভবের প্রক্রিয়া সম্বন্ধেও বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে। বিজ্ঞানীরা এই সবগুলো বিষয়ে খুব আশাবাদী। লরেঞ্জ এ সম্বন্ধে বলেন,&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;"টাইটান সম্বন্ধে পরবর্তী গবেষণায় অনেক কিছু বেরিয়ে আসবে। উন্মোচিত হবে তার তরল অভ্যন্তরভাগ। টাইটানের ভূত্বকের ঘূর্ণন এবং বায়ুমণ্ডলের বায়ুপ্রবাহের মধ্যে বিশেষ সম্পর্ক আছে। তাই বলা যায় পরবর্তী বছরগুলোতে জানা যাবে যে, টাইটানে ঋতু পরিবর্তন ঘটে।"&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এ নিয়ে চারটি উপগ্রহে জলের সন্ধান পাওয়া গেল। অন্য তিনটি হচ্ছে: বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপা, গ্যানিমেড এবং ক্যালিস্টো। টাইটান এদের মধ্যে সবচেয়ে বিস্ময়কর বলে মনে হচ্ছে। তাই বিস্তারিত জানতে হবে শীঘ্রই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বেশিদিন আর আমাদের অপেক্ষা করতে হবে না। এই ২৫শে মার্চই আবার টাইটানকে ফ্লাইবাই করতে যাচ্ছে ক্যাসিনি। এবার টাইটান পৃষ্ঠের ৬২০ মাইল উপর দিয়ে উড়ে যাবে সে। এবারের মূল উদ্দেশ্য থাকবে নিউট্রাল ম্যাস স্পেকট্রোমিটার দিয়ে টাইটানের উর্ধ্ব বায়ুমণ্ডল পর্যবেক্ষণ। আর একদম কাছে যাওয়ার সাথে সাথে ক্যাসিনির ভিজ্যুয়াল ও অবলোহিত ম্যাপিং স্পেকট্রোমিটার দিয়ে টাইটানের দক্ষিণ-পূর্ব অংশের উচ্চ রিজল্যুশন ছবি তোলা হবে। ক্যাসিনি-হ্যোইগেন্স প্রেরণে ভূমিকা রেখেছিলো পৃথিবীর তিনটি বড় বড় মহাকাশ সংস্থা: নাসা, এসা এবং ইটালিয়ান স্পেস এজেন্সি। আর এটি নির্মাণ, পরিচালনা এবং ব্যবস্থাপনার যাবতীয় পালন করেছে ক্যালটেকের জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি। প্যাসাডেনাতে এর নিয়ন্ত্রণ কক্ষটি অবস্থিত। এখানেই বহির্জাগতিক প্রাণ আর জাগতিক প্রাণের মেলবন্ধনের আশায় বিনিদ্র রজনী যাপন করছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/5243345960059992699-3887382477930824927?l=bigyanbodh.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/feeds/3887382477930824927/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/2008/06/blog-post_09.html#comment-form' title='1 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/5243345960059992699/posts/default/3887382477930824927'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/5243345960059992699/posts/default/3887382477930824927'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/2008/06/blog-post_09.html' title='রহস্যময় টাইটানের নতুন খবর'/><author><name>সুশান্ত বর্মন</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='31' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/_j1L4QAM2tRw/SOzw6uaJHHI/AAAAAAAAChM/5kHx3973jbs/S220/su.jpg'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://2.bp.blogspot.com/_j1L4QAM2tRw/SFUq5YQ9TCI/AAAAAAAABzQ/6O2Bec2hmK0/s72-c/tt.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>1</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-5243345960059992699.post-5044035680485073583</id><published>2008-05-25T17:07:00.002+06:00</published><updated>2009-08-17T10:32:30.829+07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='বিজ্ঞানচিন্তা'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='সচেতনতা'/><title type='text'>অপবিজ্ঞান</title><content type='html'>&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;span style="font-weight: bold; color: rgb(153, 0, 0);"&gt;অপবিজ্ঞান&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight: bold; color: rgb(153, 0, 0);"&gt;রাজশেখর বসু&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;বিজ্ঞানচর্চার প্রসারের ফলে প্রাচীন অন্ধসংস্কার ক্রমশ দূর হইতেছে। কিন্তু যাহা যাইতেছে তাহার স্থানে নতুন জঞ্জাল কিছু কিছু জমিতেছে। বৈজ্ঞানিক ছদ্মবেশে যে সকল ভ্রান্ত ধারণা এদেশে লোকপ্রিয় হইয়াছে, তাহারই কয়েকটির কথা বলিতেছি। প্রথমেই উল্লেখযোগ্য-বিদ্যুৎ। তীব্র উপহাসের ফলে এই শব্দটির প্রয়োগে আজকাল কিঞ্চিৎ সংযম আসিয়াছে। টিকিতে বিদ্যুৎ, পইতায় বিদ্যুৎ, গঙ্গাজলে বিদ্যুৎ – এখন বড় একটা শোনা যায় না (তবে বিদ্যুতের মহিমা কমিলেও একেবারে লোপ পায় নাই। কিছুদিন পূর্বে কোনও মাসিক পত্রিকায় এক কবিরাজ মহাশয় লিখিয়াছিলেন)। ‘সর্বদাই মনে রাখিবেন তুলসী-গাছের সর্বত্র নিরন্তর বৈজ্ঞানিক প্রবাহ সঞ্চারিত হইতেছে।’ বৈদ্যুতিক লালসা, বৈদ্যুতিক আংটি বাজারে সুপ্রচলিত। অষ্টধাতুর মাদুলির গুণ এখন আর শাস্ত্র বা প্রবাদের উপর নির্ভর করে না। ব্যাটারিতে দুই রকম ধাতু থাকে বলিয়া বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়, অতএব অষ্টধাতুর উপযোগিতা আরও বেশি না হইবে কেন! আমার পরিচিত এক মালীর হাতে বাত হইয়াছিল। কে তাহাকে বলিয়াছিল বিজলীতে বাত সারে এবং টেলিগ্রাফের তারে বিজলী আছে। মালী এক টুকরো ঐ তার সংগ্রহ করিয়া হাতে তাগা পরিয়াছিল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আজকাল মনোবিদ্যার উপর শিক্ষিতজনের প্রবল আগ্রহ জন্মিয়াছে, তাহার ফলে এই বিদ্যার বুলি সর্বত্র শোনা যাইতেছে। Psychological moment কথাটি বহুদিন হইতে সংবাদপত্র ও বক্তৃতার অপরিহার্য বকুনি হইয়া দাঁড়াইয়াছে। সম্প্রতি আর একটি শব্দ চলিতেছে- Complex । অমুক লোক ভীরু বা অন্যের অনুগত, অতএব তাহার inferiority complex আছে। অমুক লোক সাঁতার দিতে ভালোবাসে, অতএব তাহার Water complex আছে। একজন প্রশ্ন করিয়াছিলেন কর্পূর উবিয়া যায় কেন! উত্তর অনেক আসেল, সকলেই বলিলেন, কর্পূর উদ্বায়ী পদার্থ তাই উবিয়া যায়। ‘উদ্বায়ী’র অর্থ-যাহা উবিয়া যায়। উত্তরটি দাঁড়াইল এই-কর্পূর উবিয়া যায়, কারণ তাহা এমন বস্তু যাহা উবিয়া যায়। কর্পূর উবিয়া যায় কেন, ইহার উত্তরে বিজ্ঞানী বলিবেন, জানি না হয়তো কালক্রমে নির্ধারিত হইবে যে পদার্থের আণব সংস্থান অমুক প্রকার হইলে তাহা উবিয়া যায়। তখন বলা চলিবে- কর্পূরের গঠনে অমুক বিশিষ্টতা আছে, তাই উবিয়া যায়। কিন্তু ইহাতেও প্রশ্ন থামিবে না। ঐ প্রকার গঠনের জন্যই বা পদার্থ উদ্ধায়ী হয় কেন? বিজ্ঞানী পূনর্বার বলিবেন- জানি না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই প্রসঙ্গে একটি অপরিচিত বিষয়ের উল্লেখ করা যাইতে পারে-অদৃষ্টবাদ ও নিয়তিবাদ। ইহা পাশ্চাত্য বিজ্ঞানের দান নয়, নিতান্তই ভারতীয় বস্তু। আধুনিক বিজ্ঞানের সহিত ইহার বিবাদ নাই, কিন্তু সাধারণ লোকে যে অদৃষ্টবাদের আশ্রয় লয় তাহা অপবিজ্ঞান মাত্র।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বহুযুগের অভিজ্ঞতার ফলে মানুষের দূরদৃষ্টি জন্মিয়াছে, অতীত ও ভবিষ্যৎ অনেক ব্যাপার পরম্পরা সে নির্ণয় করিতে পারে। কিসে কি হয় মানুষ অনেকটা জানে এবং সেই জ্ঞানের প্রয়োগ দ্বারা প্রয়োজন সাধন করে। কতকগুলি জাগতিক ব্যাপার আমাদের বোধ বা সাধ্য, কিন্তু অধিকাংশই অবোধও বা অসাধ্য। প্রথমোক্ত বিষয়গুলি আমাদের ‘দৃষ্ট’ অর্থাৎ নির্ণেয়, শেষোক্ত বিষয়গুলি ‘অদৃষ্ট’ অর্থাৎ অনির্ণেয়। নিয়তিবাদী দার্শনিক বলেন-কিসে কি হইবে তাহা জগতের উৎপত্তির সঙ্গেই নিয়মিত হইয়া আছে, সমস্ত ব্যাপারই নিয়তি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিজ্ঞানও স্বীকার করে-এই জগৎ নিয়তির রাজ্য, সমস্ত ঘটনা কার্যকারণসূত্রে গ্রথিত অখন্ডনীয়রূপে নিয়ন্ত্রিত। অভিজ্ঞ ব্যক্তি কোনও কোনও বিষয়ের ভবিষ্যদুক্তি করিতে পারেন, যথা-অমুক দিন চন্দ্র গ্রহণ হইবে, অমুক লোকের শীঘ্র জেল হইবে। প্রাকৃতিক নিয়ম বা নিয়তির কিয়দংশ জানা আছে বলিয়াই পারেন। বিচক্ষণ দাবা খেলোয়াড় ভবিষ্যতের পাঁচ ছয় চাল হিসাব করিয়া গুটি চালিয়া থাকে। কিন্তু তাহা মানুষের প্রত্যক্ষ বা অনুমানগম্য তাহা সকল ক্ষেত্রে সাধ্য যা প্রতিকার্য নয়। আমাদের এমন শক্তি নাই যে চন্দ্রের গ্রহণ রোধ করি, কিন্তু এমন শক্তি থাকিতে পারে যাহাতে অমুকের কারাদণ্ড নিবারণ করা যায়। এমন প্রাজ্ঞ যদি কেহ থাকেন যিনি সমস্ত প্রাকৃতিক নিয়ম জানেন, তাহার কাছে নিয়তি ‘অদৃষ্ট’ নয়, দৃষ্ট ও স্পষ্ট।