শিবাজি দে
সহকারী অধ্যাপক
আব্দুলপুর সরকারি কলেজ, নাটোর।
সহকারী অধ্যাপক
আব্দুলপুর সরকারি কলেজ, নাটোর।
দর্শন এমন এক জ্ঞানের শাখা যা পরিচিত অন্যান্য বিষয়গুলোর সাথে বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে সম্পূর্ণই আলাদা। দর্শনের এই অনন্যতা চিহ্নিত করা খুব সহজ নয়। অন্যান্য জ্ঞানের শাখায় তাদের বিষয়বস্তু শনাক্ত করা বা ব্যাখ্যা করা যতটা সহজ, দর্শনের ক্ষেত্রে তা বেশ কষ্টসাধ্য। সাধারণভাবে বলা যায়, জগৎ ও জীবনকে সামগ্রিকভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করে সে সম্পর্কে সুষ্ঠু এবং যুক্তিসংগত একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হবার চেষ্টা করাই হলো দর্শন। আবার বলা যায়, জ্ঞানের প্রতি ভালোবাসা বা জ্ঞানানুশীলনের প্রতি আকাঙ্ক্ষাই হলো দর্শন। কিন্তু দর্শনকে এরূপ সংজ্ঞায়নের চেষ্টায় এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা জন্মায় না। তবে দু'দিক থেকে দর্শনের আলোচ্য বিষয়ের কথা বলার চেষ্টা করা যায়। একদিকে, আমাদের ধারণা বা চিন্তাগুলোকে বিশ্লেষণ ও উপলব্ধির চেষ্টা করা দর্শনের মূখ্য কাজ। বিভিন্ন জ্ঞানের শাখায়, এমনকি আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও আমরা বিভিন্ন ধারণাকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করি। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই এ ধারণাগুলি বিচার-বিশ্লেষণহীনভাবে গ্রহণ করা হয়। দার্শনিকরা এসব বিভিন্ন বিষয়ের উপর ব্যবহৃত ধারণাগুলোকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে এদের সঠিকতা বা নিশ্চয়তা দেখতে চেষ্টা করেন। আবার অন্যদিকে দর্শনকে চিহ্নিত করা হয় 'চিন্তা সম্পর্কিত চিন্তা' হিসেবে। এই দিক থেকে সকল জ্ঞানের শাখাতেই দর্শনের প্রবেশাধিকার আছে। যেমন-সমাজ-দর্শন, ধর্ম-দর্শন, রাষ্ট্র-দর্শন, বিজ্ঞান-দর্শন প্রভৃতি। প্রকৃতপক্ষে দর্শনকে তার বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে নয় বরং তার অনন্য উপস্থাপন বা পদ্ধতির ভিত্তিতে তাকে সংজ্ঞায়িত করা দরকার।
দর্শনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অন্যান্য বিষয়ের যেমন বাস্তব ফলাফল পাওয়া যায়, দর্শনে তেমন কিছু পাওয়া যায় না। এর আংশিক কারণ হলো যখনই কোন বিষয়ের সুনির্দিষ্ট জ্ঞান সম্ভব হয়, তখনই সেটা দর্শন নামের অযোগ্য হয়ে যায়, এবং তা একটা আলাদা বিজ্ঞানে রূপ লাভ করে। অর্থাৎ যে সব প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে তা বিজ্ঞানে রূপ লাভ করে এবং যে সব প্রশ্নের উত্তর এখনও খুঁজে পাওয়া যায় নি তাদেরকেই দর্শনে আলোচনা করা হয়। এ জাতীয় কিছু প্রশ্ন, যেমন:-
- শুভ অশুভ কি?
- এগুলোকি সমস্ত বিশ্বজগতের জন্য প্রযোজ্য?
- জগতের কি কোন উদ্দেশ্য আছে?
- ইচ্ছার কি কোন স্বাধীনতা আছে?
- চেতনা কি জড় থেকেই উৎপন্ন?