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অতএব, অদৃষ্টের অর্থ-অনির্ণেয় ও অসাধ্য ঘটনাসমূহ। নিয়তির অর্থ-সমস্ত ঘটনার অখন্ডনীয় সম্বন্ধ বা আনুপূর্ব। ঘটনার কারণ অদৃষ্ট বা নিয়তি নয়। কিন্তু সাধারণ লোকে অদৃষ্টকে অনর্থক টানিয়া আনিয়া সুখ-দু॥খের ব্যাখ্যা করে। জীবনযাত্রা যখন নিরুদবেগে চলিয়া যায় তখন কারণ জানিবার ঔৎসুক্য থাকে না। কিন্তু যদি একটা বিপদ ঘটে, কিংবা যদি কোন পরিচিত হঠাৎ বড়লোক হয়, তখনই মনে কষ্টকর প্রশ্ন আসে-কেন এমন হইল? বিজ্ঞলোক ব্যাখ্যা করেন-বাপু, কেন হইল সেটা বুঝিলে না? সমস্তই অদৃষ্ট, কপাল, ভাগ্য, নিয়তি। অমুক লোকটি মরিল কেন, ইহার উত্তরে যদি বলা হয় – কলেরা, সর্পাঘাত, অনেক বয়স, তবে একটা কারণ বুঝা যায়। কিন্তু ইহা বলা বৃথা-মরণের অনির্ণেয়তা বা অনিবার্যতাই মরিবার কারণ। অথচ অদৃষ্ট বলিলে ইহাই বলা হয়। যাহা অবিসংবাদিত সত্য বা &lt;span style=""&gt;truism&lt;/span&gt; তাহা গুনিলে কাহারও কৌতুহল নিবুত্তি বা সান্ত্বনালাভ হয় না, সুতরাং ইহাও বলা বৃথা-অমুক লোকটি ঘটনা পরস্পরার ফলে মরিয়াছে। অথচ ‘নিয়তি’ বলিলে ইহাই বলা হয়। ‘অদৃষ্ট’ ও ‘নিয়তি’ শব্দ সাধারণের নিকট প্রকৃত অর্থ হারাইয়াছে এবং বিধাতার আসন পাইয়া সুখ-দুঃখের নিগূঢ় কারণরূপে গণ্য হইতেছে।&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: right;"&gt;(সঙ্কলিত)&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/5243345960059992699-5044035680485073583?l=bigyanbodh.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/feeds/5044035680485073583/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/2008/05/blog-post_7857.html#comment-form' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/5243345960059992699/posts/default/5044035680485073583'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/5243345960059992699/posts/default/5044035680485073583'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/2008/05/blog-post_7857.html' title='অপবিজ্ঞান'/><author><name>সুশান্ত বর্মন</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='31' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/_j1L4QAM2tRw/SOzw6uaJHHI/AAAAAAAAChM/5kHx3973jbs/S220/su.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-5243345960059992699.post-8654164616490290610</id><published>2008-05-09T20:56:00.001+06:00</published><updated>2009-08-17T10:32:30.778+07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='জীবনী'/><title type='text'>তিনি আরজ আলি মাতুব্বর</title><content type='html'>&lt;div style="text-align: left;"&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;a onblur="try {parent.deselectBloggerImageGracefully();} catch(e) {}" href="http://4.bp.blogspot.com/_j1L4QAM2tRw/SFJmewkk8HI/AAAAAAAABvU/0Q19Z5JO3KQ/s1600-h/aroj_ali_matubbar.jpg"&gt;&lt;img style="margin: 0pt 10px 10px 0pt; float: left; cursor: pointer;" src="http://4.bp.blogspot.com/_j1L4QAM2tRw/SFJmewkk8HI/AAAAAAAABvU/0Q19Z5JO3KQ/s320/aroj_ali_matubbar.jpg" alt="" id="BLOGGER_PHOTO_ID_5211340397441511538" border="0" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;span style="font-weight: bold; color: rgb(153, 0, 0);"&gt;তিনি আরজ আলি মাতুব্বর&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight: bold; color: rgb(153, 0, 0);"&gt;সুশান্ত বর্মন&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;প্রায় ৫০-৬০ হাজার বছর আগের নিয়ান্ডারথাল মানুষেরাই প্রথম প্রশ্ন তোলে জীবন-মৃত্যু নিয়ে? মানুষ কোত্থেকে আসে? বেঁচে থাকে কেন? মারা যায় কেন? শুধু মানুষ নয়। প্রকৃতিকে নিয়েও তারা প্রশ্ন করা শুরু করেছিল। নদী প্রবহমান কেন? বাতাস কি? পাহাড় এলো কোত্থেকে? সূর্য আলোকিত কেন? সহস্র বছর আগের অবিকশিত ও আদিম বুদ্ধি দিয়ে আদিম মানুষেরা ভেবে নিয়েছিল তাদের প্রতিটি সমস্যার সমাধান। প্রাণীজগতের সব প্রাণীই নিজেদের যেকোন সমস্যায় নিজ নিজ বুদ্ধি, পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতা দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এই আধুনিক যুগেও প্রাণীদের চোখে মটরগাড়ীগুলো শব্দকারক ও দূর্গন্ধযুক্ত একটি বিদঘুটে প্রাণী ছাড়া কিছুই নয়। একটি যন্ত্র সম্পর্কে এমন ধারণা পোষণের জন্য আমরা প্রাণীদেরকে দোষ দিতে পারি না। কারণ যন্ত্রকে যন্ত্র মনে করার জন্য যে জ্ঞান, মেধা, মণীষা, অভিজ্ঞতা থাকা দরকার তা তাদের নেই। জীব জগতের কোটি বছরের ইতিহাসে মনুষ্যেতর প্রাণীগুলো কখনো যন্ত্র নিয়ে গবেষণা করেনি, বা করতে চায়নি। বানর, কয়েক প্রজাতির পাখি এবং অন্যান্য কয়েকটি মাত্র প্রাণী অবশ্য যন্ত্রের ব্যবহার করে। উঁচু ডাল থেকে ফল পাড়তে লাঠি, শত্রু তাড়াতে ঢিল, খাদ্য ভাঙতে পাথর ইত্যাদির ব্যবহার তারা করে থাকে। কিন্তু তাদের যন্ত্র সম্পর্কে এই অভিজ্ঞতা অতটুকু প্রাথমিক অবস্থাতেই থেকে গেছে। আর কোন অগ্রগতি হয়নি এবং তা সহজাত প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। কারণ যন্ত্রের ঐ সীমিত ব্যবহারটুকুর বেশি তাদের প্রয়োজন হয়নি। তাই যন্ত্রের আবিষ্কার বা উৎকর্ষের জন্যও কোন রকম অভ্যন্তরস্থ আগ্রহ তারা বোধ করেনি। কিন্তু মানুষ মানবেতর নয়। ক্রমাগত নিজেকে পেরিয়ে যাওয়ার এক অদম্য আগ্রহ মানুষকে সবসময় তাড়িয়ে বেড়ায়। ফলে মানুষ নিরন্তর তার পূর্বতন অনভিজ্ঞতা, অনগ্রসরতা, পশ্চাৎপদতা, সীমিত যান্ত্রিক শক্তি প্রভৃতিকে পরিত্যাগ করেছে এবং সাগ্রহে বরণ করেছে ভবিষ্যতের নতুনত্ব, জ্ঞান, আবিষ্কার, মনন। তাই অন্যান্য পশুদের জীবন যাত্রা এখনও আদিম যুগের ন্যায় থাকলেও মানুষের ক্ষেত্রে তা পাল্টে গেছে। মানুষ এগিয়ে এসেছে বর্তমানের কুসংস্কারহীন প্রযুক্তিময় পৃথিবীতে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;উপর্যুক্ত আলোচনাটি তত্ত্ব হিসাবে অসাধারণ এবং বাস্তব মনে হলেও এতে একটি ত্রুটি আছে। কারণ মানুষ বিভক্ত বহু ভাগে। প্রাকৃতিক পরিবেশ অর্থাৎ ভূ-প্রকৃতির কাঠামো ও নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যভেদে মানুষ বিভিন্ন রকম। কেউ পাহাড়বাসী, কেউ সমতলবাসী, কেউ দ্বীপবাসী, কেউবা বনবাসী। কেউ রুক্ষ অঞ্চলে, কেউবা উর্বর ভূমিতে বাস করে। প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে দেয় মানুষের সার্বিক অগ্রগতির আয়তন। মাটির গঠন, বাতাসের আর্দ্রতা, সূর্যালোকের প্রখরতা, গাছপালার পরিমাণ মানুষের আত্মিক বিকাশ ও নৈতিক মানদণ্ড গঠনে অন্যতম সহায়ক ভূমিকা পালন করে। যে ব্যক্তি বাস করে রুক্ষ্ম ভূমিতে তার তুলনায় বাংলাদেশের ন্যায় উর্বর জলাভূমিতে বসবাসকারী ব্যক্তির মন অনেকাংশে নরম হবেই। অর্থাৎ মানুষের মানসিক পরিবর্তন সারা পৃথিবীতে সমান্তরাল গতিতে অগ্রসর হয়নি। যে ব্যক্তি মরুভূমিতে বাস করে সে পৃথিবী সম্পর্কে যেরকম ধারণা পোষণ করে তার সম্পূর্ণ বিপরীত ধারণা লালন করে উর্বর ভূমিতে বাসকারী মানুষ। যে জনগোষ্ঠী পাহাড়ে বাস করে তাদের ধারণার সাথে দ্বীপবাসীর ধারণার কোন অংশেই মিল নেই। প্রত্যেকে পৃথিবী, প্রাণীজগত এবং মনুষ্যত্বকে বিচার করে ভিন্ন ভিন্ন দার্শনিক অবস্থান থেকে। নিজ নিজ অবস্থান থেকে জগৎকে বিচার করার ফলেই মানুষে মানুষে এত পার্থক্য। নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ীও মানুষ বিভিন্ন রকম। এক কালে ধারণা করা হতো মানুষের বুদ্ধিতাত্ত্বিক অগ্রগতি নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করে। বর্তমানে সে ধারণা পরিত্যাজ্য হয়েছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমরা বাঙালিরা পৃথিবীর যে অঞ্চলে বাস করি সে অঞ্চলের মাটি খুবই উর্বর। উত্তরের হিমালয়ের পাদদেশ ধুয়ে পলি নিয়ে এসে এই অঞ্চলের নদীগুলো বঙ্গভূমির শরীর তৈরী করেছে। ফলে এখানকার মানুষের খাদ্যের অভাব কখনও হয়নি। প্রকৃতির ভালোবাসায় সিক্ত মানুষেরা ব্যক্তিগত জীবনেও ভালোবাসাপ্রবণ হবার কথা। কিন্তু বর্তমানকালের সামাজিকতা তুলে ধরে বাঙালির আবহমানকালের সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। তাই বলে বাঙালির বর্তমানের হীন চরিত্রের চিত্র চিরকালের নয়। আজ থেকে হাজার বছর আগেও বাঙালি চরিত্রের সাথে প্রকৃতির চরিত্রের তত অমিল ছিল না। ক্রমাগত পাহাড়বাসী ও মরুভূমিবাসীদের নৈতিক আগ্রাসনের জালে বাঙালি আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে পড়েছে গত হাজার বছরে। নিজ প্রকৃতি সম্ভূত নীতিবোধ একাধিক কারণে বিসর্জন দিয়ে তারা গ্রহণ করেছে পাহাড় ও মরুভূমির উগ্র সাম্রাজ্যবাদী নীতিবোধ। ফলে তাদের মানবিক অবস্থানের পতন ঘটতে দেরী হয়নি। যার হলাহল আমরা একালে মর্মে মর্মে গলাধকরণ করছি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নিকট পশ্চিম ও দূর পশ্চিম প্রভাবিত মানসিকতায় যা কিছু জ্ঞান ও সুন্দর তার উদ্ভব হয়েছে পাশ্চাত্যেই। আজকের আত্মবিমুখ জাতি হিসেবে আমরা তাইই সর্বান্তকরণে বিশ্বাস করছি। এ ধারণা সমর্থন করলে আমাদের নিজেদের যে দার্শনিক ঐতিহ্য আছে তাকে অস্বীকার করা হয়। কারণ নির্মোহ ইতিহাস চেতনা আমাদেরকে ভিন্নভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। দার্শনিক পরাধীনতাই যে পাশ্চাত্যমুখী অবস্থান তৈরী করেছে আজ তা অনেকাংশে স্পষ্ট। তাই এটা অনেকের অজানা যে, পাশ্চাত্যে দর্শন যখন হাটি হাটি পা পা করে শৈশব অতিক্রান্ত করছিল তখন এই ভারতীয় উপমহাদেশে দর্শন চর্চা হয়েছিল যৌবনপ্রাপ্ত। মাওলানা আজাদ বলেছেন- “ভারতীয় দর্শন মানব সভ্যতার অন্যতম গর্বের সম্পদ।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রতিক্রিয়াশীল চিন্তা চেতনার বিরুদ্ধে যে সাহসী ব্যক্তিরা প্রথম প্রতিবাদ করেন সেই মহান দর্শন যোদ্ধাদের একজন হলেন ঋষি বৃহস্পতি। তিনি ছিলেন সেকালের একজন দুঃসাহসী চিন্তানায়ক। প্রকৃত জ্ঞান ও প্রগতির পক্ষে তার অবস্থান ছিল অটল ও দৃঢ়। সাম্রাজ্যবাদী দর্শন ও নীতিবোধের বিরুদ্ধে তিনিই সর্বপ্রথম জোর গলায় প্রতিবাদ জানান। এ অঞ্চলের যুক্তিবাদী ও মুক্তবুদ্ধি আন্দোলনের চিন্তানায়কদের আদিগুরু হচ্ছেন ঋষি বৃহস্পতি। ঋগ্বেদে বৃহস্পতি বলেছেন, ‘বস্তুই চরম সত্তা’। মাধবাচার্য এর ‘সর্বদর্শন সংগ্রহ’ গ্রন্থের প্রথম অধ্যায়ে বার্হস্পত্য দর্শনের এই উদ্ধৃতি আছে- “স্বর্গ নেই, মোক্ষ নেই, আত্মা নেই, পরলোক নেই, জাতিধর্ম নেই, কর্মফল নেই। ত্রিবেদ, ত্রিদণ্ড এবং ভস্মলেপন এসব বুদ্ধি ও পৌরুষহীন কিছু মানুষের জীবিকা নির্বাহের উপায় মাত্র (বুদ্ধি পৌরুষহীনানাং জীবিকা, ধাতৃনির্মাতা)।” এই বার্হস্পত্য দর্শনের প্রধান ভাষ্যকার হিসাবে চার্বাক ঋষি ভারতীয় উপমহাদেশে বিশেষ খ্যাত ছিলেন। উপমহাদেশের দর্শন পরিমণ্ডলে চার্বাকের দার্শনিক অবস্থানের পরিচিতি ও প্রভাব সবচেয়ে বেশি ছিল। সাধারণ মানুষের সুখ দুঃখের যথার্থ কারণ চার্বাকের মত করে আর কেউ বলতে পারেনি। তাই জনজীবনের আত্মিক গঠনে তার দর্শনের ভূমিকা ছিল প্রবল। একারণেই চার্বাকের দর্শনকে বলা হয় ‘লোকায়ত দর্শন’। এই দর্শনে বলা হয়েছে, “প্রত্যক্ষ ছাড়া পরোক্ষ কোন প্রমাণ নেই। শরীর থেকে পৃথক কেন চৈতন্য নেই।” তিনি মনে করেন বস্তুই সব কিছু সৃষ্টির মূলে। তিনি বলেন, “মৃত্তিকা, বায়ু, অগ্নি ও জল, এই চারিতত্ত্বের সমাহারে শরীর সৃষ্টি হয়। দেহাতীত কোন আত্মা নেই। বিশ্বব্রহ্মাণ্ড কোন বহিঃশক্তির সহায়তা ছাড়া, এমন কি অদৃষ্টেরও সহায়তা ছাড়া নিজে নিজেই সৃষ্ট হয়।” Ethnic Epic রামায়ণেও আমরা এই বস্তুবাদী দর্শনের চিত্র পাই। বনবাসে যাওয়া রাম ছোটভাই ভরতের অনুরোধেও যখন অযোধ্যায় ফিরে যেতে অস্বীকার করেন তখন তাদের সামনে এসে উপস্থিত হন বস্তুবাদী ঋষি জাবালি। তিনি রামকে উপদেশ দিয়েছিলেন- “চতুর লোকের রচিত শাস্ত্রগ্রন্থে আছে যজ্ঞ কর, দান কর, ত্যাগ কর, তপস্যা কর ইত্যাদি। এর উদ্দেশ্য কেবল জনসাধারণকে বশীভূত করা। অতএব হে রাম, তোমার এই বুদ্ধি হোক যে পরলোক নেই। যা প্রত্যক্ষ তার জন্যই উদ্যেগী হও যা পরোক্ষ তা পরিহার কর।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বৃহস্পতি, চার্বাক এর পরে আমরা ভারতীয় বস্তুবাদীদের মধ্যে দেখা পাই সাংখ্য মতাবলম্বীদের। তারা মনে করতেন কাজ একান্তভাবেই কারণের পরিণাম। কাজের মধ্যে এমন কিছু থাকতে পারেনা যা কারণের মধ্যে অবশ্যই অস্ফুট বা বীজাকারে বর্তমান নয়। তাই তাদের বিশ্বাস যেহেতু ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রমাণ করা যায় না অতএব ঈশ্বর নেই। তারা মনে করেন পৃথিবী সৃষ্টি করার জন্য ঈশ্বর ধারণার প্রয়োজন নেই। কোনো কারণ নিজের পরিবর্তন ছাড়া কোনো কাজের সৃষ্টি করতে পারে না। তাই অপরিবর্তনীয় ঈশ্বর জগতরূপ কাজের কোনো কারণ হতে পারে না। তবে তাদের ধারণার মধ্যে বহু আত্মা সস্পর্কিত ভাবনারও মিশ্রণ রয়েছে। এই নিরাসক্ত উপলব্ধির ধারাবাহিকতায় জন্ম নেয় বৌদ্ধ মতের। গৌতম বুদ্ধের এই মতের নাম বৌদ্ধধর্ম হলেও এটি প্রচলিত অর্থে কোনো ধর্ম নয়। এটি একটি মতবাদ যা মানুষের জীবনযাত্রাকে অর্থবহ করতে চায়। মহান গৌতম বুদ্ধও মনে করতেন আত্মা বা ঈশ্বর বা এধরণের কোন অপরিবর্তনীয় সত্ত্বা বাস্তবে নেই। এমন ভাবনার প্রভাব জৈন ধর্মের মধ্যেও কিঞ্চিত রয়েছে। কবীর, দাদু প্রমুখ সংস্কারকদের মতবাদের মধ্যেও অলৌকিকতার তুলনায় মানবীয়তার স্পর্শ খুবই স্পষ্ট। আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় গণ্ডীর বাইরে থেকে লোকায়ত মরমীবাদকে আশ্রয় করে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন লালন ফকির সহ বাউল সম্প্রদায়। ভারতীয় উপমহাদেশীয় বস্তুবাদী দর্শনসঞ্চারী মনোভঙ্গিকে আধুনিক কাল পর্যন্ত বহন করে এনেছেন ডক্টর রাধাকৃষ্ণন, মানবেন্দ্র নাথ রায়, দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ প্রাজ্ঞ দার্শনিকেরা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রথাবিরোধী ধর্মদর্শনের প্রাচীন ধারাবাহিকতার বাংলাদেশী রূপকার হলেন আরজ আলি মাতুব্বর। তিনি মনে করতেন পশু যেমন সামান্য জ্ঞান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকে ধর্মবাদী ব্যক্তিগণও তেমনি সামান্য জ্ঞান নিয়েই জীবন কাটিয়ে দেয়। মেধার বিকাশ, মুক্তচিন্তা, মুক্তজ্ঞান, বিজ্ঞান চেতনা ইত্যাদি মুক্তবৌদ্ধিক মনোভঙ্গির বিপক্ষে ধর্মপ্রবণ ব্যক্তিগণ দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করে। তাই ধর্ম অনেকাংশেই মানুষের মানবিক বিকাশকে সমর্থন করে না; মুক্তবুদ্ধি, জ্ঞানচর্চা, উদারতা, সহানুভূতিশীলতা, মানবিকতা প্রভৃতির প্রসার-প্রচারকে অনেকাংশেই সীমিত করে তোলে। তিনি জানেন সমাজের যথার্থ মুক্তি ঘটে একমাত্র বস্তুবাদী দর্শনের চর্চাতেই। নিজের প্রান্তিক জীবনের সাধারণ কয়েকটি ঘটনাতেই তিনি বুঝে নিয়েছেন তার ও তার সমাজের আচরিত ধর্মের স্বরূপ। ক্রমাগত গ্রন্থ পাঠে বুঝে নিয়েছেন এর কারণাবলী। এই অন্ধকারাচ্ছন্নতার বিরুদ্ধে তার অবস্থান ছিল সুস্পষ্ট। তাই তিনি অনবরত প্রশ্নবাণে দগ্ধ করেছেন তথাকথিত সমাজপিতা ও তাদের আচরিত-প্রচারিত ধর্ম ও দর্শনকে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ফিলোসফি শব্দটি এসেছে ‘ফিলোসফিয়া’ শব্দটি থেকে। ফিলোসফি শব্দটির ইংরেজি ভাবার্থ ‘জ্ঞানের প্রতি অনুরাগ’। সংস্কৃত ‘দর্শন’ শব্দটির আপাত অর্থ ইন্দ্রিয়জ ‘দেখা’। কিন্তু যখন ‘বিদ্যা’ অর্থে প্রযুক্ত হয় তখন আর তা চাক্ষুষ দেখায় সীমাবদ্ধ থাকে না। চোখ দিয়ে