দর্শনে আলোচ্য বিষয়গুলোর অনিশ্চয়তার মধ্যেই দর্শনের প্রকৃত মূল্য নিহিত। যে ব্যক্তির দর্শন বা বুদ্ধিবৃত্তিক বিচারবিশ্লেষণ নেই, তার জীবন নানা সংস্কারের বেড়াজালে বন্দী অবস্থায় কাটে। এসব সংস্কারগুলো আসে সাধারণ জ্ঞান থেকে অথবা তার যুগ বা জাতিতে বা পূর্ব পুরুষদের থেকে প্রাপ্ত কতকগুলো প্রচলিত বিশ্বাস থেকে, যেগুলো ঐ ব্যক্তির বুদ্ধির সহযোগিতা বা সম্মতি ছাড়াই মনের মধ্যে বেড়ে ওঠে। এধরণের লোকের কাছে বিশ্বজগৎ হয়ে যায় সীমিত স্পষ্ট এবং নিশ্চিত। তাদের মনে সাধারণ কোন বিষয়ে মনে প্রশ্নের উদ্রেক হয় না এবং অপরিচিত কোন সম্ভাবনা তারা ঘৃণার চোখে দেখে। তাই এরা নতুন জ্ঞান, নতুন পারিপার্শ্বিকতা, নতুন উদ্ভাবনী - এগুলোর সাথে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারে না বা নিজেকে নবায়িত করতে পারে না। এর জন্যে এরা মানব-প্রগতি তথা বিশ্ব শান্তির পথে অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। অন্যদিকে দার্শনিকের দৃষ্টিতে দেখলে আমরা সচরাচর যেসব বিষয়ের সাথে পরিচিত এগুলোও নানা প্রশ্নের উদ্রেক করতে পারে যাদের সম্পূর্ণ উত্তর দেয়া সম্ভব হয় না। দর্শন এসবের সম্পূর্ণ উত্তর না দিলেও অনেকগুলো সম্ভাবনা নির্দেশ করতে পারে, যা আমাদের চিন্তার পরিধি বাড়ায় এবং একে প্রচলিত রীতিনীতির স্বেচ্ছাচারিতা থেকে মুক্ত করে। দর্শন কোন বিষয় সম্পর্কে নিশ্চয়তা কমিয়ে দিলেও ঐ বিষয়গুলো কি হতে পারে সে সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানের পরিধি বাড়ায়, ঐ বিষয়গুলো সংক্রান্ত উগ্রতা বা গোঁড়ামী দূর করে এবং এসব পরিচিত বিষয়ের অপরিচিত নানা দিক উদঘাটন করে। দর্শন এভাবে সবসময়ই আমাদের কৌতুলহলকে সজীব রাখে।
মানব জীবনের উদ্দেশ্যসমূহ এবং জীবনের সাথে জড়িত অন্তর্নিহিত মূল্যে মূল্যবান উপাদানগুলো সম্পর্কে দর্শন বিচার-বিশ্লেষণমূল জ্ঞান দান করে। যদিও বস্তুগতক্ষেত্রে আমাদের স্বাধীনতা কার্যক-কারণ নিয়মে সীমাবদ্ধ কিন্তু মূল্যের ক্ষেত্রে আমাদের স্বাধীনতার কোন সীমারেখা নেই। সময়ের সাথে সাথে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির যতই পরিবর্তন হোপক না কেন, প্রেম, সৌন্দর্য, জ্ঞান, আনন্দ প্রর্বতি বিষয়গুলোর উজ্জ্বল্যের তাতে কোন হানি হয় না। দর্শন আমাদের এ বিষয়গুলোর মূল্যানুভবে সাহায্য করে এব মানুষের সম্মিলিত কর্মপ্রচেষ্টাকে একটি ধারাবাহিক প্রগতির লক্ষ্যে পরিচালিত করে।
যুক্তিবিদ্যা, নীতিবিদ্যা, মূল্যবিদ্যা, জ্ঞানবিদ্যা প্রভৃতি দর্শনের বিভিন্ন শাখায় জগৎ ও জীবনের সাথে সম্পৃক্ত বিভিন্ন মৌল সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়। যদিও এসব শাখায় আলোচিত কোন কোন বিষয় অনেক সময় বাস্তব জীবনের সমস্যাবলীর সঙ্গে সম্পর্কহীন মনে হয়, কিন্তু পরোক্ষভাবে এরা জীবনের সাথে সম্পৃক্ত। বিশেষ করে বিমূর্ত বিষয়াবলী দেখে এরূপ মনে হয়। প্রকৃতপক্ষে জীবনের মূল্য উপলব্ধি ও অবধারন করাই এসব বিষয়ের মূল লক্ষ্য। তাই কানিহামের মতে " দর্শনের জন্ম সোজাসুজি জীবন ও জীবনের প্রয়োজনে।"