দেখার সীমাবদ্ধতা পেড়িয়ে দার্শনিকরা যখন শুধু মন নয় বুদ্ধি ও চিন্তা দিয়েও দেখা শুরু করলেন তখন থেকেই ‘দর্শন’ শব্দটি লাভ করলো নতুন অভীধা। দর্শন ও জিজ্ঞাসা মোটেই পরস্পরবিরোধী নয়। বরং শব্দ ও চেতনাদ্বয় সবসময়ই পরস্পরের সম্পূরক হিসেবে কাজ করেছে। প্রাজ্ঞ পণ্ডিত আরজ আলি মাতুব্বরও অজস্র জিজ্ঞাসায় প্রতিনিয়ত বিক্ষত হয়েছেন। এলোমেলোভাবে উদয় হওয়া প্রশ্নধারা তাকে অকুল চিন্তা সাগরে ভাসিয়ে নিয়েছিল। তিনি দেখেছেন তাঁর জীবনে বিরক্তির উদ্রেগ করা একাধিক সমস্যার মূলে ছিল তার সমাজে আচরিত ও প্রতিষ্ঠিত ধর্ম। স্বধর্মের কারণেই তাকে একাধিকবার বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে। ১৩৫৮ সালের ১২ জ্যৈষ্ঠ তারিখে বরিশালের ল ইয়ার ম্যাজিস্ট্রেট ও তবলিগ জামাতের আমির এফ রহমান আরজ আলিকে জামাতভুক্ত হবার প্রস্তাব দেন। তিনি সরলমনে জিজ্ঞাসা করেছিলেন-“ধর্মজগতে এরূপ কতগুলি নীতি, প্রথা, সংস্কার ইত্যাদি এবং ঘটনার বিবরণ প্রচলিত আছে, যাহা সাধারণ মানুষের বোধগম্য নহে এবং এগুলি দর্শন ও বিজ্ঞানের সাহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ নহে, এমনকি অনেকক্ষেত্রে বিপরীতও বটে। ধর্ম, দর্শন ও বিজ্ঞান এই তিনটি মতবাদের সমন্বয় সাধনের উদ্দেশ্যে চিন্তা করিতে যাইয়া আমার মনে কতগুলি প্রশ্নের উদয় হইয়াছে এবং হইতেছে। আমি ঐগুলি সমাধানে অক্ষম হইয়া এক বিভ্রান্তিকর আঁধার কূপে নিমজ্জিত হইয়া আছি। আপনি আমার প্রশ্নগুলির সুষ্ঠু সমাধানপূর্বক আমাকে সেই বিভ্রান্তিকর আঁধার কূপ হইতে উদ্ধার করিতে পারিলে আমি আপনার জামাতভুক্ত হইতে পারি।” কিন্তু পশ্চাৎপ্রবণ করিম সাহেব এর উত্তর দিয়েছিলেন আরজ আলিকে গ্রেফতার করে। আরজ আলির প্রশ্নের বিপরীতে ঈশ্বরের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষা করেননি। আদালত তাঁর প্রশ্নগুলোকে অপরাধ মনে করেনি কিন্তু প্রশ্নগুলির ব্যাখ্যা তৈরী করতে গিয়েই রচিত হয়ে যায় ‘সত্যের সন্ধান’ গ্রন্থটি। গ্রন্থটি যখন ছাপাখানায় ছিল তখন জনৈক পীরের আদেশ এসেছিল এর ছাপানো বন্ধ করতে এবং যা ছাপা হয়েছে তা সম্পূর্ণভাবে পুড়িয়ে ফেলতে। চুয়াত্তরের কোনো এক সময় মাদ্রাসার ছাত্ররা হত্যার উদ্দেশ্যে আরজ আলিকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছিল। ধর্মবাদী ব্যক্তিগণের এইসব অপচেষ্টা প্রত্যেকবারই মুক্তবুদ্ধির মানুষদের সক্রিয় অংশগ্রহণে বিফল হয়ে গিয়েছিল। ’৭১ এ স্বাধীনতার পর তিনি এবং তার সুহৃদরা পরম বিস্ময় ও আতংকের সাথে দেখছিলেন গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্রের পতাকাবাহী দেশটিতে ক্রমাগত সিরাত ও কিরাত মাহফিলের প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়, সরকারী উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামিক ফাউন্ডেশন, মুক্তিযুদ্ধের মহান নেতা সগৌরবে উপস্থিত হয় ইসলামী সম্মেলন সংস্থায়। আরজ আলি বিশ্লেষক মুহম্মদ শামসুল হক এর ভাষায়- “ইসলামী সম্মেলন সংস্থায় জাতীয় নেতার সগৌরব উপস্থিতি আমাদের ধর্মনিরপেক্ষতায় নতুন মাত্রা যোগ করে বুকের ভেতরটায় কাঁপুনি ধরিয়ে দেয়।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আরজ আলি দেখেছেন দাবীকৃত শান্তিবাদীরাই তার জীবনে যতো অশান্তির মূল। তাই অমানবিকতা, আক্রমণপ্রবণতা, অজ্ঞতা, কুসংস্কারপ্রবণতা, ধর্মীয় সাম্রাজ্যবাদ এসবের বিরুদ্ধে তার নৈতিক অবস্থান অনেকের তুলনায় অনেক দৃঢ় ছিল। ধর্মপ্রাণ মার মৃত্যুর পর আরজ আলি তার স্মৃতি সংরক্ষণ করতে চেয়েছিলেন। এজন্য পেশাদার ফটোগ্রাফার দ্বারা মৃত মায়ের ছবি তুলিয়েছিলেন। ইসলাম ধর্মের বিধান অনুযায়ী প্রাণীর ছবি তোলা মহা অপরাধ। বর্তমান কালের ধর্মবাদী ব্যক্তিরা একথা স্বীকার করতে না চাইলেও আরজ আলির মুরুব্বীরা ভণ্ড হতে চাননি। তাই ছবি তোলার অপরাধে মৃত মায়ের সৎকারে তাকে সহায়তা করেননি। ধর্মীয় নীতিবোধের দিক থেকে সমাজনেতারা কোনো ভুল করেননি। কিন্তু অবুঝ আরজ আলি ধর্মীয় বিধানের কঠোর অর্গল মেনে নিতে পারেননি। ক্রমাগত গ্রন্থপাঠে বুঝে নিতে চেয়েছেন মানবতাকে অপমান করার উৎস ও অনুষঙ্গসমূহকে। চেতনার বন্ধ দরজায় অনবরত আঘাত করে তিনি পরিস্কার করতে চেয়েছেন হাজার বছরে জমে ওঠা প্রতিটি শ্যাওলাকে। তার শ্রম বিফলে যায়নি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সমকালে নিজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবার ইচ্ছা আর নিজস্ব নেই। স্বাধীনতা শব্দটি তার অন্তর্নিহিত অর্থ হারিয়ে ফেলেছে। মানুষ এখন ইচ্ছাকৃত পরাধীন থাকতে চায়। মানুষ মনে করে মানুষ নিজে নিজে স্বাধীন থাকতে পারে না। খারাপ কিছু করে ফেলতে পারে। তাই তারা তাদের সমস্ত স্বাধীনতা বিসর্জন দেয় প্রথা, আইন, রাষ্ট্র, নিয়ম, ধর্ম, নীতি, আদর্শ ইত্যাদির কাছে। তারা মনে করে একমাত্র কঠোর আচরণ বা শাসনই মানুষকে সৎ হিসাবে তৈরী করে। ‘স্বাধীনতাহীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে কে বাঁচিতে চায়’ কবির এই কথাটি সমকালে অপমানিত হয়। বাস্তবে প্রত্যেকেই আজ স্বাধীনতাহীনতায় বাঁচতে চায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রতিটি দর্শন ভবিষ্যত সম্পর্কে যা বলে তা মূলত স্বপ্ন। প্রতিটি মতবাদ ভবিষ্যত সম্পর্কে যা ভাবে তা কল্পনা। আমাদের কল্পনাগুলি যে সমাজের স্বপ্ন দেখায় তা যেন কত সুদূর। এই সামাজিক উপলব্ধি আমাদের মতো আরজ আলিকেও প্রতিনিয়ত তাড়িত করতো। তিনি বুঝতে পেরেছেন বর্তমান সামাজিক কাঠামোয় সন্তুষ্ট থাকা চলে না। কারণ সমকালীন সমাজে মানুষ আর মানুষী রূপ ধরে বেঁচে নেই। তারা নির্ধারিত জীবন কাঠামোয় অনবরত অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে। এই আরোপিত যান্ত্রিকতা ভাঙতে হবে। মানুষকে বুঝিয়ে দেয়া দরকার সত্যিকার জীবনচেতনার সরল অংকটি। তাই তিনি সরাসরি প্রশ্ন করেছেন। সমাজনেতা, ধর্মনেতাদের কাছে জানতে চেয়েছেন অসংখ্য সমস্যার যৌক্তিক সমাধান। ‘আমি কে?’, ‘আমি কি স্বাধীন?’ ‘অশরীরী আত্মার কি জ্ঞান থাকিবে?’, ‘আল্লাহর রূপ কি?’, ‘ঈশ্বর কি স্বেচ্ছাচারী না নিয়মতান্ত্রিক?’, আল্ল¬াহ ন্যায়বান না দয়ালু?’, ‘আল্লাহর অনিচ্ছায় কোন ঘটনা ঘটে কি?’, ‘সৃষ্টি যুগের পূর্বে কোন যুগ?’, ‘ঈশ্বর কি দয়াময়?’, ‘জীবসৃষ্টির উদ্দেশ্য কি?’ ‘পাপ-পূণ্যের ডায়রী কেন?’, ‘পরলোকের সুখ-দুঃখ শারীরিক না আধ্যাত্মিক?’, ‘গোর আজাব কি ন্যায়সঙ্গত?’, ‘ইহকাল ও পরকালে সাদৃশ্য কেন?’, ‘আল্লাহ মানুষের পরিবর্তন না করিয়া হেদায়েতের ঝঞ্ঝাট পোহান কেন?’, ‘উপাসনার সময় নির্দিষ্ট কেন?’, ‘নাপাক বস্তু কি আল্লাহর কাছেও নাপাক?’, ‘উপাসনায় দিগনির্ণয় কেন?’, ‘মেয়ারাজ কি সত্য না স্বপ্ন?’, ‘ইসলামের সহিত পৌত্তলিকতার সাদৃশ্য কেন?’, ‘জীবহত্যায় পূণ্য কি?’, ‘মানুষ ও পশুতে সাদৃশ্য কেন?’, ‘আকাশ কি?’, ‘দিবা-রাত্রির কারণ কি?’, ‘বজ্রপাত হয় কেন?’, ‘রাত্রে সূর্য কোথায় থাকে?’, ‘আদম কি আদি মানব?’, ‘হজরত মুসা সীনয় পর্বতে কি দেখিয়াছিলেন?’, ‘হজরত সোলায়মানের হেকমত না কেরামত?’, ‘যীশু খ্রীস্টের পিতা কে?’, ‘জ্বীন জাতি কোথায়?’, ‘স্ত্রী ত্যাগ ও হিলা প্রথার তাৎপর্য কি?’ ধর্ম ও ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষঙ্গ প্রসঙ্গে এসব প্রশ্ন সহজাত। একজন প্রশ্নপ্রবণ, যুক্তিবাদী, শিক্ষিত, মানবিক ও উদার ব্যক্তির মনে এসব প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক। কিন্তু সময়, সমাজ, রাষ্ট্র অর্থাৎ আইন মানুষের এইসব সাধারণ কৌতুহলকে কঠোরভাবে দমন করতে চায়। রাষ্ট্র যেন মানুষের মানবিক রূপের চাইতে স্বাধীনতাহীন যান্ত্রিক রূপটিকেই অধিকতর সমর্থন করে। তাই আমাদের আজ সিদ্ধান্ত নেবার সময় এসেছে। আমাদের দৃঢ় স্বরে উচ্চারণ করা উচিত কোন দর্শন সামাজিক পরিবর্তন ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে সক্রিয় হয়েছে আর কোন দর্শন সচেষ্ট থেকেছে সামাজিক পরিবর্তনকে বিঘ্নিত করতে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তিনি জানেন সমস্যাটা কোথায়? তাই কিছু সচেতন উপলব্ধিও তাঁর ছিল। যে পশ্চাৎপদ সামাজিক সিদ্ধান্ত তাঁকে বিরক্ত করতো তার প্রতিও তিনি সচেতন ছিলেন। তিনি বলেছেন- “মানুষের দৈনন্দিন জীবনের চাহিদা মিটাইতেছে বিজ্ঞান। আপনি যদি বিজ্ঞানের দান গ্রহণে অমত করেন, তাহা হইলে আকাশের দিকে তাকান, ঘড়ির দিকে নয়। আপনি যদি বিজ্ঞানের দান গ্রহণ করিতে না চাহেন, তাহা হইলে যানবাহনে বিদেশ সফর ও জামা-কাপড় ত্যাগ করুন এবং কাগজ-কলমের ব্যবহার ও পুস্তক পড়া ত্যাগ করিয়া মুখস্থ শিক্ষা শুরু করুন। ইহার কোনটি করা আপনার পক্ষে সম্ভব? বোধহয় একটিও না। কেননা মানব জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে বিজ্ঞানের দান অনস্বীকার্য। টেলিগ্রাফ, টেলিফোন হইতে শুরু করিয়া দেশলাই ও সুচ সুতা পর্যন্ত সবই বিজ্ঞানের দান। বিজ্ঞানের কোন দান গ্রহণ না করিয়া মানুষের এক মুহূর্তও চলে না। মানুষ বিজ্ঞানের কাছে ঋণী। কিন্তু সমাজে এমন একশ্রেণীর লোক দেখিতে পাওয়া যায়, যাঁহারা হাতে ঘড়ি ও চক্ষে চশমা আঁটিয়া মাইকে বক্তৃতা করেন আর ‘বস্তুবাদ’ বলিয়া বিজ্ঞানকে ঘৃণা ও ‘বস্তুবাদী’ বলিয়া বিজ্ঞানীদের অবজ্ঞা করেন। অথচ তাঁহারা ভাবিয়া দেখেন না যে, ভাববাদীরা বস্তুবাদীদের পোষ্য। বিজ্ঞান মানুষকে পালন করে। কিন্তু ধর্ম মানুষকে পালন করে না, বরং মানুষ ধর্মকে পালন করে এবং প্রতিপালনও।” তিনি তাঁর ‘অনুমান’ গ্রন্থের ‘রাবণের প্রতিভা’, ‘ফেরাউনের কীর্তি’, ‘ভগবানের মৃত্যু’, ‘আধুনিক দেবতত্ত্ব’, ‘মেরাজ’, ‘শয়তানের জবানবন্দী’ প্রভৃতি প্রবন্ধে অনুসন্ধিৎসু ও বিজ্ঞানপ্রবণ মন নিয়ে বিশ্লেষণ করতে চেয়েছেন আমাদের বিশ্বাসের স্বরূপ। তিনি দেখিয়েছেন আমাদের চিন্তার যৌক্তিক অসারতা। ‘সৃষ্টি রহস্য’ গ্রন্থে মানুষ ও প্রকৃতি সম্পর্কে সারা পৃথিবীতে প্রচলিত একাধিক সৃষ্টিতত্ত্ব আলোচনা করেছেন। তিনি বুঝেছেন সৃষ্টি রহস্য সম্পর্কে চৈনিক মত, মিশরীয় মত, ফিনিসীয় মত, ব্যাবিলনীয় মত, অস্ট্রেলিয়া-আফ্রিকা-আমেরিকার আদিম অধিবাসীদের মত, পলিনেশীয় মত, বৈদিক ধর্ম, পার্সি ধর্ম, বৌদ্ধ ধর্ম, ইহুদি ধর্ম, খ্রিস্টিয় ধর্ম, ইসলাম ধর্ম প্রভৃতির মত পরস্পরের চাইতে আলাদা। সেমেটিক ধর্মগুলোর (ইহুদি, খ্রিস্টিয়, ইসলাম) সৃষ্টিতত্ত্ব প্রায় একই হলেও পরবর্তী ধর্মটি পূর্ববর্তীর তুলনায় নিজেরটাই সঠিক বলে ভেবেছে এবং পূববর্তী ধর্ম সম্পর্কে নিন্দামুখী ও আক্রমণাত্মক ভূমিকা গ্রহণ করেছে। দার্শনিক মতের সৃষ্টিতত্ত্ব সম্পর্কেও তাঁর কৌতুহল ছিল। থেলিস, অ্যানাক্সিমান্ডার, পিথাগোরাস, জেনোফেনস, হিরাক্লিটাস, এরিস্টটল, এম্পিডোকলস, অ্যানাক্সাগোরাস, ডেমক্রিটাস, লিউকিপ্পাস, সক্রেটিস, প্লে¬টো, অ্যারিস্টটল প্রমূখ প্রদত্ত সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধেও তাঁর সচেতন জ্ঞানপিপাসা ছিল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত নন তিনি। তারপরও দাবিকৃত শিক্ষিতজনদের চাইতে তিনি অনেক বেশি শিক্ষিত ছিলেন। মননশীলতার অসাধারণ সৌকর্যছটায় আমাদের সামনে দাঁড় করিয়েছেন যে প্রশ্নধারা তা আজ মহাসত্যে পরিণত হয়েছে। সামাজিক দৃষ্টিতে অশিক্ষিত কিন্তু স্বশিক্ষায়, প্রজ্ঞায়, মননে, বুদ্ধিবৃত্তিতে বাঙালি জাতির উজ্জ্বল এই নক্ষত্রটির নাম আরজ আলি মাতুব্বর। বাংলা ১৩৯২ সালের ৩ পৌষ জন্ম নেয়া এই ব্যক্তিটি অর্থকষ্টে ভুগেছেন সারাজীবন। তারপরও গ্রন্থের সংস্পর্শ থেকে জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত দূরে থাকেননি। তিনি জন্ম নিয়েছেন বরিশাল শহর থেকে ছয় মাইল উত্তর-পূর্ব দিকে কীর্তনখোলা নদীর পশ্চিম তীরে লামচরি নামক এক প্রত্যন্ত গ্রামে। সেখানে কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষালয় ছিলনা। তাই মুন্সি তাহের আলীর মক্তবে আরজ আলির শিক্ষাজীবন শুরু হয়। মুন্সি আব্দুল করিম, মুন্সি আফছার উদ্দিন প্রমূখের কাছে কোরানীয় শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তাতে আরজ আলির জ্ঞানতৃষ্ণা মেটেনি। অর্থাভাবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগও আর তাঁর জীবনে ঘটেনি। নিজের ভাষায় তিনি ছিলেন ‘আজীবন পল্লীবাসী’, পেশায় ‘খাঁটি কৃষক’, জীবনের অধিকাংশ সময়ই তাঁর ‘সহচর ছিল গরু’। তিনি ছিলেন ‘ইংরেজী ভাষায় অদ্বিতীয় মূর্খ’, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল ‘সেকালের পাঠশালার দ্বিতীয় শ্রেণী’ পর্যন্ত। সেই তিনিই নিজের ভিতরে লালন করেছেন একটি চিরপ্রজ্জ্বল দীপশিখা যার নাম ‘মুক্তবুদ্ধি’।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একা একাই তিনি অন্যদের ফেলে দেয়া বই, ছেঁড়া কাগজ, বাজারের ঠোঙা পড়ে পড়ে বাংলা পড়তে ও লিখতে শিখেছেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে বই সংগ্রহ করে শিখেছেন ভূগোল, ইতিহাস, সমাজতত্ত্ব, দর্শন, ব্যাকরণ। ইসলামের গন্ডী পেরিয়ে রামায়ণ, মহাভারত, গীতা, মনসামঙ্গল, মনুসংহিতা পড়েছেন, লাভ করেছেন সনাতন ধর্ম সম্পর্কে প্রভূত জ্ঞান। ক্রমাগত মানসিক দিগন্ত প্রসারিত করার এক অদম্য নেশায় পেয়ে বসেছিল তাঁকে। তাঁর কৌতুহলী মনের সামনে সব সময়ই একটি প্রশ্ন ‘কেন’ তাকে দাঁড় করিয়েছে এক মহাকালিক সমাধানের সামনে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মৃত মায়ের ছবি তোলার কারণে যে সময়ে ধর্ম ও সমাজনেতাদের কাছে তিনি অপরাধী সাব্যাস্ত হন সেসময় তিনি স্বপাঠ প্রক্রিয়ায় দশম শ্রেণীর পাঠ্যবই পড়ছিলেন। সমসাময়িক সময়েই তিনি দিন-রাত, জোয়ার-ভাটা, শীত-গ্রীষ্ম, বজ্র-বৃষ্টি, ভূমিকম্প প্রভৃতি প্রকৃতি বিজ্ঞান সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে করতেই যুক্তিবাদী হয়ে উঠছিলেন। প্রায় প্রতিটি বিষয়েই প্রশ্ন করা এবং তার বিজ্ঞান সম্মত উত্তর খোঁজা তাঁর অভ্যাসে পরিণত হয়ে গিয়েছিল। মৃত মায়ের ফটো তোলা কেন্দ্রিক ঘটনায় তাঁর অনুসন্ধিৎসু মন দৃষ্টি ফেরালো ধর্মের দিকে। এবার তিনি সচেতনভাবে শুরু করলেন বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মের গ্রন্থপাঠ। অসংখ্য দার্শনিক প্রশ্ন তাঁকে এক নতুন পৃথিবীর সন্ধান দিল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রচলিত অর্থে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত নন। কিন্তু অনেক শিক্ষিতজনের চাইতেও তাঁর দৃষ্টি স্বচ্ছ ও গভীর ছিল। প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞানগর্বী আমাদের মননে আঘাত করে অশিক্ষিত(?) আরজ আলি মাতুব্বর দেখিয়ে দিয়েছেন মুক্তবুদ্ধি কিংবা যুক্তিবাদী হওয়ার জন্য কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রীধারী হওয়ার প্রয়োজন পড়েনা। তিনি ছিলেন স্বশিক্ষিত। তাই তিনি বুঝেছেন, “শাহ ছাহেবদের ‘কালাম’এর তাবিজে কৃমি পড়ে না, কৃমি পড়ে স্যান্টোনাইন সেবনে। মানত-সিন্নিতে জ্বর ফেরে না, জ্বর ফেরাইতে সেবন করিতে হয় কুইনাইন। লোকে বিশ্বাস করিবে কোনটি? নানাবিধ রোগারোগ্যের জন্য পীরের দরগাহ হইতে হাসপাতালকেই লোকে বিশ্বাস করে বেশি। গর্ভিনীর সন্তান প্রসব যখন অস্বাভাবিক হইয়া পড়ে, তখন পানিপড়ার চেয়ে লোকে বেবী ক্লিনিকের (Baby Clinic) উপর ভরসা রাখে বেশী।” এই সচেতন অনুভূতির জন্য তাঁকে ভুগতেও হয়েছিল। ধর্মবাদী ব্যক্তিগণ তাঁকে তাড়া করেছে জীবনভর। তবুও তিনি নিজ অবস্থান থেকে সরে আসেননি। বিজ্ঞান অনুসন্ধিৎসু মন দিয়ে যা বুঝেছেন তার পক্ষে নিজ অবস্থান অনড় রেখেছেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রচলিত ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা তিনি পাননি। তারপরও তিনি তাঁত, ডায়নামো, জলঘড়ি, জলকল প্রভৃতি যন্ত্র তৈরী করতে পেরেছিলেন। ‘সীজের ফুল’ নামক একটি কাব্যগ্রন্থও রচনা করেছিলেন। কিন্তু তাঁর মনীষা ও প্রজ্ঞার চরম প্রকাশ ঘটেছে ‘সত্যের সন্ধান’, ‘সৃষ্টি রহস্য’, ‘অনুমান’, ‘আমার জীবন দর্শন’ প্রভৃতি গ্রন্থগুলিতে। এই গ্রন্থগুলিতেই তিনি কুসংস্কার ও পশ্চাৎপদতার বিরুদ্ধে এক মৌনবিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। অন্যদের