দর্শন পাঠের সাথে বিভিন্ন দার্শনিকদের জীবন, কর্মপ্রবাহ, মতবাদ প্রভৃতি বিষয় অর্থাৎ ইতিহাসের আলোকে দার্শনিকদের সম্বন্ধে আলোচনা একান্তভাবে জড়িত। যদিও বিভিন্ন দার্শনিক বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে একে অপরের সাথে ভিন্নমত পোষণ করেছেন, কিন্তু মূল দার্শনিক উপলব্ধি সবার প্রায় একই। খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ অব্দে সক্রেটিস বলেছিলেন, "অপরীক্ষিত জীবন মহৎ জীবন নয়।" দর্শনের মূখ্য কাজ তাই মানবজীবনকে চালিত করে যেসব বিশ্বাস তাদের সমালোচনামূলক পরীক্ষা, এসব বিশ্বাসের পিছনের কারণ খুঁজে বের করা এবং যৌক্তিক এবং বৌদ্ধিক উপাদানের মাধ্যমে এসব বিশ্বাস এবং তাদের বিকল্পের মধ্যে তুলনামূলক গ্রহণীয় ধারণা প্রদান করা। এ থেকে বলা যায়, জীবনের বিভিন্ন দিক তলিয়ে দেখা এবং জীবনকে পরীক্ষা ও সমীক্ষা করার মানসিকতাই দর্শন। আর দার্শনিক হলেন তারা যারা জগতের স্বরূপ ও বৈশিষ্ট্য এবং জীবনের বিবিধ সম্ভাবনাকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে তুলনা ও পরীক্ষা করে দেখেন, যারা নির্বিচারে কোন কিছুই মেনে নেন না। জীবনকে পরীক্ষা ও সমীক্ষা করার প্রধান অর্থই হলো যে কোন কাজে হাত দেয়ার আগে এর সাথে জড়িত সকল বিষয় সম্পর্কে প্রাপ্তিযোগ্য সকল তথ্য সংগ্রহ, এর শুভ-অশুভ দিক, ঔচিত্য-অনৌচিত্য নিয়ে চিন্তা করা, এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য উপলব্ধির চেষ্টা করা। দার্শনিক জ্ঞানের পূর্বশর্তই হলো অন্তর্দৃষ্টি, দৃষ্টিভঙ্গির অভ্রান্ততা, বিচার-বিশ্লেষণের ভারসাম্য ও সামঞ্জস্য। যথার্থ দার্শনিকরা জ্ঞান ও সত্যের সন্ধানে কোন সংস্কার, সংস্কৃতি, সমাজ, ধর্ম প্রভৃতির রীতিনীতি দ্বারা পরিচালিত না হয়ে যুক্তিবিচার ও মুক্তবিবেক দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকেন।
দার্শনিকরা মানুষকে নিয়ে ভাবেন, মানবিক বোধে মানব-পরিস্থিতিকে পরিস্ফুট করার প্রয়াস পান। আর এ প্রচেষ্টার ফলেই সম্ভব হয় মানবীয় প্রগতি। দার্শনিক তার সমসাময়িক যুগ ও পরিবেশকে চিন্তায় ধারণ করে সে সময়ের বৈজ্ঞানিক, নৈতিক, অর্থনৈতিক বা ধর্মীয় অবস্থা মানব-প্রগতির লক্ষ্যে চিত্রিত করেন। এ কারণেই শ্রেষ্ঠ দার্শনিকরা গণচেতনার ধারক ও সংস্কারক হিসেবে স্বীকৃতি পান। আর দার্শনিকরা যে জ্ঞান ও সত্যের সন্ধানে নিজেকে নিয়োজিত করেন, তাই পরবর্তীতে বিজ্ঞান, সাহিত্য শিল্পকলা প্রভৃতি যা কিছু আমাদের সভ্যজগতের জন্য অপরিহার্য, তাদেরকে প্রভাবিত করে এবং তাতে সংরক্ষিত হয়। এজন্য বলা যায়, অতীতের শ্রেষ্ঠ দার্শনিকদের চিন্তাভাবনার সাথে পরিচিত হওয়া শুধু আকর্ষণীয় নয়, শিক্ষণীয়ও বটে।
দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের মতে দর্শনের সর্বশ্রেষ্ঠ মূল্য সম্ভবত এটা যে, দর্শন অত্যন্ত মহৎ বিষয় নিয়ে চিন্তা করে এবং এই চিন্তার ফলে দর্শন মানুষকে ব্যক্তিগত সংকীর্ণ উচ্চাভিলাষ থেকে মুক্তি দেয়। প্রবৃত্তিচালিত মানুষের জীবন তার ব্যক্তিগত স্বার্থের বন্ধনেই আবদ্ধ, যেখানে রয়েছে অস্থিরতা ও সংকীর্ণতা। এই ধরণের জীবনে কেবল কামনার তাড়না এবং ইচ্ছাশক্তির অসহায়তার মধ্যে একটা বিরামহীন দ্বন্দ্ব কাজ করে। জীবনকে মহৎ ও মুক্ত করতে হলে এই বন্দীশালা ও দ্বন্দ্ব থেকে উপরে উঠতে হবে। যার জন্য দরকার দর্শন চর্চা। দার্শনিক চিন্তা তার প্রশস্ততম নিরীক্ষায় বিশ্বকে শুভ-অশুভ, শত্রু-মিত্র, পক্ষে-বিপক্ষে এসব পরস্পর-বিরোধী শিবিরে বিভক্ত না করে সবকিছুই নিরপেক্ষতার সঙ্গে বিচার করে।
যে ব্যি্তি দার্শনিক-চিন্তার স্বাধীনতায় ও নিরপেক্ষতায় অভ্যস্ত, সে তার কার্যক্ষেত্রে কিংবা আবেগের জগতেও স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা অক্ষুন্ন রাখার চেষ্টা করেন। সুস্থ চিন্তাকে তারা সার্বক্ষণিক পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন বলে জীবনের নানা ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যেও তাঁরা সত্য, শুভ ও সুন্দরের চর্চা অব্যাহত রাখতে পারেন। নানা প্রতিকূল শক্তির বিরুদ্ধেও সমুন্নত রাখতে পারেন তাদের প্রজ্ঞা ও বিবেককে। আবার দার্শনিক চিন্তা শুধু চিন্তার বিষয়বস্তুকেই প্রশস্ত করে না বরং ব্যক্তির কার্য ও প্রেমের বিষয়বস্তুর পরিমণ্ডলও বাড়ায়। তাই দার্শনিক চিন্তায় অভ্যস্ত ব্যক্তিগণ নিজেদের সংকীর্ণ প্রাচীরঘেরা শহরের অধিবাসী হবার চেয়ে আন্তর্জাতিক মানুষ হিসেবেই নিজেকে দেখেন।
পরিশেষে বলা যায়, আমাদের আজকের সমাজে যে অবক্ষয়, বিশেষ করে নানা সংকীর্ণতা, দূর্নীতি, মৌলবাদের বিকাশ, ক্ষমতার অপব্যবহার- এগুলো যা আমাদের নাগরিক জীবনে শান্তির আশা ধ্বংস করছে, তার একটি প্রধান কারণ আমাদের সমাজে দর্শন চর্চায় অনীহা। রাষ্ট্রীয় শিক্ষা পরিকল্পনাতেও দর্শন এবং এর একটি প্রধান শাখা যুক্তিবিদ্যাকে অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখা হয়েছে বলেই মনে হয়। আন্তর্জাতিক ক্ষেতেও আজ অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নকে গুরুত্ব বেশি দিয়ে মূল্যবোধ ও নীতিবোধকে এড়িয়ে যাওয়ার উন্নয়নকে গুরুত্ব বেশি দিয়ে মূল্যবোধ ও নীতিবোধকে এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি বেশিরভাগ রাষ্ট্রেই গৃহীত হয়েছে। হয়তো এ জন্যেই বিশ্বে এত যুদ্ধ, ধ্বংস, অবিচার এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। দর্শন চর্চাই সঠিক দিক-নির্দেশনার মাধ্যমে এসব অশুভ, হতাশা, ঘৃণা, নিষ্ঠুরতা থেকে মানব সমাজকে মুক্ত করতে পারে। দার্শনিক-ই পারেন বিভিন্ন সমাজের ঐতিহাসিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক দিক বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যৎ সুখী, সুন্দর সমৃদ্ধিশালী পৃথিবী গড়ার জন্য সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে। তাই আজকের সমাজে দর্শন চর্চা একান্তভাবে প্রয়োজন।
বার্ট্রান্ড রাসেলের একটি উক্তি দিয়ে লেখাটি শেষ করছি। "সর্বোপরি বিশ্বের ব্যাপকতা সম্পর্কে দর্শন যে চিন্তা করে তার ফলে মনেরও প্রসার লাভ হয় এবং এর ফলে এ বিশ্বের সঙ্গে তা মিলনের উপযুক্ত হয়। মনের পক্ষে এই হলো সর্বোচ্চ লাভ।"



0 টি মন্তব্য:
Post a Comment