মত চীৎকার করে নয়; তাঁর স্বভাবসুলভ বৈশিষ্ট্যে, বিনম্র, ধীর, শান্ত ও যুক্তিবাদী ভঙ্গীতে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তিনি দেখেছেন আমাদের সমাজের মানুষেরা চিন্তায় স্থবির, জিজ্ঞাসাবিমুখ। তাঁরা হাজার বছর অতীতের বৈদেশিক নিয়মনীতিকেই সঠিক মনে করে। স্বদেশী চেতনা, মর্মবোধ, নীতি, সংস্কৃতি সম্পর্কে তাঁরা পোষণ করে এক অজ্ঞ বিমুখতা। এটা যে কুসংস্কার প্রবণতার ফল সে সম্বন্ধে আরজ আলি মাতুব্বরের কোন সন্দেহ ছিল না। ক্রমাগত গ্রন্থপাঠে তিনি বুঝে নিয়েছেন এই সামগ্রিক স্ববিরোধীতার উৎসসমূহ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রচলিত অর্থে তিনি নতুন কোন দার্শনিক তত্ত্বের সৃষ্টি করেননি। কোন মৌলিক তত্ত্ব উদ্ভাবনের চেষ্টাও তিনি করেননি। কিন্তু আমাদের চোখে আঙ্গুল দিযে দেখিয়ে দিয়েছেন কোন দার্শনিক মতকে কিভাবে গ্রহণ করতে হয়, কোনটি অধিকতর যুক্তিযুক্ত, কোনটি তুলনামূলকভাবে মানবীয়, কোনটি সর্বাপেক্ষা বিজ্ঞানচেতনাসম্পন্ন। তিনি এ সমাজের অজ্ঞান মানুষদের বৌদ্ধিক পুষ্টির অভাব দূর করতে চেয়েছিলেন। তাই শুধু প্রশ্নই করেননি। প্রশ্নের পাশাপাশি তাঁর প্রশ্ন করার কারণ, পদ্ধতি, বিশ্লেষন ও সমাধানের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। তিনি তাঁর সচেতন অর্থাৎ যুক্তিপ্রবণ মন দিয়ে যা দেখেছেন, মনে করেছেন, বুঝেছেন তা দ্বিধাহীনভাবে প্রকাশ করেছেন। কখনো কখনো পরস্পরবিরোধী মতগুলোর তুলনাও করেছেন কিন্তু কোন সিদ্ধান্ত দেননি। সমস্ত তথ্য ও তত্ত্ব তুলে ধরে প্রত্যাশা করেছেন পাঠকের বুদ্ধিপ্রভাবিত আলোকিত চিন্তার। কামনা করেছেন সুশিক্ষিত ব্যক্তিগণের মর্মদীপ্ত উপলব্ধির।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আরজ আলি মাতুব্বর এমন এক সমাজে জন্মগ্রহণ করেছেন যে সমাজ অন্ধকারাচ্ছন্ন, পশ্চাৎপ্রবণ, কুসংস্কারমুখী ও বৈদেশিক নীতির আফিমে আচ্ছন্ন। প্রতিভাবিমুখ এ সমাজে তাই আরজ আলিকে আমরা চিনিনা বা চিনলেও তাঁর সম্পর্কে পোষণ করি এক কুসংস্কার প্রভাবিত সংস্কার। মধ্যযুগে ফ্রান্সিস বেকন ইউরোপে জন্ম নিয়ে জন্ম দিয়েছেন আধুনিক যুগের। ইউরোপ তাঁকে রেনেসাঁসের অগ্রদূত বলে সম্মানীত করেছে। পণ্ডিতম্মন্য আমরা আরজ আলিকে না চিনলেও পাশ্চাত্যের আলোকিত সমাজ তাঁকে চিনতে ভুল করেনি। তাই যে সময়ে আরজ আলি তাঁর স্বদেশে প্রায় অজ্ঞাত বা নিষিদ্ধ সেই সময়ে ১৯৮২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নিউইয়র্কের ‘Iconoclast’ পত্রিকা লিখেছে Aroj ali, ‘The insurrectionist’, দিয়েছে সক্রেটিসের মর্যাদা।&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/5243345960059992699-8654164616490290610?l=bigyanbodh.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/feeds/8654164616490290610/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/2008/05/blog-post_8718.html#comment-form' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/5243345960059992699/posts/default/8654164616490290610'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/5243345960059992699/posts/default/8654164616490290610'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/2008/05/blog-post_8718.html' title='তিনি আরজ আলি মাতুব্বর'/><author><name>সুশান্ত বর্মন</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='31' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/_j1L4QAM2tRw/SOzw6uaJHHI/AAAAAAAAChM/5kHx3973jbs/S220/su.jpg'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://4.bp.blogspot.com/_j1L4QAM2tRw/SFJmewkk8HI/AAAAAAAABvU/0Q19Z5JO3KQ/s72-c/aroj_ali_matubbar.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-5243345960059992699.post-141518124670438647</id><published>2008-05-06T16:56:00.001+06:00</published><updated>2009-08-17T10:32:30.763+07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='জীবনী'/><title type='text'>অমর বিজ্ঞানী এডিসন</title><content type='html'>&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;a onblur="try {parent.deselectBloggerImageGracefully();} catch(e) {}" href="http://2.bp.blogspot.com/_j1L4QAM2tRw/SFJlwicHUNI/AAAAAAAABvE/xpzn8rm_tH8/s1600-h/Edison.jpg"&gt;&lt;img style="margin: 0pt 10px 10px 0pt; float: left; cursor: pointer;" src="http://2.bp.blogspot.com/_j1L4QAM2tRw/SFJlwicHUNI/AAAAAAAABvE/xpzn8rm_tH8/s320/Edison.jpg" alt="" id="BLOGGER_PHOTO_ID_5211339603373936850" border="0" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;span style="font-weight: bold; color: rgb(153, 0, 0);"&gt;অমর বিজ্ঞানী এডিসন&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-weight: bold; color: rgb(153, 0, 0);"&gt;সুশান্ত বর্মন&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-style: italic;"&gt;ছবি সূত্র: &lt;/span&gt;&lt;a style="font-style: italic;" href="http://en.wikipedia.org/wiki/Thomas_Edison"&gt;উইকিপিডিয়া&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১৮৫৭ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি। আমেরিকার ওহিও রাজ্যের মিলান শহর। পরপর একটি কন্যা ও একটি পুত্র সন্তান মারা যাবার পর জন্ম নিল একটি পুত্র সন্তান। এডিসন শ্যামুয়েল নামক কাঠ ব্যবসায়ীর ঘরে। নাম তাঁর টমাস অ্যালভা এডিসন। ডাক নাম অ্যাল। পৃথিবীর অন্যান্য শিশুদের মতো হৈ হুল্লোড় আনন্দ উল্লাস তিনিও করেছে, অন্যদের মতো পৃথিবীর সবকিছু সম্পর্কে একচোখ প্রশ্ন তাঁরও ছিল; মাতা পিতাকে অনবরত কেন কি ইত্যাদি প্রশ্ন করে জ্বালিয়েছেন। কিন্তু অন্য শিশুদের মতো পিতামাতার মনগড়া উত্তরে তিনি সন্তুষ্ট থাকেননি। নিজে নিজে উত্তর খোঁজার প্রবল আগ্রহে দশ বছর বয়সেই তিনি বাড়ির সেলারে (মাটির নীচের ঘর) তৈরি করেছিলেন। সেখানে বসে রাজ্যের জিনিস নিয়ে অনবরত পরীক্ষা নিরীক্ষা করে যেতেন। রসায়ন শাস্ত্রের প্রতি এডিসনের সবচেয়ে বেশি ভালোবাসা ছিল। তাই তাঁর ল্যাবরেটরিতে দুইশরও বেশি বোতলে বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য ভরা ছিল, প্রত্যেকটার গায়ে এডিসন সযতনে কাগজে নাম লিখে লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর ল্যাবরেটরিতে আর ছিল বই। তিনি নয় বছর বয়সেই এমন সব বই পড়েছিলেন যা বড়রাও পড়তে ভয় পায়। যেমনঃ হিউম এর ‘ইংল্যান্ডের ইতিহাস’, গিবন এর ‘রোম সাম্রাজ্যের ইতিহাস’, ফ্রেসিলিয়াস এর ‘কোরলেটিভ আনালাসিস’, সিয়ার এর ‘পৃথিবীর ইতিহাস’, ‘বিজ্ঞানের অভিধান’, ‘স্কুল অব ন্যাচারাল ফিজিক্স’ ইত্যাদি। ক্রমাগত গ্রন্থপাঠে তিনি বুঝে নিতে চেয়েছেন তাঁর কৌতুহলী মনে উন্মেষ হওয়া বিভিন্ন প্রশ্নের। নিউটনের লেখা ‘প্রিন্সিপিয়া’ বইটিও এডিসন প্রতিদিন একটু একটু করে পড়তেন, বোঝার চেষ্টা করতেন এর উচ্চতর গণিত বিষয়ক বিভিন্ন সূত্রগুলো। তবে বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক ফ্যারাডের মতো তিনিও অংকে নিতান্ত কাঁচা ছিলেন। বাবা চাইতেন ছেলে সাহিত্যিক হোক। তাই সেকালের বিভিন্ন রুচিশীল সাহিত্যের বই তিনি নিয়মিত ছেলের জন্য নিয়ে আসতেন। অতটুকু ছেলের সাথে সাহিত্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা করতেন। তবে এডিসনের সবচেয়ে ভালোলাগার বিষয় ছিল বিজ্ঞান বিশেষ করে রসায়ন। তবে সে সময় বিদ্যুত প্রথম আবিষ্কার হয়। তাই এডিসন বিদ্যুত আবিষ্কারের শৈশব অবস্থা থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছিলেন। ফলে বিদ্যুত সম্পর্কিত বিভিন্ন যন্ত্র আবিষ্কারে তিনি বেশি সফল হয়েছিলেন। ভূগর্ভস্থ ল্যাবরেটরিতে বসে বিভিন্ন বইয়ে লেখা বিবরণ পড়ে এডিসন চেষ্টা করতেন নতুন কিছু বানাবার। একটি বইয়ে তিনি পড়েছিলেন বেলুনে গ্যাস ভর্তি করলে তা আকাশে ওড়ে। তিনি ভাবলেন তাহলে তো মানুষের ভিতরে গ্যাস ভর্তি করে দিলে মানুষও আকাশে উড়বে। যেই ভাবা সেই কাজ। কাজের ছেলে মাইকেল ওটসকে এডিসন ডাকলেন। একটি বোতলে সিডলিজ পাউডার ছিল। এডিসন ভেবেছিলেন ঐ পাউডার দিয়ে হয়তো অনেক গ্যাস তৈরি হবে। তাই মাইকেল ওটসকে সিডলিজ পাউডার সবটুকু খাইয়ে দিলেন। ওটস এর পেটে প্রচণ্ড ব্যথা হলেও সে উড়তে পারেনি। আরেকবার একটি মুরগীকে ডিমে তা দিতে দেখে এডিসন ভাবলেন তিনিও ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফোটাতে পারবেন। হঠাৎ একদিন এডিসন উধাও হয়ে গেলেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে পাওয়া গেল গোয়াল ঘরের একপাশে। সেখানে তিনি অনেকগুলো ডিমের ওপর বসেতা দিচ্ছিলেন।&lt;br /&gt;এমনি মজার কিন্তু অনুসন্ধিৎসু গবেষণা নিয়েই এডিসন ধীরে ধীরে বেড়ে উঠছিলেন। নিরন্তর গবেষণার মাধ্যমে তিনি প্রতিনিয়ত নতুন নতুন যন্ত্র আবিষ্কার করছিলেন। তার প্রথম আবিষ্কার এর সাথে বাংলাদেশের অবস্থার একটি দারুণ মিল আছে। একুশ বছর বয়সে এডিসন একটি ভোট রেকর্ডার যন্ত্র আবিষ্কার করেন। এতে ভোটাভোটি নিজে থেকেই লিপিবদ্ধ হয়ে যায়। এডিসন রাজধানী ওয়াশিংটনে যন্ত্রটিকে নিয়ে এলেন। সেখানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দেখালেন। তাঁরা সবাই যন্ত্রটির খুব প্রশংসা করলেন এবং এডিসনকে এমন করিৎকর্মা যন্ত্র আবিষ্কারের জন্য ধন্যবাদ জানালেন। কিন্তু যন্ত্রটি তাঁরা কিনলেন না। কারণ হিসাবে বললেন- “এ যন্ত্রটি আমাদের কোন কাজেই আসবে না। কেননা ভোট দেয়া নিয়ে হাঙ্গামা, গণ্ডগোল, গোলযোগ, গোলমাল, ঝগড়াঝাঁটি করাই আইনসভার লক্ষ্য, বিনা ঝামেলায় ভোট নেয়া নয়।” এমন অদ্ভূত কারণে তাঁর আবিষ্কারটি গৃহীত হলো না দেখে এডিসন মনোক্ষুন্ন হলেও নিরুৎসাহিত হয়ে যাননি। তিনি জানতের রাজনীতিকরা এমনই হয়।&lt;br /&gt;পিতার কাছ থেকে এডিসন যা হাতখরচ পেতেন তাতে তাঁর ল্যাবরেটরির খরচ যোগানো কঠিন হয়ে যেতো, তাই তিনি শুরু করলেন ফেরি করা। ট্রেনে ফেরি করে তিনি বাদাম, চকলেট ইত্যাদি বিক্রি করতেন। পরে শুরু করেন সংবাদপত্র বিক্রি করা। সমসাময়িক সময়ে আমেরিকায় গৃহযুদ্ধ চলছিলো। খবরের চাহিদা বেশি হওয়ায় নিজেই একটি পত্রিকা প্রকাশ করা শুরু করলেন। নাম দিলেন হেরাল্ড। মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে তিনি এই কাজ শুরু করেন। সে কাগজে দুচারটি বানান ভুল, বাক্য ভুল থাকলেও কাগজটি ভালই চলেছিল। যুদ্ধের তাজা খবর, স্থানীয় খবর, গুজব ইত্যাদি প্রকাশ করতেন তিনি। তাই সেসময় কাগজটি খুব বিক্রি হচ্ছিল। অনেক টাকা লাভ হলেও এডিসনের হাত প্রায়ই খালি থাকতো। ল্যাবরেটরিতে গবেষণা ও বই কেনার পিছনেই তাঁর বেশিরভাগ টাকা খরচ হয়ে যেতো। রেলে খবরের কাগজ বিক্রি করতে গিয়ে তিনি দেখলেন একটি খালি কামরা অব্যবহৃত পড়ে আছে। তখন সেটাকেই তিনি কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে নিজের ল্যাবরেটরিতে রূপান্তর করলেন। এখানে কাজ করতে করতেই তিনি বিদ্যুৎ শক্তি সম্পর্কে প্রভূত জ্ঞান অর্জন করেন। বিদ্যুৎ সম্পর্কে কৌতুহল তাঁকে পৌঁছে দিয়েছিল সমৃদ্ধি ও সাফল্যের চূড়ায়।&lt;br /&gt;সেসময় নতুন আবিষ্কার হওয়া টেলিগ্রাফ যন্ত্রের একটা ত্রুটি ছিল। বহুদূরের দুই টেলিগ্রাফ কেন্দ্রের মাঝখানে যে কেন্দ্রগুলি ছিল সেগুলি আর দিক থেকে পাঠানো খবর গ্রহণ করতে ও তাতে পরিবর্তন করতে পারতো। ফলে গোপনীয়তা বলতে কিছু থাকতো না। এডিসন এই ত্রুটিটি ঠিক করে দিয়েছিলেন। সেকালে টেলিগ্রাফ যন্ত্রের একটি তার দিয়ে একটি খবরই পাঠানো যেতো। এডিসন একসাথে অনেকগুলো খবর বিকৃতি ছাড়া পাঠানোর পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। টেলিগ্রাফ সম্পর্কিত গবেষণা করতে করতে তিনি পাশাপাশি আরও কয়েকটি নতুন যন্ত্র আবিষ্কার করেন। এরকমই একটি যন্ত্রের নাম ‘রেমিংটন টাইপরাইটার’। কিছুদিন পর আবিষ্কার করেন ‘মিলিওগ্রাফ’ নামের একটি যন্ত্র। এটি দিয়ে টাইপরাইটার বা হাতে লেখা চিঠি যত ইচ্ছা তত কপি করা যায়।&lt;br /&gt;আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেলের আবিষ্কার করা টেলিফোনে কথা খুব অস্পষ্ট শোনা যেতো। এডিসন কার্বন রিসিভার ও ট্রান্সমিটার আবিষ্কার করে এই ত্র“টি ঠিক করে দেন। সমসাময়িক সময়েই তিনি আবিষ্কার করেন ‘ফনোগ্রাফ’ নামক যন্ত্রটি। একটি ডায়াফ্রেমের সামনে কথা বললে সেটি কাঁপতে থাকে। এই কাঁপুনি একটি সুই দ্বারা নিচে রাখা ঘুর্ণায়মান মোমের সিলিন্ডারে দাগ ফেলতে থাকে। পরে সিলিন্ডারটি আবার প্রথম থেকে ঘোরালে ডায়াফ্রেমে পূর্বে উচ্চারিত কথাগুলো স্পষ্ট শোনা যায়। আধুনিক সিডি প্লেয়ারের এই প্রাথমিক ও সরল যন্ত্রটি আবিষ্কার করতে এডিসনকে অনেক বেগ পেতে হয়েছিল। সবচেয়ে মজার ঘটনাটি ঘটেছিল এর প্রদর্শণ অনুষ্ঠানে। হলভর্তি লোকের সামনে যন্ত্রটি যখন এডিসনের প্রিয় কবিতা “মেরি হ্যাড এ লিটিল ল্যাম্ব” কবিতাটি আবৃতি করছিল তখন বিজ্ঞানে অবিশ্বাসী এক ব্যক্তি হঠাৎ লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়লো। মঞ্চে উঠে এডিসনের গলা চেপে ধরে বললো- ‘এই প্রতারকের গলা থেকে শব্দ বেরোচ্ছে’। কিন্তু সকলকে অবাক করে দিয়ে যন্ত্রটি তখনও কবিতা আবৃতি করে যাচ্ছিল।&lt;br /&gt;এডিসনের সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী আবিষ্কার হল বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কার। আকাশের বিদ্যুতকে মানুষ তখন ব্যাটারিতে আটকাতে পেরেছিলো। তারপরও কেউ বিশ্বাস করতে পারেনি যে তা থেকে আলো পাওয়া সম্ভব। এডিসন নিজ মেধা ও প্রচেষ্টায় সেই অলৌকিকতাকে বাস্তব রূপ দিয়েছিলেন। ১৮৭৯ সালে অক্টোবর মাসে তিনি স্থানীয় পার্ক বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত করে সকলকে অবাক করে দিয়েছিলেন। আধুনিক যুগের সিনেমার আবিষ্কারকও ছিলেন তিনি। ১৮৯৭ সালের ২৭ এপ্রিল নিউইয়ের্কে হাজার হাজার দর্শকের সামনে এডিসন তাঁর ‘কাইনেটোস্টোপ’ নামক যন্ত্রের সাহায্যে চলমান ছবি দেখিয়েছিলেন। শিল্প জগতে জন্ম দিয়েছেন নতুন একটি যুগের। তিনি সিমেন্ট, আধুনিক সহজে বহনযোগ্য ব্যাটারি, রাবার ইত্যাদি আবিষ্কার করেছেন।&lt;br /&gt;পেটেন্ট অফিস থেকে জানা যায় এডিসন তাঁর সারাজীবনে মোট ১৪০০ যন্ত্রের জন্য পেটেন্ট নিয়েছেন। এ থেকেই তাঁর প্রতিভার বিস্তৃতির পরিমাপ আন্দাজ করা যায়। কোন একটি নতুন আইডিয়া মাথায় এলে তিনি তার পিছনে নিষ্ঠার সাথে লেগে থাকতেন। অনবরত পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে সাফল্যকে স্পর্শ করতে চাইতেন। তাঁর অধ্যবসায়ের শক্তি সম্পর্কে দুটি ঘটনা উল্লেখ করা যথেষ্ঠ। হেনরী ফোর্ড সে সময় মোটর গাড়ি আবিষ্কার করেছেন। এই গাড়িতে সহজে পরিবহনযোগ্য নিরাপদ ব্যাটারির প্রয়োজন। এজন্য তিনি বন্ধু এডিসনকে অনুরোধ করেন। এডিসন নতুন ধরনের ব্যাটারি আবিষ্কারের নেশায় সব কাজ ছেড়ে এদিকে মনোযোগ দিলেন। একটি হালকা, টেকসই, সহজে বহনযোগ্য, নিরাপদ ব্যাটারির জন্য তিনি ৫০ হাজার বার পরীক্ষা করেন। তারপর আবিষ্কার করেন তার সাফল্য। তাঁর প্রথম জ্বলা বৈদ্যুতিক বাতিটির ফিলামেন্ট ছিল সুতার তৈরি। এটি একনাগাড়ে ৫০ ঘন্টা জ্বলেছিলো। এরপর যথার্থ উপাদানের জন্য তিনি হাতের কাছে যা পাওয়া গেছে তাকেই কাজে লাগানোর চেষ্ট করেছিলেন। টিস্যু কাগজ, ড্রয়িং কাগজ, আলকাতরা আর ভুষাকালি মাখানো সুতো, মাছ ধরার সুতো, কাঠের টুকরো, নারকেলের ছিবড়ে, প্রদীপের সলতে কিছুই বাদ দেননি। বৈদ্যুতিক বাতিতে ফিলমেন্ট হিসাবে জ্বলার জন্য একটি যথার্থ উপাদানের খোঁজে তিনি কয়েকবছর ধরে নিরলস অন্বেষণ চালিয়ে গিয়েছিলেন। তারপর সুমাত্রার বাঁশের আঁশকে কাজে লাগাতে পেরেছেন। পরবর্তীতে অবশ্য ট্যাংস্টেন নামক ধাতু দিয়ে ফিলামেন্ট তৈরি করে তিনি বেশ সাফল্য পেয়েছিলেন। অধ্যবসায়ী এডিসন পরাজয় কাকে বলে তা চিনতে শেখেননি। পরবর্তী সফল জীবনে বিভিন্ন জায়গার ভাষণে তিনি একটা কথাই বারবার বলতেন- “প্রতিভার ষোল আনার চৌদ্দ আনাই হল পরিশ্রম, বাকী দু আনা প্রেরণা।” তিনি ২৪ ঘন্টায় ৪ ঘন্টার বেশি ঘুমাতেন না। তিনি বলতেন- “আমরা খুব বেশি ঘুমাই। এত ঘুম আমাদের ক্ষতি ছাড়া লাভের কারণ হয় না।”&lt;br /&gt;শৈশবে এডিসন ‘বোকা’ উপাধি পেয়েছিলেন বন্ধু, শিক্ষক, পরিবারের কাছ থেকে এবং পড়াশোনায় বিশেষ করে অংকে খুবই কাঁচা ছিলেন। স্কুলে শিক্ষক ও ছাত্ররা এনিয়ে তাঁকে পরিহাস করলে তিনি বাড়িতে ফিরে এসে মায়ের বুকে মুখ লুকিয়ে কাঁদতেন। তাঁর মামাতো বোন পরবর্তীকালে বলেছিলেন- “অ্যাল খুব শান্ত সুবোধ ছিল। কিন্তু যখন গোঁ ধরতো তখন আর কোন কথাই তাকে শোনানো যেতো না। তাকে আমি খুব মারতাম। কিন্তু আমাদের মধ্যে বেশ ভাবও হয়েছিল।”&lt;br /&gt;এডিসন পড়া ও পড়ার বাইরে পছন্দ করতেন থিয়েটার দেখা ও দেশ ভ্রমণ। অল্প বয়স থেকেই এডিসন পড়ার প্রতি যে আগ্রহ নিজের ভেতরে বোধ করেছেন তা থেকে কখনও বিচ্যুত হননি। কিন্তু এ কারণে তাঁকে অনেকে হিংসা করতো। এডিসন অল্পবয়সেই মেধা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার যে চিত্র তুলে ধরেছিলেন তা অনেকেই ঈর্ষাবশত সহ্য করতে পারেননি। এডিসনের সহকর্মী মিলটন অ্যাডামস বিভিন্ন জায়গায় বলে বেড়াতেন- “অ্যালের পোষাক পরিচ্ছদ নোংরা ও ছোঁড়া ছিল, নিয়মিত স্নান করতো না। নাকটা উঁচু, চোখেমুখে সর্বদাই নেপোলিয়নের মত একটা ভাব।” যে এডিসন সম্পর্কে তাঁর সহকর্মীরা এমন নিন্দা করে বেড়াতো সেই তিনিই পরবর্তী জীবনে ভূষিত হয়েছিলেন বিভিন্ন সম্মানে। ১৯২১ সালে তাঁর ৭৫ বছর পূর্ণ হয়। নিউইয়র্কের টাইমস পত্রিকা আমেরিকার মধ্যে সবচাইতে জনপ্রিয় ব্যক্তি কে তা যাচাইয়ের জন্য একটি জরীপ করে। ফলাফল অনুসারে দেখা যায় সবচাইতে জনপ্রিয় ব্যক্তি ‘টমাস অ্যালভা এডিসন’। ফ্রান্সে তাঁকে দেয়া হয় ‘কমান্ডার অব লিজিয়ন অনার্স’ উপাধি, ইতালিতে তাকে ‘কাউন্ট’ উপাধি দেয়া হয়। তাঁর নিজদেশ আমেরিকায় তিনি দেশসেবার জন্য স্বর্ণপদসহ বহু পুরস্কার পেয়েছেন, ভূষিত হয়েছেন বহু সম্মানজনক উপাধিতে। সরকার এডিসনের ছবি ও তাঁর আবিষ্কৃত প্রথম বৈদ্যুতিক বাল্বের ছবি দিয়ে ডাক টিকিট বের করেছিলেন। এই অমর বিজ্ঞানী সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট হুভার বলেছিলে- “ মি. এডিসন স্বীয় প্রতিভা আর প্রচেষ্টার বলে গৌরবের উচ্চশিখরে আহরণ করেছেন। আর দশজন মানুষের মতই তিনি সাধারণ ভাবে জীবন যাত্রা শুরু করে আজ সমাজের শীর্ষ স্থানীয় ব্যক্তি। এডিসনের জীবন অধ্যাবসায় এবং ধৈয্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মহান বিজ্ঞানী এডিসন মারা যান ১৯৩১ সালের ১৭ অক্টোবর। সমাপ্ত ঘটে একটি নিরলস প্রচেষ্টায় গাঁথা কর্মবহুল জীবনের। পৃথিবীতে রেখে যান অসংখ্য আবিষ্কার যা তাঁকে চিরকাল স্মরণীয় করে রাখবে। পৃথিবীর অগ্রগতিতে তার অবদান বেঁচে থাকবে মানুষের বয়সে।&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/5243345960059992699-141518124670438647?l=bigyanbodh.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/feeds/141518124670438647/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/2008/05/blog-post_06.html#comment-form' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/5243345960059992699/posts/default/141518124670438647'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/5243345960059992699/posts/default/141518124670438647'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/2008/05/blog-post_06.html' title='অমর বিজ্ঞানী এডিসন'/><author><name>সুশান্ত বর্মন</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='31' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/_j1L4QAM2tRw/SOzw6uaJHHI/AAAAAAAAChM/5kHx3973jbs/S220/su.jpg'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://2.bp.blogspot.com/_j1L4QAM2tRw/SFJlwicHUNI/AAAAAAAABvE/xpzn8rm_tH8/s72-c/Edison.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-5243345960059992699.post-5273652064965763585</id><published>2008-05-02T08:20:00.000+06:00</published><updated>2009-10-05T08:21:17.665+07:00</updated><title type='text'>toc</title><content type='html'>&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/5243345960059992699-5273652064965763585?l=bigyanbodh.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/5243345960059992699/posts/default/5273652064965763585'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/5243345960059992699/posts/default/5273652064965763585'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/2008/05/toc.html' title='toc'/><author><name>সুশান্ত বর্মন</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='31' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/_j1L4QAM2tRw/SOzw6uaJHHI/AAAAAAAAChM/5kHx3973jbs/S220/su.jpg'/></author></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-5243345960059992699.post-3419831566471069805</id><published>2008-04-27T14:38:00.001+06:00</published><updated>2009-08-17T10:32:30.880+07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='সচেতনতা'/><title type='text'>আপনাকে স্বাগতম</title><content type='html'>&lt;span style=";font-family:Vrinda;font-size:100%;"  &gt;আজ থেকে &lt;span style="font-weight: bold;"&gt;বিজ্ঞানবোধ&lt;/span&gt; ব্লগের যাত্রা শুরু হল। &lt;/span&gt;এই ব্লগের প্রধান উদ্দেশ্য বিজ্ঞান চিন্তা, বিজ্ঞান গবেষণা, বিজ্ঞান আলোচনা, বিজ্ঞান দর্শন তথা বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট যাবতীয় চিন্তা ও কর্মকে ধারণ করা।&lt;br /&gt;&lt;ul&gt;&lt;li&gt;বিজ্ঞান বিষয়ক তথ্য ও তত্ত্ব অনুসন্ধানের মাধ্যমে আমরা গড়ে তুলতে চাই বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ।&lt;/li&gt;&lt;li&gt;আবেগ ও যুক্তির সীমারেখাকে প্রশ্রয় দিয়ে বিজ্ঞানবোধ ব্লগ নিজ চেতনায় সমুন্নত থাকবে এ আমাদের আন্তরিক প্রত্যাশা।&lt;/li&gt;&lt;li&gt;বিজ্ঞানবোধ ব্লগ সবার জন্য উন্মুক্ত। বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আপনার নিজের ও বন্ধুদের উদ্যোগ, কর্মতৎপরতা, ভাবনা-চিন্তা বিবিধ বিষয় নিয়ে লিখুন, বিজ্ঞান অনুরাগীদেরকে লিখতে উৎসাহ দিন।&lt;/li&gt; &lt;li&gt;পশ্চাৎপদতা নয় অগ্রসর হওয়াই জীবনের লক্ষণ বিজ্ঞানচেতনার এই মর্মবাণী সকলের কাছে পৌঁছাক।&lt;/li&gt;&lt;li&gt;বাঙালি জাতি পরিচিত হোক আলোকিত জনগোষ্ঠী হিসেবে।&lt;/li&gt;&lt;/ul&gt;&lt;span style="font-weight: bold;"&gt;এই ব্লগ ভ্রমণ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম জানাই।&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/5243345960059992699-3419831566471069805?l=bigyanbodh.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/feeds/3419831566471069805/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/2008/04/blog-post_27.html#comment-form' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/5243345960059992699/posts/default/3419831566471069805'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/5243345960059992699/posts/default/3419831566471069805'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://bigyanbodh.blogspot.com/2008/04/blog-post_27.html' title='আপনাকে স্বাগতম'/><author><name>সুশান্ত বর্মন</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='31' height='32' src='http://2.bp.blogspot.com/_j1L4QAM2tRw/SOzw6uaJHHI/AAAAAAAAChM/5kHx3973jbs/S220/su.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry></feed>
